আজঃ রবিবার ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দায়িত্ব শতভাগ নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে রাষ্ট্রকে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার কথা জানালেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে মানুষ সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত নির্বাচন দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছে।তবে এবার সেই আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট-এমন অভিযোগে তারা বারবার আহত হয়েছেন। এবার মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটির আলোকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা হবে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব যেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।মাঠে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা একটি প্রিভিলেজড অবস্থানে রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন—কেউ জয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচন হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলার বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন নিজস্ব প্রতিবেদক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা।রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা এ আবেদনপত্র জমা দেন।

গণমাধ্যম কর্মীদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় সাঈদ আল নোমানের।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুশিক্ষিত, বেকারত্ব ও জনদুর্ভোগমুক্ত চট্টগ্রাম-১০ আসন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেছেন, গত দুই বছর ধরে নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত সার্ভে করে জনসাধারণের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই আলোকে পরিকল্পিত উন্নয়নই হবে তার রাজনীতির মূল ভিত্তি।শনিবার রাতে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় চট্টগ্রামে কর্মরত মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সাঈদ আল নোমান বলেন, “আমার প্রথম উদ্যোগ হবে সংসদীয় এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে তরুণ ও যুব সমাজকে কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য একটি করে কর্মসংস্থান হাব তৈরি করা। একই সঙ্গে বিদ্যমান সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়ন এবং নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে সবার জন্য সুশিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।”

স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৃহত্তর হালিশহর-পাহাড়তলী ও খুলশী এলাকার মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং ওয়াসার পানি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।তিনি বলেন, “জনগণের সমর্থন পেলে জনদুর্ভোগ দূর করতে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকবো—ইনশা আল্লাহ।”

আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সাঈদ আল নোমান বলেন, “আমি নতুন প্রজন্মের হাতে অস্ত্র নয়, কলম দেখতে চাই। কিশোর গ্যাং নয়, কর্মঠ যুব সমাজ দেখতে চাই। কোনো সন্ত্রাস বা কিশোর গ্যাং আমার এলাকায় ঠাঁই পাবে না। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে, না হলে আইনের আওতায় আসতে হবে।”তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তার প্রশ্নে তার জিরো টলারেন্স নীতি আগামীতেও অটল থাকবে।

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের মতের সঙ্গে আমার দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের প্রশ্নে আপনাদের পাশে থাকবো। প্রয়োজন হলে আপনাদের সঙ্গে লড়তেও প্রস্তুত।”
গণমাধ্যমকর্মীদের আবাসন সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুযোগ ও সক্ষমতা পেলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গোয়াল পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে কিছু শঙ্কা থাকলেও আশা করি এবারের নির্বাচন সেই কালো অধ্যায় মুছে নতুন উজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

পরিশেষে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আপনার মূল্যবান ভোট প্রদান করুন। আপনাদের ভোটের ঋণ আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে শোধ করার সুযোগ দিন।মতবিনিময় সভায় সিনিয়র সাংবাদিকসহ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান – ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। তবে সরকারের হাতে এখন মাত্র দুইটি কার্যদিবস বাকি রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেই বিষয়টি এ পর্যায়ে এগোচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ