এবার কনটেইনার পাচারে জড়িত দুই কর্মচারী গ্রেফতার

চট্টগ্রাম বন্দর ভিত্তিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়, পণ্য চুরি করে অনেকে কোটিপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে কোটি টাকার কাপড় বোঝাই কনটেইনার পাচারের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে বন্দর থানা পুলিশ।অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান ও আবু সুফিয়ান নামের ওই দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। মিজানুর রহমান (৩৫) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার উলুবাড়িয়া গ্রামের মৃত ওয়াহাব আকনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চমান বহিঃ সহকারী হিসেবে কর্মরত। অপরদিকে আবু সুফিয়ান (৪০) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার শহীদ উল্ল্যাহ মাস্টার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে। তিনি বন্দরের কিপ ডাউন এসসি-১৮৮ পদে কর্মরত রয়েছেন।

জানা গেছে, বন্দর ভিত্তিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরি করে অনেকে আজ কোটিপতি বনে গেছে। দেড় বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে চোরাই পণ্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে দুইভাই। বন্দর থেকে খালাস করা চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির মূলহাতা যমজ দুই ভাইকেও পুলিশ সম্প্রতি মগ্রেফতার করেছ।

এদিকে কনটেইনার পাচারের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে গ্রেফতারের বিষয়ে ‎পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যে চীন থেকে আমদানিকৃত গার্মেন্টসের কাপড় বোঝাই একটি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে চুরি হয়। পরে এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পাচার হওয়া কনটেইনারটি গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড আমদানি করেছিল। টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪ নম্বরের ৪০ ফুট কনটেইনারটিতে কয়েক কোটি টাকার কাপড় ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, কনটেইনারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর বার্থ অপারেটর বশির আহাম্মদের মাধ্যমে জাহাজ থেকে খালাস করা হয় এবং পরে বন্দরের জে আর ইয়ার্ডে রাখা হয়। পরবর্তীতে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড শুল্ককর পরিশোধ করে কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গেলে ইয়ার্ডে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে বন্দর থানায় মামলা করা হয়।

‎বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে গিয়ে বন্দরের দুই কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর বুধবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।তিনি বলেন, ‎ কনটেইনার পাচারের ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে পণ্য বোঝাই কনটেইনার পাচারের জড়িত একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। কিন্তু তারা কারাগারে থাকলেও তাদের সদস্যরা হরহামেশা কন্টেইনার বোঝাই পণ্য পাচার করে আসছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরি করা করাই নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিন নামে যমজ দুই ভাই ছিল দুধর্ষ। দেড় বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে চোরাই পণ্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে দুইভাই। বন্দর থেকে খালাস করা চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির মূলহাতাও যমজ দুই ভাই। নগর গোয়েন্দা পুলিশ মঈনউদ্দিনকে তার গ্রামের বাড়ি পটিয়ার বাকখাইন থেকে গ্রেফতার করে। এর আগে গ্রেফতার হয়েছে নুর উদ্দিনের কাভার্ডভ্যান চালক নীরব চৌধুরী সাকিব, সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন ও আশিক রায়হান নামে আরো তিনজন। তবে নুরউদ্দিন পুলিশের হাত ফসকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। নগরীর কদমতলী ডিটি রোডে তাদের ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের অফিসও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, অভাবের তাড়নায় ছয় বছর আগে পটিয়ার বাকখাইনের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে নগরীতে আসে দুই ভাই। শুরুর দিকে গাড়ির হেলপারের চাকরি করতো। তবে খুব বেশি দিন নয়। পরিচয় হয় পণ্য চুরি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য মনার সঙ্গে। জড়িয়ে পড়ে বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরির সিন্ডিকেটে। ছয় বছরের মাথায় দুই ভাই পণ্য চুরির সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এরমধ্যে তারা কিনেছেন বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান। ক্রোকারিজ পণ্য চুরিতে ব্যবহৃত যে কাভার্ডভ্যানটি গোয়েন্দা পুলিশ জব্দ করেছে সেটিও নুরউদ্দিনের। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন অর্ধ লক্ষ টাকা দামের এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভ্যাহিকেল) এইচআর কার। গাড়িটি নিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ আগে। এরআগে নিশান এক্সট্রেইল জিপ ব্যবহার করতো। রয়েছে পাঁচ লাখ টাকা দামের ইয়ামাহা (আর ওয়ান-৫) মোটরসাইকেল। গ্রামে তৈরি করেছে সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত কোটি টাকার ভবন। গাড়িগুলো পুলিশ জব্দ করেছে।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, বন্দর থেকে পণ্য চুরি করা নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিনের পেশা। তারা বিষয়টিকে ব্যবসা হিসাবে দেখেন। ক্রোকারিজ পণ্য চুরির ঘটনার মূলহোতাও দুই ভাই। তাদের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান রয়েছে। বন্দর ভিত্তিক তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। চোরাই পণ্য খালাস করার জন্য নগরীতে তাদের নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। কাভার্ডভ্যানের দরজার সিল নিখুঁতভাবে খোলা-বাধা করার জন্য তাদের নির্দিষ্ট লোক রয়েছে। একটি কাভার্ডভ্যানের দরজার সিল খোলা বাধা করতে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। যে কাভার্ডভ্যান থেকে ক্রোকারিজ পণ্য চুরি হয়েছে সেটির মালিক নুরউদ্দিন।

মঈনউদ্দিনকে পটিয়ার বাকখাইনের গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় নুরউদ্দিন পালিয়ে যায়। গ্রামের বাড়ির চারপাশে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানো। একতলা বাড়িটির ভেতরে লাগানো হয়েছে চোখ ধাঁধানো আসবাবপত্র। দুই ভাইয়ের ব্যবহৃত একটি অর্ধলক্ষ টাকা দামের কার, পাঁচ লাখ টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নুরউদ্দিন পলাতক রয়েছে।

ওই মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে, গত ১১ মে ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির অভিযোগ এনে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী জামাল হোসেন। এজাহারে তিনি বলেন, তিনি একজন আমদানিকারক। মেসার্স সিয়াম ট্রেডার্স নামে ঢাকায় তাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি চীন থেকে ১২০০ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য আমদানি করেন। পণ্যগুলো বন্দর থেকে খালাস করার পর গত ৫ মে সকাল সাড় দশটায় তিনটি কাভার্ডভ্যানে পণ্যগুলো ঢাকায় পাঠায়। রাত ১১টা থেকে দেড়টার মধ্যে পণ্যবর্তী কাভার্ডভ্যান ঢাকায় পৌঁছায়। ৬ মে সকাল সাড়ে দশটার সময় পণ্যগুলো নামাতে গিয়ে দেখা যায় ঢাকামেট্রো-ট-১৩-০৩৯৫ নম্বর কাভার্ডভ্যানে ৯৪ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য কম পাওয়া যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪০ লাখ টাকা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, মামলা দায়েরের পর টানা অভিযানে মঈনউদ্দিন ও কাভার্ডভ্যান চালকসহ দুই সহযোগী গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ কার্টন ক্রোকারিজ। এসব পণ্যগুলো টেরিবাজার এলাকায় গুদামে রাখা হয়েছিল।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বেলা সাড়ে তিনটার সময় নগরীর পাহাড়তলী পোর্ট কানেকটিং রোডের সরাইপাড়া বাস স্টপেজ এলাকা থেকে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছে ছয়টি কাপড়ের রোল পাওয়া যায়। যেগুলোর কোন কাগজপত্র তাদের কাছে ছিল না। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদ। ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই যমজভাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবিউল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিন দুই ভাই। আরিফুর রহমান নামে এক ব্যক্তি পাহাড়তলীতে বসবাস করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে চোরাই চক্রের সঙ্গে জড়িত। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কাপড় ও সুতার রোল ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যান খুলে চুরি করে তারা। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার আড়ালে বন্দর থেকে বের বের হওয়া পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্য চুরি করে। এটাই তাদের একমাত্র পেশা। ঘটনাস্থল থেকে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনকে ছয় রোল চোরাই কাপড়সহ গ্রেফতার করা হলেও সহযোগী আরিফুর রহমান পলাতক রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য ১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ আসছে। ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে আসার কথা রয়েছে। অবশ্য জাহাজটি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশে প্রথম ক্রুুড অয়েলের চালান নিয়ে এসেছিল। বিপিসির শতভাগ ক্রুড অয়েল পরিবহন করে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

বিএসসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা, ৪৪ দশমিক ৪ মিটার প্রশস্ত, ১৪ দশমিক ৬ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) এমটি নিনেমিয়া ১ লাখ ৪ হাজার ২৬ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসছে। গত ২৩ জুলাই এমটি নিনেমিয়া ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল লোড করে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তৈরি জাহাজটি ১১ নটিক্যাল মাইল গতিতে জাহাজটি চলছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে জাহাজটি। বরবারের মতো এমটি নিনেমিয়া বহির্নোঙরে আসলে ছোট ছোট ট্যাংকারে ক্রুড অয়েল লাইটারিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ বার্থিং, লাইটারিং, চলাচল ও খালাস কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসসি আফ্রিকা ঘুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে ওই জাহাজের মালিকপক্ষ বা স্থানীয় এজেন্টের প্রস্তাবে রাজি হয়।

স্বাভাবিক সময়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসত ১৩-১৫ দিনে।কিন্তু নতুন রুটে সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে আসায় পথ প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেড়েছে। সময় লাগছে প্রায় ৫২ দিন। ঘুরপথে জাহাজটির নিজস্ব জ্বালানি লো সালফার ফুয়েল, মেরিন গ্যাস অয়েল, সুয়েজ খাল পার হওয়ার ফি, ভাড়া ইত্যাদি খরচও বাড়ছে কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ফিসহ কিছু খরচ ফিক্সড হলেও পুরো হিসাব উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হচ্ছে। এর জন্য বিপিসি থেকে পরিশোধন বাবদ ফি পায় ইআরএল। পরিশোধিত তেলের মধ্যে ডিজেলই বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, এমএস অকটেন ইত্যাদিও উৎপাদিত হচ্ছে। ইআরএলের ট্যাংকে ক্রুড অয়েল মজুদ থাকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন। এর বাইরে এসপিএমের পাইপলাইনে কিছু ক্রুড অয়েল রাখা ছিল যা ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরুতে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক সংকটের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল ইআরএলের প্ল্যান্টে।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর এমটি নিনেমিয়া জাহাজে ক্রুড অয়েল আসার পর ৮ মে পুনরায় চালু হয়েছিল ইস্টার্ন রিফাইনারি। অবশ্য যুদ্ধকালীন জ্বালানি সংকট সামাল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে সরকার।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল।

আরেকটি অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল ১৬০টি বাস-ট্রাকের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে আরেকটি অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল চালু হতে যাচ্ছে। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জালালাবাদ ওয়ার্ডের কুলগাঁও বালুচরা এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ৮ দশমিক ১০ একর জায়গার উপর টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কদমতলী ও বহদ্দারহাটে দুটি বাস টার্মিনালের পর নগরীর এটি হবে তৃতীয় বাস টার্মিনাল।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম নগরীর প্রথম বাস টার্মিনাল নির্মিত হয় কদমতলীতে। দ্বিতীয় টার্মিনাল নির্মিত হয় বহদ্দারহাটে ১৯৯৩ সালে। এরপর দীর্ঘ ৩৩ বছরেও নির্মাণ হয়নি কোনো বাস টার্মিনাল। সিটি বাস টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে অনুমোদন হয়। নানা জটিলতায় প্রায় আট বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি চসিক। প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় হয়েছে ১০৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া, ভূমি উন্নয়নে ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, অবকাঠামো উন্নয়নে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ইয়ার্ড নির্মাণ বাবদ ২৫ কোটি টাকাসহ মোট ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সর্বমোট এই প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণসহ ব্যয় হয়েছে ১৩৯ কোটি টাকা।

এখানে বাসের পাশাপাশি ট্রাকের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে। টার্মিনালটি চলতি মাসে উদ্বোধনের পর পুরোদমে চালু হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এই টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার ও আন্তঃনগর উভয় ধরনের বাসই ছাড়বে। টার্মিনালটিতে মোট ১৬০টি বাস-ট্রার্ক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, কুলগাঁও বালুচরা বাস টার্মিনালসহ বেশকিছু প্রকল্পের কাজ আমাদের শেষ পর্যায়ে। মেয়র দু’এক দিনের মধ্যেই দেশে ফিরলে এগুলো চালু বা উদ্বোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই বাস টার্মিনালটি চালু করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে টার্মিনালের মূল ভবনের ফিনিশিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। যা চলতি মাসের মধ্যেই শেষ করা হবে। টার্মিনালের প্রবেশ পথে একটি তিন তলা ভবন রয়েছে। এছাড়া, একটি সিটি বাস টার্মিনাল, একটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল, ২৫টি যাত্রী বোর্ডিং লেন, ১৪টি অতিরিক্ত ওয়েটিং লেন, একটি বড় খোলা হল রুম এবং তথ্যকেন্দ্র, পুরুষ ও নারীদের জন্য টয়লেট, ২২টি টিকিট কাউন্টার, যাত্রীদের বসার জায়গা, ওয়াইফাই সুবিধা, লাগেজ রুম, ট্যাক্সি বুকিং রুম, ফাস্ট এইড স্টেশন, রেস্তোরাঁ, এসি বাসের যাত্রীদের বসার জায়গা, বাস-ট্রাক মালিকদের জন্য অফিস এবং বাস কর্মচারীদের আবাসন কক্ষ রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ও চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন বলেন, মূল ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ভবনের ফিনিশিংয়ের কাজ, বাগান ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। টার্মিনালটির ব্যবহার শুরু হলে সুবিধা পাবে দেশের দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির লাখো বাসিন্দা। এতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশমুখ অক্সিজেন এলাকার নিত্যদিনের যানজটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে নগরবাসী।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি অভিমুখী বাস-ট্রাকের জন্য কোন টার্মিনাল নেই। টার্মিনাল না থাকায় এসব সড়কের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার উপর যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় কুলগাঁও এলাকায় বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চসিক। টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলের যানজট অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি বাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কে অক্সিজেন হয়ে প্রতিদিন রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বাদেও উত্তর জেলার বিভিন্ন রুটে ৫০০ থেকে ৬০০ বাস চলাচল করে।

চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, রাঙামাটি-খাগড়াছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে দৈনিক নিয়মিত পাঁচ শতাধিক বাস চলাচল করে। কিন্তু স্থায়ী টার্মিনাল নেই। তাই মুরাদপুর কিংবা অক্সিজেন এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে হয় বাসগুলোতে। এতে নগরীর অন্য রুটে চলাচলকারী যানবাহনকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। নতুন টার্মিনাল চালু হলে উত্তরের রুটগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। অক্সিজেনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রুটে যানজট কমে আসবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ