আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে চিকুনগুনিয়ার আক্রান্ত ৪৩ শতাংশ রোগীর শরীরে ব্যথা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় নাজেহাল চট্টগ্রামের মানুষ। গত বছরের তুলনায় এবার এ রোগের প্রকোপ কয়েক গুণ বেশি। প্রতি মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মৃত্যুও হয়েছে ঘটি কয়েক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভাইরাল জ্বর। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়া এই অসুখে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এ অবস্থায় মশক নিধন ছাড়া সমাধান দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে মূল কাজ হলো মশক নিধন। পাশাপাশি অসুস্থদের সময়মতো চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে। কারণ মৃতদের বেশিরভাগই শেষ সময়ে হাসপাতালে গেছেন, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে-আক্রান্তদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। বেশিরভাগ একাধিক হাড়ের জয়েন্টে তীব্র ব্যথায় ভুগেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি, আর গড় বয়স ৪৫ বছর। ফলে বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও নারী জনগোষ্ঠী এ প্রাদুর্ভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, গবেষণাটি চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস ধরে চালানো হয়। যেখানে মোট ১২০ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় উঠে আসে, আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ শতাংশেরও বেশি রোগীর জ্বর ছিল এবং ৭৩ শতাংশ রোগী ভুগেছেন একাধিক হাড়ের জয়েন্টে তীব্র ব্যথায়। যার কারণে হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৪৩ শতাংশ রোগীর শরীরে ব্যথা, ৩৫ শতাংশের গোড়ালিতে ফোলা ও ব্যথা এবং ৩৪ শতাংশের ফুসকুড়ি দেখা গেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষের সংখ্যা ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গড় বয়স পাওয়া গেছে ৪৫ দশমিক ৩৪ বছর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ও জেন্ডারভিত্তিক এই প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের গবেষক ডা. রজত শংকর রায় বিশ্বাস, ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ডা. সঞ্জয় কান্তি বিশ্বাস, ডা. এম জালাল উদ্দিন এবং ডা. তাসলিমা কে লিমা এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মেড আর্কাইভ’ প্ল্যাটফর্মে প্রি-প্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। আর্টিকেলটি একটি স্বীকৃত পিয়ার রিভিউড জার্নালে জমা দেওয়া হয়েছে।

শুধু সাধারণ উপসর্গ নয়, কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক লক্ষণও। ত্বকে অচেনা র‌্যাশ, নাকের চারপাশে কালো দাগ, আলসার এবং সকালে হাত-পা ও শরীরের জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যাওয়া ও ব্যথা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। চিকিৎসকরা বলেন, এগুলো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

এদিকে রক্ত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ রোগীর হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক থাকলেও সাদা রক্তকণিকার সংখ্যা কমে গেছে (লিউকোপেনিয়া) ১৮ শতাংশ রোগীর মধ্যে। নির্দিষ্ট ধরনের সাদা রক্তকণিকা কমে গেছে (নিউট্রোপেনিয়া) ১১ শতাংশ রোগীর মধ্যে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে (লিম্ফোপেনিয়া) ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে।

অন্যদিকে, ৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু- দুই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আর সহ-রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রোগীদের জন্য চিকুনগুনিয়া আরও জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষক দল জানান, এ প্রাদুর্ভাবে রোগীরা শুধু স্বল্পমেয়াদি কষ্টে ভুগছেন না, দীর্ঘমেয়াদে জোড়া ব্যথা ও পোস্ট-চিকুনগুনিয়া আথ্রাইটিসের মতো জটিলতা বাড়তে পারে। তাই দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন জরুরি।

প্রধান গবেষক ডা. রজত শংকর রায় বিশ্বাস আরো বলেন, চিকুনগুনিয়া এবার অনেক বৈচিত্র্যময় উপসর্গ নিয়ে এসেছে। আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে- সাধারণ জ্বর বা ব্যথার বাইরে ত্বক ও রক্তের অস্বাভাবিকতা বেশি নজরে এসেছে। এ জন্য চিকিৎসকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারে না : সাঈদ আল নোমান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেছেন, রাজনীতি শুধু নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জন্য কী উপকারী, কোন উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে-তা ভেবে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করাই সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেণ, নিজের জীবন, পরিবার, চিন্তা-ভাবনা এবং সম্পদের বড় একটি অংশ ব্যয় করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। এটিকে নিজের সেবামূলক জীবনের প্রথম ও প্রধান কাজ হিসেবে দেখি। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের পিতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের উন্নয়নমূলক অবদানের কথা তুলে ধরে সাঈদ আল নোমান বলেন, তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু নির্মাণ, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে চার শহীদের স্মরণে কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়-যা একটি মুরগির খামার থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। এ ছাড়া স্টেডিয়াম উন্নয়ন, জমিয়াতুল ফালাহ ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণে কাজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সাঈদ আল নোমান বলেন, আমার পিতা শুধু গণমানুষের নেতা ছিলেন না, নীরবে উন্নয়নমূলক কাজ করে গেছেন।এখন সময় এসেছে, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় কার্যকর অবদান রাখার যোগ্যতা ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাঈদ আল নোমান বলেন, জেনারেল হাসপাতালের সক্ষমতা বর্তমানে খুবই সীমিত। এটিকে আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তরের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-১০ আসনের পাহাড়তলী, খুলশী ও হালিশহর এলাকায় সরকারি হাসপাতালের ঘাটতি প্রকট। খুলশীতে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকলেও হালিশহর ও পাহাড়তলীতে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই।তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ উন্নত বেসরকারি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারে না।

ফলে চিকিৎসাসেবাকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে। বড় পরিসরে সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এই খাতে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।তিনি হালিশহর ও পাহাড়তলী এলাকায় বৃহৎ পরিসরে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আহ্বান জানান।তাঁর মতে, এতে শুধু একটি এলাকা নয়, পুরো চট্টগ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।

চমেক হাসপাতালে পানির প্ল্যান্টে দৈনিক মেটাবে ১ লাখ মানুষের তৃষ্ণা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা চালু করেছে দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন। রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের জন্য রোববার এ ব্যাবস্থা চালু করেছে। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করার সুযোগ পাবেন।

জানা গেছে, প্ল্যান্টটি থেকে হাসপাতাল ভবনে মোট ৪০টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রোগী ও স্বজনদের পানির জন্য আর বাইরে যেতে না হয় বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হয়। এ বিশুদ্ধ খাবার পানি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। পুরো প্রজেক্টটি সচল রাখার জন্য একজন মানুষকে মাসিক বেতনভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্ল্যান্টটি প্রতিদিন ১ লাখ মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম। পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক সময় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও হাসপাতালের আশেপাশের দোকানগুলোর বিরুদ্ধে পানির বোতল বিক্রিতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বহুদিন ধরে।

রোববার হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচতলায় পানির প্ল্যান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. শামসুল আলম। ফিতা কেটে ও পানি পান করে প্ল্যান্টটি উদ্বোধন করেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, মানুষকে পানি পান করানো অনেক সওয়াবের কাজ। চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন। আমরা সবাই আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজটি করেছি। ভবিষ্যতেও এমন কাজে আমরা ফাউন্ডেশনের পাশে আছি।হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগে বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে কিনে আনতে হতো। এখন প্রতিটি ফ্লোরেই সহজে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাওয়া যাবে, যা অনেক স্বস্তির।

প্রজেক্টের মূল উদ্যোক্তা ও দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদ বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বিশুদ্ধ পানি অন্যতম। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরা অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সেই জায়গা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
ভবিষ্যতেও দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে, মানবতার সেবায় এবং সমাজের প্রয়োজনীয় এমন আরও কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে যাবে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক জিনিসই অপ্রতুল। প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। তাদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এতদিন চ্যালেঞ্জের ছিল। দুর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন মানবিক উদ্যোগ নিয়ে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনরা উপকৃত হবেন এবং হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান আরও উন্নত হবে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ