আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়ায় কলেজ শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ধর্ষণের অভিযোগ ছাত্রীর।

বদিউজ্জামান রাজাবাবু  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সিটি কলেজের শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন চন্দনের দুটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ৫৬ সেকেন্ড ও ১১ সেকেন্ডের ভিডিও দুটিতে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায় এক নারী ও অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষককে।

বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন চন্দনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন ভিডিওতে থাকা ওই ছাত্রী। এমনকি ভিডিওটি নিজেই ধারণ করেছেন বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন চন্দন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সিটি কলেজের প্রভাষক। পাশাপাশি তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্লাবের (টাউন ক্লাব) সদস্য। তার বাড়ি জেলা শহরের হুজরাপুর এলাকায়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে মোয়াজ্জেম হোসেন চন্দনের বাড়িতেই ঘটে ধর্ষণের এ ঘটনা। অভিযুক্ত শিক্ষক চন্দনের বড় ভাই নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোদাস্বের হোসেন সুমনের কাছে পড়তেন বলে জানান ওই ছাত্রী।

তিনি অভিযোগ করেন, আমরা চন্দনের বড় ভাই সুমনের কাছে প্রাইভেট পড়তাম। প্রথম ঘটনার দিন আমাদের প্রাইভেট ছিল না। সুমন স্যারের কাছে একটা বই নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্যার আরেকটা ব্যাচ পড়াচ্ছিলেন। তাই স্যারের কথামতো পাশের একটি রুমে বসে অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় চন্দন এসে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। গেট লাগিয়ে দেয়ায় চেষ্টা করলেও বের হতে পারিনি৷

তিনি আরও বলেন, প্রথমদিন এমন ঘটনা ঘটার পর আবার আমাকে ফোন দিয়ে ডাকে। এ সময় আমি স্বেচ্ছায় তার বাসায় গিয়ে পরিকল্পিতভাবে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করি। শুধু আমার সাথেই মোয়াজ্জেম হোসেন চন্দন এমনটা করেছে তা নয়; আমার এক বান্ধবীসহ অনেক ছাত্রীকেই পড়ানোর সময় সুযোগ পেলেই শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতেন। এমনকি বাজে প্রস্তাব দিতেন।

তার চরিত্রে সমস্যা আছে জানিয়ে কলেজ শিক্ষার্থী আরও বলেন, মেয়েদের সঙ্গে কথা বললেই নানারকম কুপ্রস্তাব দেন চন্দন। বিষয়টি তার ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বললেই জানতে পারবেন।

ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি তিনি বান্ধবীদের কাছে জানতে পেরেছেন। তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওই কলেজছাত্রী।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভিডিও দুটি ভাইরাল হলে এ নিয়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান অনেকেই।

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৪ মার্চ) নবাবগঞ্জ সিটি কলেজের গভর্নিং বডির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ মো. তরিকুল ইসলাম সিদ্দিকী মোবাইলে বলেন, গতরাতে সোস্যাল মিডিয়ায় আমরাও ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত। এ নিয়ে কী করা যায়, তা ঠিক করতে গভর্নিং বডির সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন চন্দন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার ভাই নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোদাস্বের হোসেন সুমন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। এরপর আর এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতিউর রহমান বলেন, আপত্তিকর ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে৷ এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ