আজঃ মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

আমাদেরকে কোরআন-সুন্নাহর আলোয় আলোকিত হতে হবে : চসিক মেয়র।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে। পরিশ্রম, সততা, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মাধ্যমে একজন প্রকৃত আদর্শ মানুষে পরিণত হওয়াই ইসলামি শিক্ষার মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অভিভাবক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আশরাফুল আলম।

মেয়র বলেন, কোরআনুল কারিম মানবতার চিরন্তন দিকনির্দেশনা। যুগে যুগে অনেক ধর্মগ্রন্থের পাঠ এসেছে, যেগুলোতে সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আল কোরআনের একটি অক্ষরও পরিবর্তন হয়নি এবং কেয়ামত পর্যন্ত পরিবর্তন হবে না। তাই আমাদের শুধু কোরআন পড়লেই হবে না, বরং প্রতিটি আয়াতের মর্মবাণী বুঝে জীবনে প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নামাজ ইসলামের স্তম্ভ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কল্যাণ বয়ে আনে। করোনাকালীন সময়ে আমরা যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস ও অক্সিজেন সংকটে বিপর্যস্ত হয়েছিলাম, তেমনি নামাজ ও কোরআনের শিক্ষার অভাব জীবনে সংকট তৈরি করে।

নবী করীম (সা.)-এর জীবনাদর্শের উদাহরণ টেনে মেয়র বলেন, তিনি ছিলেন ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। পাথর নিক্ষেপে আহত হয়েও তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন শত্রুদের হেদায়েতের জন্য। এমনকি যারা পথে কাঁটা বিছিয়ে তাঁকে কষ্ট দিত, অসুস্থ হলে তিনি তাদের সেবায় ছুটে গেছেন। এর মধ্য দিয়েই প্রতিভাত হয় মহানবীর করুণা, ক্ষমাশীলতা ও মানবিকতা।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকের প্রজন্মকে শুধু সাধারণ শিক্ষায় নয়, বরং কোরআন-সুন্নাহর আলোয় নৈতিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে। হযরত মুসা (আ.), ইব্রাহিম (আ.), ঈসা (আ.) প্রমুখ নবী-রাসূলদের জীবনী এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা অধ্যয়ন করলে প্রকৃত আদর্শ ও কর্মঠ মানুষ হওয়া সম্ভব। পরিশ্রম ও মেহনত ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন ,আবদুর রহিম, মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত বাড়ৈ, নাছির উদ্দিন চৌধুরী নাছিম মোঃ জাবেদুল হক, শফিউল বশর সাজ্ ুসাদ্দেমুল হক প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সুস্থ জীবনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ অপরিহার্য : চুয়েট ভিসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)এর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেছেন, মানুষের সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য নিরাপদ ও নির্মল পরিবেশ অপরিহার্য। আর এই নির্মল পরিবেশের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে কার্যকর ও টেকসই স্যানিটেশন ব্যবস্থা। স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন শুধু জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নই নিশ্চিত করে না, বরং দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, আমাদের নগরায়ণের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। নগরের খাল, ড্রেন, বক্স কালভার্ট এবং স্যুয়ারেজ লাইন অবৈধ দখল ও কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নগরবাসীর দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা।

সোমবার দুপুরে চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের সেমিনার কক্ষে ইনস্টিটিউট অব রিভার, হারভার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স কতৃর্ক আয়োজিত “বিল্ডিং রেজিলিয়েন্ট সেনিটেশন সিস্টেমঃ এসটিপি, এফএসএম অ্যান্ড সাসটেইনেবল ড্রেইনেজ ইন প্র্যাকটিস” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বুয়েট এর পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং গ্লোবাল সেনিটেশন গ্র্যাজুয়েট স্কুল (জিএসজিএস) এর রিজিওনাল ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদ এবং চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ এর বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ রিয়াজ আকতার মল্লিক। এতে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট অব রিভার, হারভার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আসিফুল হক।

সেমিনারে রিসোর্স পার্সন ছিলেন বুয়েট এর পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং জিএসজিএস এর রিজিওনাল ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব রিভার, হারভার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আসিফুল হক, পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন আইআরএইসইএস সহকারী অধ্যাপক ড. মো: আরিফ হোসেন ।

বোয়ালখালীতে পহেলা বৈশাখ ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের বর্ণিল আয়োজন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ কে স্বাগত জানাতে উন্মুখ পুরো দেশ। সারাদেশের মতো বাঙালির এ প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে।

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা আয়োজন নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আজ চৈত্র সংক্রান্তি। আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের আয়োজন নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রতি বছরের ন্যায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সকাল ৯টায় বৈশাখী শোভাযাত্রা, রশি টানা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া সম্মিলিত বর্ষবরণ উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে উপজেলার দাশের দীঘির পাড়ে সকাল ৯টা থেকে সংগীতানুষ্ঠান, বলিখেলা, কাওয়ালী গানের আসর, গীতা আলেখ্য ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল, মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এখন উৎসবমুখর হয়ে উঠবে।

বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি, আনন্দ ও আত্মপরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক। পুরোনোকে পেছনে ফেলে নতুনকে বরণ করার এ দিনটি যুগে যুগে বাঙালির জীবনে নিয়ে এসেছে নতুন আশার বার্তা। প্রকৃতির রঙে রঙিন এই সময়টাতে শহর থেকে গ্রাম, দেশ থেকে প্রবাস সবখানেই এক অনন্য উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়। লাল-সাদা পোশাক, পান্তা-ইলিশ, মঙ্গল শোভাযাত্রাসব মিলিয়ে বৈশাখ হয়ে ওঠবে এক মহামিলনমেলায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, “বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ বাংলা নববর্ষ বরণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। এখন অপেক্ষা প্রাণের এ উৎসবে মেতে ওঠার।”

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ