আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে চিকুনগুনিয়ার আক্রান্ত ৪৩ শতাংশ রোগীর শরীরে ব্যথা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় নাজেহাল চট্টগ্রামের মানুষ। গত বছরের তুলনায় এবার এ রোগের প্রকোপ কয়েক গুণ বেশি। প্রতি মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মৃত্যুও হয়েছে ঘটি কয়েক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভাইরাল জ্বর। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়া এই অসুখে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এ অবস্থায় মশক নিধন ছাড়া সমাধান দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে মূল কাজ হলো মশক নিধন। পাশাপাশি অসুস্থদের সময়মতো চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে। কারণ মৃতদের বেশিরভাগই শেষ সময়ে হাসপাতালে গেছেন, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে-আক্রান্তদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। বেশিরভাগ একাধিক হাড়ের জয়েন্টে তীব্র ব্যথায় ভুগেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি, আর গড় বয়স ৪৫ বছর। ফলে বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও নারী জনগোষ্ঠী এ প্রাদুর্ভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, গবেষণাটি চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস ধরে চালানো হয়। যেখানে মোট ১২০ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় উঠে আসে, আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ শতাংশেরও বেশি রোগীর জ্বর ছিল এবং ৭৩ শতাংশ রোগী ভুগেছেন একাধিক হাড়ের জয়েন্টে তীব্র ব্যথায়। যার কারণে হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৪৩ শতাংশ রোগীর শরীরে ব্যথা, ৩৫ শতাংশের গোড়ালিতে ফোলা ও ব্যথা এবং ৩৪ শতাংশের ফুসকুড়ি দেখা গেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষের সংখ্যা ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গড় বয়স পাওয়া গেছে ৪৫ দশমিক ৩৪ বছর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ও জেন্ডারভিত্তিক এই প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের গবেষক ডা. রজত শংকর রায় বিশ্বাস, ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ডা. সঞ্জয় কান্তি বিশ্বাস, ডা. এম জালাল উদ্দিন এবং ডা. তাসলিমা কে লিমা এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মেড আর্কাইভ’ প্ল্যাটফর্মে প্রি-প্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। আর্টিকেলটি একটি স্বীকৃত পিয়ার রিভিউড জার্নালে জমা দেওয়া হয়েছে।

শুধু সাধারণ উপসর্গ নয়, কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক লক্ষণও। ত্বকে অচেনা র‌্যাশ, নাকের চারপাশে কালো দাগ, আলসার এবং সকালে হাত-পা ও শরীরের জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যাওয়া ও ব্যথা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। চিকিৎসকরা বলেন, এগুলো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

এদিকে রক্ত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ রোগীর হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক থাকলেও সাদা রক্তকণিকার সংখ্যা কমে গেছে (লিউকোপেনিয়া) ১৮ শতাংশ রোগীর মধ্যে। নির্দিষ্ট ধরনের সাদা রক্তকণিকা কমে গেছে (নিউট্রোপেনিয়া) ১১ শতাংশ রোগীর মধ্যে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে (লিম্ফোপেনিয়া) ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে।

অন্যদিকে, ৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু- দুই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আর সহ-রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রোগীদের জন্য চিকুনগুনিয়া আরও জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষক দল জানান, এ প্রাদুর্ভাবে রোগীরা শুধু স্বল্পমেয়াদি কষ্টে ভুগছেন না, দীর্ঘমেয়াদে জোড়া ব্যথা ও পোস্ট-চিকুনগুনিয়া আথ্রাইটিসের মতো জটিলতা বাড়তে পারে। তাই দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন জরুরি।

প্রধান গবেষক ডা. রজত শংকর রায় বিশ্বাস আরো বলেন, চিকুনগুনিয়া এবার অনেক বৈচিত্র্যময় উপসর্গ নিয়ে এসেছে। আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে- সাধারণ জ্বর বা ব্যথার বাইরে ত্বক ও রক্তের অস্বাভাবিকতা বেশি নজরে এসেছে। এ জন্য চিকিৎসকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

চোখের নীরব ঘাতক রোগ গ্লুুকোমা : সিইআইটিসিতে র‌্যালী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চোখের নীরব ঘাতক রোগ গ্লুুকোমা : সিইআইটিসিতে র‌্যাল

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: “একসাথে হাত ধরি, গ্লুকোমা মুক্ত বিশ্ব গড়ি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্যাপন করছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার পাহাড়তলীস্থ হাসপাতাল প্রাঙ্গনে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় র‌্যালীর উদ্বোধন করেন হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলম। তিনি বলেন, গ্লুুকোমা চোখের নীরব ঘাতক রোগ। বিরাট জনগোষ্ঠী গ্লুুকোমা রোগের নামই শোনেননি। গ্লুকোমা চোখের এমন একটি জটিল রোগ, ধীরে ধীরে দৃষ্টি কমে যায়। এমনকি এক সময় রোগী অন্ধত্ববরণ করতে বাধ্য হয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না নিলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই গ্লুকোমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন. আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালট্যান্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, প্রফেসর ডা. জেসমিন আহমেদ, কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর, এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মো. দস্তগীর হোসেন, ডা. কাজী তাহমিনা আক্তার. ডা. ফারজানা আক্তার চৌধুরী, ডা. এ এস এম মাহাবুবুল আলম, ডা. মেরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া,ডা. সুইটি বড়ুয়া, ডা. আমিনুর রহমান, ডা. শেলী বিশ্বাস, ডা. মো. ইফতেখার শামীম, ডা. মৌসুমী চৌধুরী প্রমূখ।

এর আগে সকাল ৮টায় ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ উপলক্ষে হাসপাতালের ইমরান সেমিনার হলে চোখের গ্লুকোমা নির্ণয় ও প্রতিরোধের বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলম, মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন. আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালট্যান্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মো. দস্তগীর হোসেন প্রমূখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব গ্লুকোমা বিভাগের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর। সেমিনারে বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের দ্বিতীয় কারণ মারাত্মক দৃষ্টিনাশী রোগ গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়। শতকরা ৫০ জন লোক জানেন না তার গ্লুকোমা রোগ আছে। বিশেষ করে উপসর্গ থাকে না বলে বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগীই বুঝতে পারেন না এর উপস্থিতি। তুষের আগুনের মতো ভেতরে ভেতরে নষ্ট করে দেয় স্নায়ুতন্ত্র। বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগী আসেন অন্ধত্বের কাছাকাছি সময়ে। তখন বেশি কিছু করার থাকে না। প্রাথমিক পর্যায়ে গ্লুকোমা শনাক্ত করা গেলে অন্ধত্বের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নীরবে চোখকে অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যায় বলে গ্লুকোমাকে নীরব ঘাতক বা ‘সাইলেন্ট কিলার’ উল্লেখ করে সেমিনারে আরো বলা হয়, গ্লুকোমা রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব; কিন্তু নিরাময় করা সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীর মতো সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে গ্লুকোমা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গ্লুুুকোমা রোগ সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া সাপ্তাহব্যাপী কর্মসূচীতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের গ্লুুকোমা রোগ সম্পর্কে অবগত করছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ