আজঃ বুধবার ১ এপ্রিল, ২০২৬

মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়া, ফরম ফিলাপ বিতর্ক; প্রকৃত প্ররোচনার তথ্য তদন্তে বেড়িয়ে আসে।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়ার ২০২৬-সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ কয়েক টি বেনামী অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে পড়া ‘আত্মহত্যার হুমকি’ সংক্রান্ত ভিডিওটি সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা চললেও তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য নিয়ম অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় কলেজে একটি নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ পরীক্ষায় মোট ১১৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী তাদের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের অনুমতি দেয়নি।

পরবর্তীতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে কলেজ গভর্নিং বডির কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানায়। তারা দাবি করে, আরেক বার সুযোগ দিলে তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও গভর্নিং বডি শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে পুনরায় একই প্রশ্নপত্রে আরেকটি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পুনঃপরীক্ষায়ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। ২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন পুনরায় অকৃতকার্য হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেল করা শিক্ষার্থীদের অনেকেই ইংরেজি বিষয়ে শূন্য(০) থেকে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর পর্যন্ত পেয়েছে, যা তাদের প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এদিকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে এসব শিক্ষার্থী ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান এর কাছে অভিযোগ জানাতে যায়। এ আগে শিক্ষার্থীরা ফরম ফিলাপের সুযোগ না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয় বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত ফেসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বেনামী অনলাইন পোর্টালেও বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন বিষয় টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র।

তদন্তে জানা যায়, কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে সাংবাদিক পরিচয়ে তিন জন ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে প্ররোচিত করেন। তারা শিক্ষার্থীদের বোঝান যে, আত্মহত্যার হুমকি দিলে প্রশাসন চাপের মুখে পড়ে ফরম ফিলাপের সুযোগ দিতে বাধ্য হবে। তাদের এমন পরামর্শে প্রভাবিত হয়ে শিক্ষার্থীরা ভিডিওতে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন।

তবে পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে অনুতপ্ত হয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। শিক্ষার্থীরা জানায়, মূলত অন্যের কথায় প্ররোচিত হয়ে তারা এমন বক্তব্য দিয়েছিল এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আত্মহত্যার মতো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। তারা আগামী বছর আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়ার অধ্যক্ষ জনাব মো. মোস্তফা কামাল বলেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে যে ভিডিওটি প্রচারিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো এবং ভিত্তিহীন। প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকরভাবে বিষয়টি প্রচার করা হয়েছে, যা কলেজের ভবিষ্যৎ সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি আরও বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে এবং নিয়মের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যের পেছনে প্ররোচনার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের মানসিকভাবে সচেতন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ঘটনা বা গুজব যাতে না ছড়ায় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কারাবন্দী সাংবাদিক শওকত মাহমুদের মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা পরিবারের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কারাবন্দী সাংবাদিক শওকত মাহমুদের মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা পরিবারেরছবিঃ সংগৃহীত
কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় থাকা সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শওকত মাহমুদ-এর মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবার।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগা ৭৩ বছর বয়সী শওকত মাহমুদের অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তার জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে তার বড় মেয়ে মেহেত মামুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন পাঠিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিওপিডি (COPD), শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। ২০০৪ সালে তার হৃদযন্ত্রে ছয়টি বাইপাস সার্জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৩ ও ২০২২ সালে আরও চারটি স্টেন্ট বসানো হয়।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ৬ জানুয়ারি তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চলনশক্তি হারিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, তাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে একাধিক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পরিবার দাবি করেছে, অতীতেও বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হলেও তিনি তার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে রয়েছেন। চিকিৎসা ব্যয় ও আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

কারাগার থেকে পাঠানো এক বার্তায় শওকত মাহমুদ বলেন, তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর আদর্শে বিশ্বাসী এবং দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত তার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী।বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২ টার সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার শুরুতেই বক্তব্য রাখেন নবাগত জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। এছাড়াও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল, দৈনিক চাঁপাই দর্পন এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন দিলু, ডাবলু কুমার ঘোষ, রফিকুল আলম, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ফেরদৌস সিহানুক শান্ত, সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান রাজাবাবু, সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল শুকরানা, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সাংবাদিক জাকির হোসেন পিংকু, আজিজুর রহমান শিশির, জহুরুল ইসলাম, মনোয়ার হোসেন রুবেল,  আসাদুজ্জামান রিপন, আবুল বাসার মিলনসহ অন্যান্যরা। 

মতবিনিময় সভায় সংবাদকর্মীরা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন, মাটি কাটা, মাদক, চোরাচালান, চাঁদাবাজি, বর্তমান মানে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সহ বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি ও নানান সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমসহ সম্ভাবনাময়ী নানা খাতের উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। 

জেলা প্রশাসক জনাব আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী বলেন, সাংবাদিকরা জাগ্রত এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন। দেশের সকল সমস্যা, সম্ভাবনা উন্নয়নে মিডিয়া বড় ভূমিকা পালন করে চলেছে। তিনি আরো জানান, সমালোচনা একটি শিল্প তাই সঠিক সমোলচনা করা উচিত। প্রশাসন ও গনমাধ্যম এ জেলার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ জেলাকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার  জন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ