এবার কনটেইনার পাচারে জড়িত দুই কর্মচারী গ্রেফতার

চট্টগ্রাম বন্দর ভিত্তিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়, পণ্য চুরি করে অনেকে কোটিপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে কোটি টাকার কাপড় বোঝাই কনটেইনার পাচারের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে বন্দর থানা পুলিশ।অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান ও আবু সুফিয়ান নামের ওই দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। মিজানুর রহমান (৩৫) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার উলুবাড়িয়া গ্রামের মৃত ওয়াহাব আকনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চমান বহিঃ সহকারী হিসেবে কর্মরত। অপরদিকে আবু সুফিয়ান (৪০) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার শহীদ উল্ল্যাহ মাস্টার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে। তিনি বন্দরের কিপ ডাউন এসসি-১৮৮ পদে কর্মরত রয়েছেন।

জানা গেছে, বন্দর ভিত্তিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরি করে অনেকে আজ কোটিপতি বনে গেছে। দেড় বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে চোরাই পণ্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে দুইভাই। বন্দর থেকে খালাস করা চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির মূলহাতা যমজ দুই ভাইকেও পুলিশ সম্প্রতি মগ্রেফতার করেছ।

এদিকে কনটেইনার পাচারের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে গ্রেফতারের বিষয়ে ‎পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যে চীন থেকে আমদানিকৃত গার্মেন্টসের কাপড় বোঝাই একটি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে চুরি হয়। পরে এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পাচার হওয়া কনটেইনারটি গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড আমদানি করেছিল। টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪ নম্বরের ৪০ ফুট কনটেইনারটিতে কয়েক কোটি টাকার কাপড় ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, কনটেইনারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর বার্থ অপারেটর বশির আহাম্মদের মাধ্যমে জাহাজ থেকে খালাস করা হয় এবং পরে বন্দরের জে আর ইয়ার্ডে রাখা হয়। পরবর্তীতে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড শুল্ককর পরিশোধ করে কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গেলে ইয়ার্ডে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে বন্দর থানায় মামলা করা হয়।

‎বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে গিয়ে বন্দরের দুই কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর বুধবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।তিনি বলেন, ‎ কনটেইনার পাচারের ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে পণ্য বোঝাই কনটেইনার পাচারের জড়িত একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। কিন্তু তারা কারাগারে থাকলেও তাদের সদস্যরা হরহামেশা কন্টেইনার বোঝাই পণ্য পাচার করে আসছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরি করা করাই নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিন নামে যমজ দুই ভাই ছিল দুধর্ষ। দেড় বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে চোরাই পণ্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে দুইভাই। বন্দর থেকে খালাস করা চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির মূলহাতাও যমজ দুই ভাই। নগর গোয়েন্দা পুলিশ মঈনউদ্দিনকে তার গ্রামের বাড়ি পটিয়ার বাকখাইন থেকে গ্রেফতার করে। এর আগে গ্রেফতার হয়েছে নুর উদ্দিনের কাভার্ডভ্যান চালক নীরব চৌধুরী সাকিব, সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন ও আশিক রায়হান নামে আরো তিনজন। তবে নুরউদ্দিন পুলিশের হাত ফসকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। নগরীর কদমতলী ডিটি রোডে তাদের ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের অফিসও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, অভাবের তাড়নায় ছয় বছর আগে পটিয়ার বাকখাইনের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে নগরীতে আসে দুই ভাই। শুরুর দিকে গাড়ির হেলপারের চাকরি করতো। তবে খুব বেশি দিন নয়। পরিচয় হয় পণ্য চুরি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য মনার সঙ্গে। জড়িয়ে পড়ে বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরির সিন্ডিকেটে। ছয় বছরের মাথায় দুই ভাই পণ্য চুরির সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এরমধ্যে তারা কিনেছেন বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান। ক্রোকারিজ পণ্য চুরিতে ব্যবহৃত যে কাভার্ডভ্যানটি গোয়েন্দা পুলিশ জব্দ করেছে সেটিও নুরউদ্দিনের। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন অর্ধ লক্ষ টাকা দামের এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভ্যাহিকেল) এইচআর কার। গাড়িটি নিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ আগে। এরআগে নিশান এক্সট্রেইল জিপ ব্যবহার করতো। রয়েছে পাঁচ লাখ টাকা দামের ইয়ামাহা (আর ওয়ান-৫) মোটরসাইকেল। গ্রামে তৈরি করেছে সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত কোটি টাকার ভবন। গাড়িগুলো পুলিশ জব্দ করেছে।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, বন্দর থেকে পণ্য চুরি করা নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিনের পেশা। তারা বিষয়টিকে ব্যবসা হিসাবে দেখেন। ক্রোকারিজ পণ্য চুরির ঘটনার মূলহোতাও দুই ভাই। তাদের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান রয়েছে। বন্দর ভিত্তিক তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। চোরাই পণ্য খালাস করার জন্য নগরীতে তাদের নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। কাভার্ডভ্যানের দরজার সিল নিখুঁতভাবে খোলা-বাধা করার জন্য তাদের নির্দিষ্ট লোক রয়েছে। একটি কাভার্ডভ্যানের দরজার সিল খোলা বাধা করতে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। যে কাভার্ডভ্যান থেকে ক্রোকারিজ পণ্য চুরি হয়েছে সেটির মালিক নুরউদ্দিন।

মঈনউদ্দিনকে পটিয়ার বাকখাইনের গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় নুরউদ্দিন পালিয়ে যায়। গ্রামের বাড়ির চারপাশে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানো। একতলা বাড়িটির ভেতরে লাগানো হয়েছে চোখ ধাঁধানো আসবাবপত্র। দুই ভাইয়ের ব্যবহৃত একটি অর্ধলক্ষ টাকা দামের কার, পাঁচ লাখ টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নুরউদ্দিন পলাতক রয়েছে।

ওই মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে, গত ১১ মে ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির অভিযোগ এনে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী জামাল হোসেন। এজাহারে তিনি বলেন, তিনি একজন আমদানিকারক। মেসার্স সিয়াম ট্রেডার্স নামে ঢাকায় তাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি চীন থেকে ১২০০ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য আমদানি করেন। পণ্যগুলো বন্দর থেকে খালাস করার পর গত ৫ মে সকাল সাড় দশটায় তিনটি কাভার্ডভ্যানে পণ্যগুলো ঢাকায় পাঠায়। রাত ১১টা থেকে দেড়টার মধ্যে পণ্যবর্তী কাভার্ডভ্যান ঢাকায় পৌঁছায়। ৬ মে সকাল সাড়ে দশটার সময় পণ্যগুলো নামাতে গিয়ে দেখা যায় ঢাকামেট্রো-ট-১৩-০৩৯৫ নম্বর কাভার্ডভ্যানে ৯৪ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য কম পাওয়া যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪০ লাখ টাকা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, মামলা দায়েরের পর টানা অভিযানে মঈনউদ্দিন ও কাভার্ডভ্যান চালকসহ দুই সহযোগী গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ কার্টন ক্রোকারিজ। এসব পণ্যগুলো টেরিবাজার এলাকায় গুদামে রাখা হয়েছিল।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বেলা সাড়ে তিনটার সময় নগরীর পাহাড়তলী পোর্ট কানেকটিং রোডের সরাইপাড়া বাস স্টপেজ এলাকা থেকে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছে ছয়টি কাপড়ের রোল পাওয়া যায়। যেগুলোর কোন কাগজপত্র তাদের কাছে ছিল না। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদ। ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই যমজভাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবিউল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিন দুই ভাই। আরিফুর রহমান নামে এক ব্যক্তি পাহাড়তলীতে বসবাস করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে চোরাই চক্রের সঙ্গে জড়িত। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কাপড় ও সুতার রোল ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যান খুলে চুরি করে তারা। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার আড়ালে বন্দর থেকে বের বের হওয়া পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্য চুরি করে। এটাই তাদের একমাত্র পেশা। ঘটনাস্থল থেকে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনকে ছয় রোল চোরাই কাপড়সহ গ্রেফতার করা হলেও সহযোগী আরিফুর রহমান পলাতক রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাস করার জন্য ১৮ জন মন্ত্রীর বিশেষ পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করেছে সরকার। দায়িত্বের গুরুত্বের কারণে ছয়জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার জন্য এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।

জানা যায় , রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ নিরাপত্তা বহরের আকারও ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন মন্ত্রীর বিশেষ পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার কার্যকর করা হয়েছে। বিষয়টি একাধিক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ নজমুল হুদা শনিবার জানান- গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা জারি হওয়ার পরই তা কার্যকর হয়েছে। , বর্তমানে মন্ত্রীর নিরাপত্তায় শুধু একজন গানম্যান দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রীর সংখ্যা ২৪ জন। যদিও বিশেষ এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী মন্ত্রীরা ব্যক্তিগত গানম্যান, সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তারক্ষী এবং রাজধানীর বাইরে সরকারি সফরে প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদর দপ্তরকে ভিআইপি নিরাপত্তা খাতে ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি পুলিশ সদস্য ও অপারেশনাল যানবাহনের দীর্ঘদিনের সংকটও এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অন্যতম কারণ।

সাধারণত একজন মন্ত্রীর এসকর্ট টিমে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), চারজন কনস্টেবল এবং একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান থাকে। এসব সদস্যের বেতন-ভাতা ও যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় সরকার বহন করে। তবে প্রতিমন্ত্রীরা এ সুবিধার আওতায় ছিলেন না।

এসকর্ট বহাল রাখা হয়েছে তারা হলেন— স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, নারী ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

যেসব মন্ত্রীর বিশেষ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন— ধর্মবিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রীতা), শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে ৪৯ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে প্রয়োজন ২ হাজার ৫৭৫ জন। ফলে প্রায় ৯০০ জন সদস্যের ঘাটতি রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই জনবল সংকটের কারণে অনেক সদস্যকে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ ছাড়া জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন ও স্থাপনায় হামলায় ভিআইপি নিরাপত্তা ইউনিটের বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়। ফলে বর্তমানে একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তায় একই যানবাহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও যানবাহন নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

আমরা জনগণের পুলিশ হতে চাই : সিএমপি কমিশনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, আমরা জনগণের পুলিশ হতে চাই, নিপীড়ক হতে চাই না। পুলিশ ভালো কাজ করছে কি না, তার প্রধান মাপকাঠি নাগরিক সন্তুষ্টি। সাধারণ মানুষ পুলিশের সেবা ও আচরণে সন্তুষ্ট হলে বুঝতে হবে পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় পুলিশ কমিশনার এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাহবুব মাওলা রিপন।

হাসান মো. শওকত আলী বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় জনসচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর পুলিশিংয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, পুলিশ তত ভালোভাবে কাজ করতে পারবে।

পুলিশের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গ টেনে পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশ আলাদা, এটা শুধু পুলিশ নিজে মনে করলে হবে না। সাধারণ মানুষকে পুলিশের কাজ ও আচরণের মাধ্যমে সেটি মনে করতে হবে।
জুলাই বিপ্লবের পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক পরিবর্তন টেনে হাসান মো. শওকত আলী বলেন, আমরা নিপীড়ক পুলিশ হতে চাই না। সিএমপির পক্ষ থেকে বলতে চাই, আমরা জনগণের পুলিশ হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করতে চাই।

সিএমপি পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। একজন সাংবাদিক পুলিশের কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। ওই প্রতিবেদনটি গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অনুধাবন করতে হবে।

এসময় দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, সাংবাদিক ও পুলিশ একে অন্যের পরিপূরক। তারা যদি সঠিক সংবাদটি পরিবেশন করতে পারে, সেখানে আর কোনো বিভাজন তৈরি হয়না। সংবাদ হতে হবে সত্যনিষ্ঠ। ওই সত্যের মধ্যে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। পুলিশের সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিএমপিতে পুলিশ রয়েছে প্রায় ১২শ, নগরে বসবাসরত ৭০ লাখ মানুষের খবর রাখা সম্ভব না। তাদেরকে যদি একটু তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করি, তাহলে বিষয়টি সমাধান করা পুলিশের জন্য সহজ হবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য একই বিষয়ে দিনরাত কাজ করছেন পুলিশ ও সাংবাদিক। প্রতিকূলতার মধ্যে জনগণের সেবায় কাজ করছেন এই দুই পেশার মানুষ। সাংবাদিক ও পুলিশ সুসম্পর্ক গড়ে উঠার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পুরণ হবে। তিনি বলেন, এই জুলাই মাসে গত সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবও পরিবর্তন হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ ও সাংবাদিক একসাথে কাজ করবে, এমনটাই প্রত্যাশা।

মতবিনিময় সভায় প্রেস ক্লাবের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, কাজী আবুল মনসুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সালেহ নোমান, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, কার্যকরী সদস্য ওয়াহিদ জামান ও সাইফুল ইসলাম শিল্পী, এটিএন নিউজের চট্টগ্রামের প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম পারভেজ, কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার ফারুক মুনির ও সকালবেলার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী। এসময় ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম,

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ ও কার্যকরী সদস্য রফিকুল ইসলাম সেলিম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সিএমপির পক্ষে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুইয়া, ডিসি (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান ও কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ নূর। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিসি (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দীন আহমেদ, ডিসি (ট্রাফিক-পশ্চিম) নিষ্কৃতি চাকমা, ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান, ডিসি (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্)

মো. রইছ উদ্দিন, ডিসি (ট্রাফিক-বন্দর) কবীর আহম্মেদ, ডিসি (সিএসবি) মো. গোলাম রুহুল কুদ্দুস, ডিসি (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন, ডিসি (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম, ডিসি (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, এডিসি মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী, এডিসি মোহাম্মদ বদিউজ্জামান, এডিসি (সদর) শ্রীমা চাকমা ও এসি (সদর) আমিনুর রশিদ।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ