আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে চিকুনগুনিয়ার আক্রান্ত ৪৩ শতাংশ রোগীর শরীরে ব্যথা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় নাজেহাল চট্টগ্রামের মানুষ। গত বছরের তুলনায় এবার এ রোগের প্রকোপ কয়েক গুণ বেশি। প্রতি মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মৃত্যুও হয়েছে ঘটি কয়েক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভাইরাল জ্বর। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়া এই অসুখে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এ অবস্থায় মশক নিধন ছাড়া সমাধান দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে মূল কাজ হলো মশক নিধন। পাশাপাশি অসুস্থদের সময়মতো চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে। কারণ মৃতদের বেশিরভাগই শেষ সময়ে হাসপাতালে গেছেন, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে-আক্রান্তদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। বেশিরভাগ একাধিক হাড়ের জয়েন্টে তীব্র ব্যথায় ভুগেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি, আর গড় বয়স ৪৫ বছর। ফলে বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও নারী জনগোষ্ঠী এ প্রাদুর্ভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, গবেষণাটি চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস ধরে চালানো হয়। যেখানে মোট ১২০ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় উঠে আসে, আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ শতাংশেরও বেশি রোগীর জ্বর ছিল এবং ৭৩ শতাংশ রোগী ভুগেছেন একাধিক হাড়ের জয়েন্টে তীব্র ব্যথায়। যার কারণে হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৪৩ শতাংশ রোগীর শরীরে ব্যথা, ৩৫ শতাংশের গোড়ালিতে ফোলা ও ব্যথা এবং ৩৪ শতাংশের ফুসকুড়ি দেখা গেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষের সংখ্যা ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গড় বয়স পাওয়া গেছে ৪৫ দশমিক ৩৪ বছর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ও জেন্ডারভিত্তিক এই প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের গবেষক ডা. রজত শংকর রায় বিশ্বাস, ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ডা. সঞ্জয় কান্তি বিশ্বাস, ডা. এম জালাল উদ্দিন এবং ডা. তাসলিমা কে লিমা এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মেড আর্কাইভ’ প্ল্যাটফর্মে প্রি-প্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। আর্টিকেলটি একটি স্বীকৃত পিয়ার রিভিউড জার্নালে জমা দেওয়া হয়েছে।

শুধু সাধারণ উপসর্গ নয়, কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক লক্ষণও। ত্বকে অচেনা র‌্যাশ, নাকের চারপাশে কালো দাগ, আলসার এবং সকালে হাত-পা ও শরীরের জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যাওয়া ও ব্যথা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। চিকিৎসকরা বলেন, এগুলো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

এদিকে রক্ত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ রোগীর হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক থাকলেও সাদা রক্তকণিকার সংখ্যা কমে গেছে (লিউকোপেনিয়া) ১৮ শতাংশ রোগীর মধ্যে। নির্দিষ্ট ধরনের সাদা রক্তকণিকা কমে গেছে (নিউট্রোপেনিয়া) ১১ শতাংশ রোগীর মধ্যে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে (লিম্ফোপেনিয়া) ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে।

অন্যদিকে, ৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু- দুই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আর সহ-রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রোগীদের জন্য চিকুনগুনিয়া আরও জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষক দল জানান, এ প্রাদুর্ভাবে রোগীরা শুধু স্বল্পমেয়াদি কষ্টে ভুগছেন না, দীর্ঘমেয়াদে জোড়া ব্যথা ও পোস্ট-চিকুনগুনিয়া আথ্রাইটিসের মতো জটিলতা বাড়তে পারে। তাই দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন জরুরি।

প্রধান গবেষক ডা. রজত শংকর রায় বিশ্বাস আরো বলেন, চিকুনগুনিয়া এবার অনেক বৈচিত্র্যময় উপসর্গ নিয়ে এসেছে। আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে- সাধারণ জ্বর বা ব্যথার বাইরে ত্বক ও রক্তের অস্বাভাবিকতা বেশি নজরে এসেছে। এ জন্য চিকিৎসকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এডিসের প্রজনন দুর্গ খুঁজতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। এছাড়া গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের মূলে ছিল এডিস মশার অস্বাভাবিক প্রজনন।

বিগত বছরের সেই বিষাদ অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবার ডেঙ্গুর মূল মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই মাঠে নেমেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মশার বংশবিস্তার চিহ্নিত করতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে একযোগে শুরু হয়েছে বিশেষ কীটতাত্ত্বিক ও ডেঙ্গু জরিপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ দিনব্যাপী এই বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে জরিপকারী দলের সদস্যরা কোতোয়ালীর পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গি বাজার, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, নন্দনকাননসহ আশপাশের এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া বায়েজিদ এলাকার শেরশাহ ও আশপাশের এলাকাতেও মশার লার্ভা শনাক্তে ল্যাব-নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সাথে কাজির দেউড়ি, ব্যাটারি গলি ও বাগমনিরাম এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনেও পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই বিশেষ টিম।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ জুন থেকে মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কীটতাত্ত্বিকদের বিশেষ টিম এই জরিপ পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জরিপের মাধ্যমে নগরের কোন কোন ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব (ব্রেটো ইনডেক্স) বেশি, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমরা কাজ শুরু করেছ।

এদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর (২০২৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৮৬৪ জন। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি ছিল। যারা বাসায় থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

এদিকে, সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে পাওয়া গত ছয় মাসের পরিসংখ্যান (১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১৬ জন, সেখানে চলতি বছরের মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। আর চলতি জুনের প্রথম ১১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ জন। আক্রান্তের এই চিত্র গত বছরের তুলনায় বেশ স্বস্তিদায়ক মনে হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনই নিশ্চিন্ত হতে নিষেধ করছেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যায়। ২০২৩ সালের জুন মাসে যেখানে আক্রান্ত ছিল ২৮৩ জন, জুলাইয়ে তা এক লাফে পৌঁছায় ২ হাজার ৩১১ জনে। একইভাবে ২০২৫ সালের জুনে ১৭৬ জনের বিপরীতে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয় ৪৩০ জন। যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে।

চিকিৎসকদের মতে, জুলাই মাস থেকেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর আসল ‘পিক সিজন’ বা বিপজ্জনক সময় শুরু হয়। আর সেই হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গু বিস্তার ঠেকানোর জন্য নগরের এডিসের প্রজনন দুর্গগুলো খুঁজতে জুনের আগাম এই জরিপ।

এদিকে, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে জরিপ করে ‘এডিসের হটস্পট’ বা রেড জোনগুলো চিহ্নিত করে দিলেও, মশক নিধনের মূল দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)। স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া এই ‘বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন’ বা ম্যাপ ব্যবহার করে চসিক এবার কতটা সফলভাবে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে চলতি বছরের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ইতিমধ্যে মশক নিধনের জন্য বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে। এর বাইরে স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপের ফলাফল হাতে আসলে, তাদের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যক্রম চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর যে অস্বাভাবিক প্রজননের কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল, এবার মৌসুমের শুরুতেই মাঠপর্যায়ে জরিপ ও লার্ভা চিহ্নিতকরণের এই উদ্যোগ এবং চসিকের ক্রাশ প্রোগ্রাম শতভাগ কার্যকর হলে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকানো সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এমআরআই মেশিন উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১ম বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ১৮০ চ্যানেলের থ্রি তেসলা এমআরআই মেশিন নিয়ে এসেছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড চট্টগ্রাম শাখা। চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসাসেবায় বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমৃদ্ধ ম্যাগনেটম লুমিনা প্রো এডিশন থ্রি তেসলা এমআরআই মেশিনের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বুধবার (৩ মে) সকালে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে এমআরআই মেশিনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পপুলার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান সিআইপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমানে মানুষের জীবনধারণে পরিবর্তনের কারণে রোগ-ব্যাধিও বাড়ছে। সঠিক রোগ নির্ণয়ে বিজ্ঞানের আবিষ্কার আধুনিক যন্ত্রপাতি। রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসাও সহজ হয়। এক্ষেত্রে থ্রি তেসলা এমআরআই মেশিন রোগীদের উপকারে আসবে। চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসা সেবায় অত্যাধুনিক এমআরআই মেশিন সংযোজন করার জন্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান সিআইপি বলেন, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে আন্তর্জাতিকমানের সেবা গ্রহণ করার জন্য চট্টগ্রামের চিকিৎসকসমাজ ও চট্টগ্রামবাসীর প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি নতুন এই এমআরআই মেশিন সম্পর্কে বলেন, রোগীরা এখন ৩/৪ মিনিটের মধ্যে ব্রেইন এবং স্পাইনের সকল এমআরআই করতে পারবেন। এছাড়াও শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গের এমআরআই আগের চেয়ে অর্ধেক সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারবেন। চট্টগ্রামবাসীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে আসা আরো নতুন ও অত্যাধুনিক মেশিন চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধিতে সংযোজন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে পপুলার গ্রুপে প্রায় ২৬ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড চট্টগ্রাম শাখার সিনিয়র ব্যবস্থাপক ওয়ালী আশরাফ খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক নিউরোসার্জন ডা. মঈনউদ্দিন মো. ইলিয়াছ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড শান্তিনগর শাখার ডিজিএম মো. শাহী মাহমুদ, চট্টগ্রাম শাখার সহকারি ব্যবস্থাপক সুজন কান্তি দে, সহকারি ব্যবস্থাপক উজ্জ্বল বড়ুয়া, সহকারি ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) মো. বেলাল হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পপুলারের সর্বস্তরের কনসালটেন্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ