আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

কালীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে বিশেষ উদ্যোগ।

মোঃ রায়হান মাহামুদ, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালীগঞ্জে করোনার কারণে দীর্ঘ দিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পিছিয়ে পড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজিজুর রহমান। পিছিয়ে পড়া ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যা নিরসনকল্পে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার পিছিয়ে পড়া স্কুলের তালিকায় রয়েছে উত্তর রাজ নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ রাজ নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৌচান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিমুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরুয়া নলছাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একতা-দিঘুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামালপুর বাগমারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালীগাও শামসুন্নাহার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাদার্ত্তী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৈতারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়গুলি পিছিয়ে পড়ার কারণ জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরুন্নাহার প্রতিবেদককে জানান, শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব, শিক্ষার্থীর নগন্য সংখ্যা, ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী কম, শিক্ষক স্বল্পতা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, কেজি স্কুল বা মাদ্রাসার দৌরাত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই বিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান কল্পে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতি মুক্ত রাখা, পাঠদানের সময় শিক্ষকদের পোষাক ও মোবাইল ফোন ব্যবহারে সর্তকতা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আজিজুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া মা ও অভিভাবক সমাবেশ, উঠান বৈঠক, হোম ভিজিট, শিক্ষা ক্রমিক কার্যক্রম জোরদার, শিক্ষক ডেপুটেশন থেকে নিজ বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া স্কুল ও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি আরোও বলেন, পরিদর্শন করা স্কুলগুলি সামগ্রিক মূল্যায়ন করা হবে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের পাঠদান কৌশল ও প্রাপ্ত ফলাফল নিয়ে তদারকি বাড়ানো হবে। শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সম্পর্ক যাচাইয়ের পাশাপাশি পিটিএ কমিটিকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিক ভাবে অন্যান্য স্কুলগুলি নিয়ে কাজ করা হবে।

ইউএনও মো. আজিজুর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি স্বরুপ গাজীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও সম্মাননা লাভ করেন। সম্মাননা প্রদান করেন প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান জেলা বাছাই কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদ ভূঁইয়া। তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে পদোন্নতি পেয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, খুবি শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি)এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে ইতোমধ্যে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

রূপগঞ্জে কলেজ ছাত্রী অপহরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পূর্বাচল উপশহরের নীলা মার্কেট এলাকা থেকে কাজল রেখা (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ ৩ জুন বুধবার সকালে বেড়াতে এসে সে অপহরণকারীদের কবলে পড়ে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ ৩ জুন বুধবার সকালে পূর্বাচল উপশহরের নীলা মার্কেট এলাকায় বান্ধবীদের সঙ্গে রাজধানীর উত্তরখান থানার কাঁচকুড়া এলাকার রনি আহম্মেদের মেয়ে কাজল রেখা বেড়াতে আসে। এসময় রাজধানীর খিলক্ষেত থানার পাতিরা এলাকার জিসান তার বন্ধুদের সহযোগীতায় কলেজ ছাত্রীর মুখ বেঁধে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে ঢাকার দিকে নিয়ে যায়।

এঘটনায় কাজল রেখার মা চামেলি বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাতিরা এলাকার জিসান (২২), জিল মিয়া (৬০), মিলন মিয়াকে (৪০) নামীয় ও অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, কলেজ ছাত্রী কাজল রেখা অপহরণের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ