আজঃ রবিবার ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিভিস্থানে সংঘর্ষ, আহত-২০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েকটিস্থানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশব্যাপী কমপ্লিট শাটডাউন বা সর্বাত্মক অবরোধ চলাকালে এ সংঘর্ষে এতে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী, সাধারণ জনগন ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে ছিল আইন শৃংখলাবাহিনী। সকাল থেকে নগরের দুই নম্বর গেইট, মুরাদপুর ও লালদীঘির পাড়, নতুন ব্রীজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরের কয়েকটিস্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে চট্টগ্রামের তৃতীয় শাহ আমানত সেতু (নতুনব্রিজ) এলাকায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় এক কলেজছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ছাত্রশিবির সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছে। আটক ওই ছাত্রের নাম নাজমুল হাসান (২৫)। তিনি সরকারি সিটি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র

বলে জানা গেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে আন্দোলনকারীদের। জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে নতুন ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এতেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।
নতুন ব্রিজ এলাকায় ঘটনাস্থলে থাকা এডিসি আশরাফুল করিম জানান, এখানে (নতুন ব্রিজ) ছাত্র শিবিরের ছেলেদের সংঘবদ্ধ হওয়ার তথ্য পেয়েছি। তাদের প্রতিহত করার জন্য আমরা মাঠে নেমেছি। একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ দাবি করেছে, যারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, তাদের কেউ অবরোধে ছিলেন না। বহিরাগতরা এসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অচলের চেষ্টা করেছিল। এদের মধ্যে ‘কয়েকজনকে’ গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর বাকলিয়ায় শাহ আমানত সেতুর প্রবেশমুখ অবরোধ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অচলের চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।এ সময় প্রায় ২০ মিনিট ধরে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে আবারও জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে বহদ্দারহাটের দিকে চলে যায়।
এদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত ২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক)

হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হলেও চমেক হাসপাতালে ২ জন ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া দুইজন হলেন- আরেফিন শুভ ও মো. মোরশেদ। এদের মধ্যে আরেফিন সিটি কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। মোরশেদ রিকশাচালক।
চমেক হাসপাতালে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত দুইজন হাসপাতালে এসেছেন। এদের মধ্যে আরেফিন নামে একজন ছাত্র রয়েছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অন্যজন রিকশাচালক, টিয়ারশেলে অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
অবরোধে অংশ নেওয়া বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান বলেন, আমরা শাটডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছিলাম। পুলিশ আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের ওপর তারা টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড মেরেছে। পাঁচজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
নগর পুলিশ উপ কমিশনার (দক্ষিণ) আশরাফুল আলম বলেন, আন্দোলনকারীদের যে আক্রমণাত্মক আচরণ সেটা দেখে মনে হচ্ছে না তারা সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা একটি বাস ভাঙচুর করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সেটা করতে বারণ করে। এরপর তারা পুলিশের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বেশকিছু পুলিশ আহত হয়েছে। কয়জন আটক হয়েছে সেটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যারা আন্দোলন ডেকেছে, তাদের কাউকে আমরা নতুন ব্রিজ এলাকায় দেখিনি। এখানে বহিরাগত একটা গ্রুপ রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করেছে, মানুষজনকে আঘাত করার চেষ্টা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে, মানুষের জানমাল রক্ষার স্বার্থে, জনজীবন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আমরা তাদের এখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি। তারা পুলিশের ওপর পাল্টা আক্রমণ করেছে। প্রকাশ্যে তাদের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি আপনারা দেখেছেন। এটি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কোনো বিক্ষোভ হতে পারে না।
মোস্তাফিজুর জানিয়েছেন, অবরোধকারীদের হামলায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানালেও সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি।
এদিকে নগরীর চান্দগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোমিনুর রহমান জানান, নতুন ব্রিজ থেকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে বহাদ্দারহাট মোড়ে এসে সড়কের একপাশ আটকে বিক্ষোভ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চান্দগাঁও আবাসিক এবং বহদ্দারহাট বাড়ি এলাকা থেকে বের হয়ে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। ছোড়া হয় গুলিও। সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন ইসমাইল হোসেন (৩১) এবং মোহাম্মদ ইলিয়াছ (২০)। এর মধ্যে ইসমাইল শিক্ষার্থী এবং ইলিয়াছ শ্রমিক। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাকারীদের মধ্যে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সদস্যদের সরে যেতে দেখা যায়। প্রায় আধ ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সর্বশেষ পাওয়া খবরে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছেন। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে বহদ্দারহাট মোড়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনে ত্রিমুখী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, দুপুর ১২টার পর থেকেই বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এবং ট্রাফিক পুলিশবক্স সংলগ্ন রাস্তায় একে একে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলকারী শিক্ষার্থীরা। সেখানে আগে থেকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অবস্থান থাকলেও শিক্ষার্থীরা জড়ো হওয়ার খবরে সেখানে আরো অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। শিক্ষার্থীদের আশপাশেই অবস্থান নিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীরা ‘কোটা না মেধা’, ‘ছাত্রলীগের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’ এবং পুলিশকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিচ্ছেন।
দুপুর ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ হঠাৎ করেই স্থানীয় ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। প্রথমে একদল নেতাকর্মী আসেন বহদ্দারহাটের মেয়র গলি থেকে। পরে আরেক দল আসে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার সড়ক হয়ে। এ সময় তাদের হাতে কিরিচ, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অতর্কিত হামলা করেছে। আমাদের এক ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ আমাদের সামনেই ছিল। অথচ তারা আমাদের প্রটেক্ট করেনি। অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমে আমাদের এভাবেই কি মার খেতে হবে?
এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলা ও শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের শাস্তি, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন শৃংখলাবাহিনী। সকাল থেকে নগরের দুই নম্বর গেইট, মুরাদপুর ও লালদীঘির পাড়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরের ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
বিজিবি চট্টগ্রাম-৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল শাহেদ মিনহাজ ছিদ্দিকী বলেন, চট্টগ্রামে ৩ প্লাটুন বিজিবি ও ৩টি রায়ট কন্ট্রোল গাড়ি সহযোগে একটি বড় বিজিবি দল মাঠে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা থেকে নগরী, হাটহাজারী ও চন্দনাইশ উপজেলাসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে টহলে রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সিএমপির ১৬ থানার ৫শ পুলিশ সদস্য ও পুলিশ লাইন থেকে ১১শ সহ নগরীতে মোট ১৭শ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। র‌্যাব -৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো.শরীফ-উল-আলম বলেন, নগরে র‌্যাব-৭ এর ১৫টি টহল টিম মাঠে রয়েছে। এছাড়াও উপজেলাতেও আমাদের টহল টিম রয়েছে।
এদিকে সবশেষ পাওয়া খবরে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। অমি নামে ওই শিক্ষার্থীকে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত আহতরা হলেন আরেফিন শুভ, মোহাম্মদ মোরশেদ, সাইদ, শুভ, হিমাদ্রী, মোহাম্মদ মাহিন, মিনহাজুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, মোহাম্মদ মামুন, আদনান শরীফ, রাকিব শাহরিয়ার এবং হোসেন সোহরাওয়ার্দী। তাদের মধ্যে হোসেন সোহরাওয়ার্দী ব্যবসায়ী, মোরশেদ রিকশাচালক, হিমাদ্রী ও মোহাম্মদ ইলিয়াছ পথচারী, আদনান শরীফ ডেলিভারি ম্যান বলে জানা গেছে। বাকিরা সবাই শিক্ষার্থী।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রুপন মজুমদার, আসাদ বিন ইশকাত এবং শোভন নামে আরও তিনজনকে আনা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কালবেলার চট্টগ্রাম ব্যুরোর ফটো সাংবাদিক মোহাম্মদ সুমন টিঁয়ারসেলের আঘাত পেয়ে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন চিকিৎসা নিতে। এছাড়া বহদ্দারহাটে পেশাগত দায়িত্বপালনকালে কালবেলার ব্যুরোচিফ সাইদুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে সাগর হাওলাদার নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন চমেক হাসপাতালে।
এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর দুই নম্বর গেইট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়। এরা হলেন- দোকানকর্মী মো. ফারুক (৩২), ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম (২২) ও কলেজ ছাত্র ফয়সাল আহমেদ শান্ত (২১)। একইদিন সারাদেশে আরও তিন শিক্ষার্থী নিহত হন।সারাদেশে শিক্ষার্থী হতাহতের প্রতিবাদে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কমপ্লিট শাটডাউন বা সর্বাত্মক অবরোধের ডাক দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণমাধ্যম কর্মীদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় সাঈদ আল নোমানের।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুশিক্ষিত, বেকারত্ব ও জনদুর্ভোগমুক্ত চট্টগ্রাম-১০ আসন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেছেন, গত দুই বছর ধরে নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত সার্ভে করে জনসাধারণের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই আলোকে পরিকল্পিত উন্নয়নই হবে তার রাজনীতির মূল ভিত্তি।শনিবার রাতে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় চট্টগ্রামে কর্মরত মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সাঈদ আল নোমান বলেন, “আমার প্রথম উদ্যোগ হবে সংসদীয় এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে তরুণ ও যুব সমাজকে কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য একটি করে কর্মসংস্থান হাব তৈরি করা। একই সঙ্গে বিদ্যমান সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়ন এবং নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে সবার জন্য সুশিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।”

স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৃহত্তর হালিশহর-পাহাড়তলী ও খুলশী এলাকার মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং ওয়াসার পানি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।তিনি বলেন, “জনগণের সমর্থন পেলে জনদুর্ভোগ দূর করতে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকবো—ইনশা আল্লাহ।”

আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সাঈদ আল নোমান বলেন, “আমি নতুন প্রজন্মের হাতে অস্ত্র নয়, কলম দেখতে চাই। কিশোর গ্যাং নয়, কর্মঠ যুব সমাজ দেখতে চাই। কোনো সন্ত্রাস বা কিশোর গ্যাং আমার এলাকায় ঠাঁই পাবে না। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে, না হলে আইনের আওতায় আসতে হবে।”তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তার প্রশ্নে তার জিরো টলারেন্স নীতি আগামীতেও অটল থাকবে।

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের মতের সঙ্গে আমার দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের প্রশ্নে আপনাদের পাশে থাকবো। প্রয়োজন হলে আপনাদের সঙ্গে লড়তেও প্রস্তুত।”
গণমাধ্যমকর্মীদের আবাসন সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুযোগ ও সক্ষমতা পেলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গোয়াল পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে কিছু শঙ্কা থাকলেও আশা করি এবারের নির্বাচন সেই কালো অধ্যায় মুছে নতুন উজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

পরিশেষে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আপনার মূল্যবান ভোট প্রদান করুন। আপনাদের ভোটের ঋণ আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে শোধ করার সুযোগ দিন।মতবিনিময় সভায় সিনিয়র সাংবাদিকসহ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। রোববার সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর।নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাস বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় এ ধর্শঘট আহবান করেছেন বলে জানান পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুণ, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ক ইয়াসিন রেজা রাজুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। দাবিগুলো হচ্ছে- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা, বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা-হয়রানি না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবি, বৈঠকে নৌ উপদেষ্টা বদলি ও মামলা সংক্রান্ত দাবি নৌ মন্ত্রণালয় থেকে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। বাকি দুটি দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করবেন বলে জানান।পরিষদের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, উপদেষ্টার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা কর্মবিরতি ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবির বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ এখনও পর্যন্ত নেয়নি। এ জন্য আমরা আবারও আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে আগের কর্মসূচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছি।বৃহস্পতিবার শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের দাবির বিষয়ে নৌ উপদেষ্টা বলেছিলেন, দাবিগুলো তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। তবে চুক্তি ঠেকানো যাবে না জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সচল করার কাজে কেউ বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে।

বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেছিলেন, নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা পরদিন (শুক্রবার) সকাল থেকে কর্মবিরতি ৪৮ ঘণ্টা স্থগিত করেছেন। তবে এর মধ্যে সরকার দাবি মেনে নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হবে।ওই বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার রাতেই আন্দোলনকারী ১৫ জন সামনের কাতারের শ্রমিক-কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদের তথ্য যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে তিনদিন কর্মবিরতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এ অচলাবস্থার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে বন্দর ভবনের ভেতরে উপদেষ্টা হেঁটে ঢোকার সময়ও তারা আশপাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় তাদের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা- হুঁশিয়ার সাবধান, গো ব্যাক অ্যাডভাইজার গো ব্যাক, মা মাটি মোহনা- বিদেশিদের দেব না’- এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। অনেকে উপদেষ্টার গাড়ির সামনে গিয়ে ‘ভূয়া ভূয়া, দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দেন।কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে প্রবেশ করে নৌ উপদেষ্টা বন্দরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারী প্রতিনিধি দল এবং বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আলোচিত খবর

ভোটাররা চারটি পদ্ধতিতে নিজ ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানতে পারবেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণভোট ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্র জানার সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ভুলভাবে ও দ্রুত পৌঁছে দিতে অ্যাপ, হটলাইন, এসএমএস ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- ভোটাররা নিম্নোক্ত চারটি পদ্ধতির যেকোনো একটি ব্যবহার করে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানতে পারবেন—

১. স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা Play Store বা App Store থেকে ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপ ডাউনলোড করে তথ্য জানতে পারবেন। অ্যাপটি ইনস্টল করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোট কেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রদান করলে ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা দেখা যাবে।

২. হটলাইন সেবা যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে সরাসরি ১০৫ নম্বরে কল করে অপারেটরের মাধ্যমে তথ্য জানা যাবে। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ সময় এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ জানাতে হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে।

৩. এসএমএস পদ্ধতি মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC <স্পেস> NID নম্বর এই ফরম্যাটে লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে।

৪. নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকে ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করতে হবে। এখানে নির্বাচনি এলাকা ও উপজেলা নির্বাচন করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে। পাশাপাশি এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে ব্যক্তিগত ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে।
নির্বাচন কমিশন ভোটারদের আগেভাগে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ