আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

রাজশাহীতে সরকারী খাল দখলে সন্ত্রাসীদের হামলা

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহী মহানগরীর লিলি হল মোড়ের একটি সরকারি খাল জবর দখল নিতে একজন মাছ চাষীর বাসায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলাসহ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

সোবহান ও তার শ্যালক সাদ্দামকে তাদের চাষ করা পুকুর থেকে সরাতে সাদ্দাম ও সোবহানের বাসায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় স্থানীয় আ,লীগের একদল সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলা করার পরেও তারা পুকুর ছাড়তে রাজি না হওয়ায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় বিকেল ৪:৩০ মিনিটে আবারও দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া, লোহার রড, লোহার পাইপ ও পিস্তল নিয়ে আবু সাইদ, তাহাজুল পিতা- মজিদ, মন্টু পিতা: ভাদু ঘোষ, বাবু পিতা:আজিজুল, মেরাজ পিতা: বাবু, শরিফ পিতা: বাবু, মিলন পিতা: হাবিব, সম্রাট পিতা: শুকুর ও রফিকুল পিতা: খোকা হামলা চালিয়ে ৫ জনকে গুরুতর আহত করে এবং বাসায় প্রবেশ করে জমি বিক্রয়ের গচ্ছিত ১৬ লক্ষ্য ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণ সহ বিভিন্ন জিনিস লুটপাট করে এবং বাসা ভাঙচুর করে।

স্থানীয়রা জানান, দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা কারীরা বিগত সময়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক বেন্টুর পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী ছিল। যাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন সময় লোকজনের উপরে হামলা ও মীমাংসার নামে জায়গা জমি দখল ও টাকা হাতিয়ে নিত। এই সন্ত্রাসী বাহিনী গত ৫ আগষ্টের পর আত্মগোপনে থাকলেও আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কিছু বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায়।

এই হামলায় আহত শুভহান (৩৬), পিতা: সোনা মিয়া, সাং:আলিগঞ্জ আদর্শ গ্রাম থানা রাজপাড়া রাজশাহী এর মাথায় ২৪ টা সেলাই, আসলাম (৬২), পিতা: মৃত মুসলিম শেখ , সাং : আলিগঞ্জ আদর্শ গ্রাম থানা রাজপাড়া রাজশাহী এর মাথায় ১০ সেলাই, রবি (২৪), পিতা: আসলাম, সাং : আলিগঞ্জ আদর্শ গ্রাম থানা রাজপাড়া রাজশাহী এর মাথায় ৮ সেলাই, আনিকা বেগম (২৮), সাং : আলিগঞ্জ আদর্শ গ্রাম থানা রাজপাড়া, রাজশাহী। নাকে ৩ টা সেলাই ও রাশিদা বেগম (৫০), স্বামী: আসলাম, সাদ্দাম (৩৬), পিতা: আসলাম, উভয় সাং : আলিগঞ্জ আদর্শ গ্রাম থানা রাজপাড়া রাজশাহী শরীরে বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তারা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এলাকাবাসীরা আরও বলেন, এখানে একটা সরকারি পুকুর রয়েছে যা সরকার ও ব্যক্তি মালিকানা নিয়ে ঝামেলা হয়ে আসছে। সেই পুকুর বিগত তিন বছর থেকে রাসেল, সাদ্দাম দুই ভাই ও তাদের বোন জামাই সুবহান নিজের অর্থ দিয়ে মাছ কিনে চাষাবাদ করে আসছে। ৫ আগষ্টের পর থেকেই অনেকের নজর সেই পুকুরে রয়েছে দখল নেওয়ার জন্য। বিভিন্ন জন বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে দুই ভাই ও তাদের জামাইকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করতে থাকে। সকাল ১০ টায় আওয়ামীলীগের পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে গলায় হাসুয়া ধরে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ সহ বিভিন্ন ভয় ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে তারা যেনো মাছ তুলে নেয় নয়তো মাছের দাম নিয়ে পুকুর ছেড়ে দেই। সব রকম ভয়ভীতির পরেও বিবাদীর মনোভাব দুর্বল না হওয়ায় বিকেল ৪:৩০ মিনিটে আবারও হামলা করে বাসায় লুটপাট করে চলে যায়। যেই হামলায় ৫ জন গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে হামলাকারী মিজানকে একাধিক বার ফোন দেওয়ার পরও ফোন না ধরায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আরেক হামলাকারী বাবু সিসি ক্যামেরা ফুটেজ থাকার পরও তিনি অভিযোগ অস্বিকার করেছেন।

এ বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, হামলার ঘটনা জানা মাত্র ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। এখনও কেউ অভিযোগ দেইনাই তারা চিকিৎসা শেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৫৩) ও সন্দ্বীপ থানার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩৮)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র‌্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

কসাইকে ‘খুনের পর টুকরো লাশ ছড়িয়ে দেয়া প্রেমিকা’ গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে এক কসাইকে হত্যার পর তার লাশ টুকরো করে তার প্রেমিকা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদনগর ও লোহারপুল এলাকার খাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে খুন হওয়া আনিসের লাশের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত মো. আনিছের (৩৮) সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সুফিয়া আক্তার (৩৯) নামে এক নারীর পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আনিছকে অভিযুক্ত নারী বাসায় ডেকে নিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় পাথরের শীল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারী সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহত আনিছ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সুফিয়া আক্তার নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন পাঠানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর চারতলার মোড় এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের দুটি কাটা হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে উদ্ধারকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্রে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, আনিছ গত ২০ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষে পুলিশ অভিযান শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাত আনুমানিক চারটার দিকে শহীদনগর এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, নিহত আনিছের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।

পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি আনিছকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি বিকেলে আনিছকে পাঠানপাড়ার বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।

পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ টুকরা টুকরা করে কালো পলিথিনে ভরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে শহীদনগর ও শীতলকর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহের খণ্ডিত বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ