এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের কারণে কয়েকটি উপজেলাও কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পানি ওঠার কারণে বৃহস্পতিবার সকালে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, টানা বর্ষণের কারণে দুদিন ধরে সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি উঠতে থাকে। ফসলি জমি ও বাড়ি তলিয়ে যায়। ডলু খালের বাঁধ ভেঙে বিস্তির্ণ এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। দুই লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে বলে জানা যায়।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, পুরো উপজেলার সবগুলো অর্থাৎ ১৭ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গৃহবন্দী রয়েছে এসব এলাকার মানুষ। ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সাতকানিয়ার কেরানিহাট এলাকার ব্যাপক এলাকায় পানি রয়েছে। এর ফলে সাতকানিয়া থেকে বান্দরবানের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বান্দরবান থেকে নেমে আসা পানির ঢল এবং বৃষ্টির পানি যোগ হয়ে দুই থেকে তিন ধরে এলাকাগুলো বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।

এদিকে লোহাগাড়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত। এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতগ্রিস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। তবে এগুলোতে লোকজন খুব একটা যাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ৯ উপজেলার মধ্যে ৫টি কমবেশি আক্রান্ত হয়েছে। আমিরাবাদ ইউনিয়ন বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এখান থেকে ৯০ জনকে উদ্ধার করে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া পদুয়া ইউনিয়নে গৃহবন্দী লোকজনকে উদ্ধার করার জন্য পাঠানো হয়।
চন্দনাইশের পাঁচটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। এরমধ্যে ধোপাছড়ি, বরকল, বৈলতলী ইউনিয়ন বেশি আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, ১৩ হাজার লোক গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ধোপাছড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ওখানে সাড়ে তিনশত লোক বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠছেন। শুকনো খাবার এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে। দোহাজারী এলাকায় পানি ওঠার কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে সকালে যান চলাচল বন্ধ ছিল বলে জানান। তবে বর্তমানে তা চালু রয়েছে বলে ইউএনও জানিয়েছেন।
এছাড়া বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, গণ্ডামারা, শেখেরখিল, নাপোড়া, খানখানাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে লোকজনের। উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে আশ্রয়কন্দ্র খোলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লোক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এ ছাড়া বাঁশখালীতেও গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফ উদ্দিন জানান, জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ বন্যায় এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড় ধস ও পানিতে ভেসে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫ জন মারা গেছেন। ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।










