আজঃ বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ, ২০২৬

আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দায়িত্ব শতভাগ নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে রাষ্ট্রকে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার কথা জানালেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে মানুষ সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত নির্বাচন দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছে।তবে এবার সেই আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট-এমন অভিযোগে তারা বারবার আহত হয়েছেন। এবার মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটির আলোকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা হবে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব যেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।মাঠে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা একটি প্রিভিলেজড অবস্থানে রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন—কেউ জয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচন হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলার বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উত্তর ভূর্ষি পশ্চিম পাড়া পল্লী মঙ্গল সমিতির উদ্যোগে বাসন্তী পুজোর বোধন কচিকাঁচাদের অংশগ্রহণে উৎসবের শুভ সূচনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালী আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়নে উত্তর ভূর্ষি পশ্চিম পাড়া শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজো গত মঙ্গলবার বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে সূচনা হয়। পূজা উদযাপন পরিষদ এর সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক মিটু সেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ০৮ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলম শওকত, বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাজী ইসহাক চৌধুরী, বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব হামিদুল হক মন্নান চেয়ারম্যান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো আজগর ও আবুল বশরসহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।

মহাষষ্ঠীর পুণ্য তিথিতে উপজেলা জুড়ে শুরু হলো বাসন্তী পুজোর বর্ণাঢ্য আয়োজন। অকাল বোধনের পরিবর্তে বসন্তকালীন এই তিথিতেই দেবী দুর্গার আরাধনার সূচনায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ ও ব্যস্ততা।প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও উত্তর ভূর্ষি পশ্চিম পাড়া পল্লী মঙ্গল সমিতির উদ্যোগে সার্বজনীন বাসন্তী পূজা কমিটি নানা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসব উদযাপনে এগিয়ে এসেছে। দেবীর আগমনী বার্তা, যা মণ্ডপ প্রাঙ্গণে এক অনন্য আবহ সৃষ্টি করে।ঢাকের তালে তালে এবং শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সজ্জিত মণ্ডপ ও আলোকসজ্জায় প্রাঙ্গণ যেন পেয়েছে নতুন রূপ।

পূজা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলোতে থাকবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভক্তের জন্য মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন। এছাড়াও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে একাধিক উদ্যোগ।কমিটির সদস্য সাগর চক্রবতী জানান, পুজোর আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করতে এবং ছোটদের উৎসাহিত করতেই প্রতি বছর এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মহাষষ্ঠীর এই শুভ সূচনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় এখন উৎসবের আবহ, আনন্দ আর উদ্দীপনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

বোয়ালখালীতে গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় ১৯৭১ সালের ভয়াবহ Operation Searchlight-এর নির্মমতা স্মরণ করা হয় এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চের কালরাত্রি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। এদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়, যা ইতিহাসে Operation Searchlight নামে পরিচিত।

বক্তারা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানান এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভার শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ