আজঃ বুধবার ১৩ মে, ২০২৬

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন,চসিক কাউন্সিলর বাচ্চু ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চট্টগ্রাম অফিস:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বৈধ ও গ্রহণযোগ্য দোকান ভাড়া বাবদ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু দুদক খুঁজে পেয়েছে ৯৯ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৫ টাকার সম্পদ। এক্ষেত্রে ৯৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৫ টাকা আয়ের চেয়ে বেশি সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখেছেন নগরীর এনায়েত বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সলিম উল্যাহ বাচ্চুর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা। বাচ্চুর সহযোগিতায় এবং তার অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করতে তার স্ত্রী নানা কূটকৌশলে এসব অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। আয়ের উৎস হিসেবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন নানা ব্যবসা এবং মৎস্য চাষ প্রদর্শন করেছেন।
বৈধ আয় পাঁচ লাখ টাকা, পাওয়া গেছে কোটি টাকার সম্পদ আয়ের উৎসে মৎস্য চাষসহ ভিত্তিহীন নানা ব্যবসার ফিরিস্তির অভিযোগও মিলেছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এ ঘটনায় গতকাল রোববার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম–১ এ কাউন্সিলর মো. সলিম উল্যাহ ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক সবুজ হোসেন মামলাটি দায়ের করেন।

দুদক জানায়, কাউন্সিলর পত্নী আয়েশা ছিদ্দিকা ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। এতে তিনি নিজ নামে কোনও অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেননি। তবে একটি দলিল মূলে এবং একটি বাণিজ্যিক ও একটি ফ্ল্যাট চুক্তিমূলে ক্রয় বাবদ ১ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ থাকার কথা উল্লেখ করেন।
যাচাই করলে দেখা যায়, আয়েশা সিদ্দিকা ১ কোটি ৭৯ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৪ টাকার স্থাবর ও ১ লাখ ৩৪ হাজার ২০১ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। ৯৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকার দায় রয়েছে আয়েশা সিদ্দিকার উল্লেখ করে মামলার এজাহারে বলা হয়, এ দায় বাদে তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৫ টাকা এবং একই সময়ে তিনি ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৬০০ টাকা পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় করেছেন। এসবসহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৯৯ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৫ টাকা। বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য দোকান ভাড়া বাবদ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ টাকা। এক্ষেত্রে তিনি ৯৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৫ টাকা আয়ের চেয়ে বেশি সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখেছেন। সম্পদ বিবরণীতে আয়েশা সিদ্দিকা আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসার আয়, মৎস্য আয় ও দোকান ভাড়ার বিপরীতে অগ্রিম গ্রহণের বিষয় উল্লেখ করেন।
অনুসন্ধানের সময় মো. সলিম উল্যাহ দুদককে জানান, তার স্ত্রীর সকল ব্যবসা ও মৎস্য চাষ তিনি পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু তারা ব্যবসা বাবদ প্রদর্শিত আয়ের বিপরীতে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স, দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্র, ক্রয়–বিক্রয়ের চালান/ভাউচার কোনো কিছুর রেকর্ডপত্র দাখিল করতে পারেন নি। দুদক জানায়, আয়েশা সিদ্দিকার আয়কর রিটার্নে পর্যাক্রমে ২০০১–২০০২ করবর্ষ থেকে ২০১৯–২০২০ করবর্ষে ব্যবসা আয় বাবদ প্রদর্শিত ৪১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৯৫ টাকা গ্রহণযোগ্য নয়। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে তার ব্যবসার কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়াও আয়েশা সিদ্দিকা মৎস্য চাষের জন্য ২০০৭ সালের ৫ জানুয়ারি নগরীর দক্ষিণ কাট্টলীর বাসিন্দা আবু সাঈদ চৌধুরীর (সম্রাট) সাথে যে চুক্তিপত্র করেছেন তা খতিয়ে দেখার পর মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
দুদক জানায়, মো. সলিম উল্যাহ জম জম হ্যাচারি লাগিয়ত তিন ফর্দ চুক্তিপত্র উপস্থাপন করেন। গত ১৭ আগস্ট তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত তিন ফর্দ চুক্তিপত্রে ৭৫ টাকা মূল্যমানের দুটি স্ট্যাম্প রয়েছে। এ দুটি স্ট্যাম্প কত তারিখে কার নিকট বিক্রি করা হয়েছে তার প্রতিবেদন চেয়ে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি শাখায় চিঠি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ট্রেজারি শাখা প্রতিবেদন দাখিল করে।

 

 

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, স্ট্যাম্প দুটি ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট ও ২০১০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ট্রেজারি শাখা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে ২০০৭ সালের ৫ জানুয়ারি আয়েশা সিদ্দিকা ও আবু সাঈদ চৌধুরীর (সম্রাট) মধ্যে চুক্তি করার কোনো ভিত্তি নেই। রেকর্ডপত্রে দেখা যায়, আবু সাঈদ চৌধুরী (সম্রাট) চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার জম জম হ্যাচারি ফার্মটি দলিল মূলে এ কে এম ফেরদৌস হোসাইনের কাছ থেকে ক্রয় করেন। অনুসন্ধানকালে এ কে এম ফেরদৌস হোসাইনের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। তিনি জানান, আনুমানিক ২০১০ বা ২০১১ সালে নগদ টাকার প্রয়োজন হলে তিনি ৮টি পুকুর বা ৫৯৩ শতক জমি বিক্রয়ের প্রস্তাব করলে মো. আবু সাঈদ চৌধুরী (সম্রাট) ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ২০১২ সালে বিভিন্ন তারিখে সাফ বিক্রি কবলা মূলে এ কে এম ফেরদৌস হোসাইন ৮টি পুকুর বা ৫ একর জমি আবু সাঈদ চৌধুরীর স্ত্রী সালমা সাঈদ চৌধুরীর নামে রেজিস্ট্রি দলিল করে দেন। এ কে এম ফেরদৌস হোসাইনের বক্তব্য অনুযায়ী ২০১২ সাল পর্যন্ত পটিয়ার চক্রশালার জম জম ফার্মস’র ৮টি পুকুর তার ভোগদখলে ছিল। সুতরাং আসামি আয়েশা সিদ্দিকার আয়কর নথিতে ২০০৮–২০০৯ করবর্ষ থেকে ২০১০–১১ করবর্ষে মৎস্য আয় বাবদ প্রদর্শিত ৯৯ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকার আয় গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যবসা আয় বাবদ ও মৎস্য চাষের আয় বাবদ তিনি মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ১৯৫ টাকা আয়কর নথিতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীনভাবে প্রদর্শন করেছেন। যা গ্রহণযোগ্য নয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মো. সেলিম উল্যাহ তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানতেন। এভাবে আয়েশা সিদ্দিকা তার স্বামী আসামি মো. সলিম উল্যাহ ওরফে বাচ্চুর সহযোগিতায় এবং তার অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করার অপচেষ্টায় প্রাথমিকভাবে আয়কর নথিতে এবং পরবর্তীতে দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তার নামে অর্জিত সম্পদের আয়ের উৎস হিসেবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন নানা ব্যবসা এবং মৎস্য চাষের ফিরিস্তি প্রদর্শন করেছেন। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ মাটি উত্তোলন: ট্রাক্টরসহ ১জন আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর স্পার বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদী ও আশপাশের কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় মাটিভর্তি একটি ট্রাক্টরসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে সুন্দরপুর ইউনিয়নের শিবিরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ। অভিযানে মাটি পরিবহনের সময় মোঃ সোহবুল হকের ছেলে মোঃ সুমন আলী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি সদর উপজেলার জয়ন্দীপুর রামকৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন, পদ্মা নদীর তীরবর্তী জয়ন্দীপুর এলাকার কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে তা বিভিন্ন ইটভাটায় পরিবহন করা হচ্ছিল।

পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে “ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩” এর ১৫ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, নদী ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী একটি চক্র রাত-দিন ট্রাক্টর ও ভেকু দিয়ে নদীর তীর ও ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন শত শত ট্রাক্টর মাটি বহন করছে। প্রশাসনের অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে শুধু জরিমানা নয়—স্থায়ীভাবে এই মাটি লুট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে নদী ও কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমি’র শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান সম্পন্ন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমি আয়োজিত ১০ই মে রবিবার সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনেঅনুষ্ঠিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। এতে শুরুতেই মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মুখ্য বাদ্যযন্ত্রী অনুপম বিশ্বাস। উদ্বোধনী অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমির শিক্ষার্থীরা বাঁশী, দোতারা, বেহালা, উকুলেলে এবং কণ্ঠ সঙ্গীত সমন্বয়ে রাগ ভুপালীতে অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন। অর্কেস্ট্রা পরিবেশনায় অংশ গ্রহণ করেন জবাশ্রী দাশগুপ্ত, দিপংকর বড়ুয়া, হৃদিতা দাশ (পুজা), কমলিনী নাথ,   নীলরাজ নাথ, রাশী দাশ, দিঘী মজুমদার, উর্বশী দে, সঙ্গীতা মহাজন,  পুজা দাশ,  অনুষ্ক দে, জিশু দেবনাথ, অভিজিৎ আচার্য্য, রনি দে, রাইমা দাশ, দুর্লভ দাশ, সীমান্ত দাশ, প্রশান্ত দাশ,  শামীম হোসাইন, হৃদয় দাশ অর্চিতা দাশ,  আনোয়ার হোসেন, প্রান্ত ধর, তমাল মজুমদার,   প্রেরণা আচার্য্য, সঞ্জিত রায়, প্রসেনজিৎ নাথ। তবলা সহযোগিতায় ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী।  অর্কেস্ট্রা পরিচালনা করেন সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমির পরিচালক শিল্পী সুমন কুমার নাথ।
এরপর অদিতি সাহার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী টিটু কুমার দাশ।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্যা নীড এ্যাপারেলস ( প্রা:) লিমিটেড এর চেয়ারম্যান রিয়াজ ওয়ায়েজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশনের উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী রনধীর দাশ।

বক্তারা একাডেমির এ ধরনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানান,সংস্কৃতি প্রেমীদের জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠবে উল্লেখ করেন, একাডেমির উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। ঢাকা থেকে আগত BASIC ACADEMY OF YOGIC ACOUSTIC TRADITIONAL INSTRUMENTS (BAYATI) দেশ রাগে দোতারাতে অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে দরবারি রাগে একক খ্যায়াল পরিবেশন করেন শিল্পী রিষু তালুকদার।  তবলা বাদনে ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী এবং  হারমেনিয়ামে বিজয় দেবনাথ। তানপুরায় সহযোগিতা করেন হৃদিতা দাশ পুজা।

বাঁশীতে সুরের মুর্ছনায় এক অনবদ্য পরিবেশনা উপহার দিলেন শিল্পী রাসেল দত্ত।  তিনি প্রথমে মত্যতাল এবং পরবর্তী তে ত্রিতালে রাগ বাগেশ্রী পরিবেশন করেন। তবলা বাদনে ছিলেন শিল্পী সানি দে এবং তানপুরা সহযোগিতায় আরাধ্যা দাশ। পরিশেষে শিল্পী রাসেল দত্ত কীর্তন ধুন পরিবেশন করে দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।

ওপার বাংলার থেকে আগত শিল্পী বাবুসোনা বসু চতুরঙ্গী পরিবেশন করিয়ে দর্শকশ্রোতাবৃন্দের সুরের তৃপ্তি আস্বাদনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে তোলেন। তিনি প্রথমে বিলম্বিত ত্রিতালে এবং পরে দ্রুত লয়ে রাগ যোগ পরিবেশন করেন। তবলা বাদনে ছিলেন ওপার বাংলা থেকে আগত শিল্পী সমীর আচার্য্য।  পরিশেষে একটি ধুন বাজিয়ে হলরুমে সুরের মায়াজালে উপস্থিত দর্শক – শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ