আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

অব্যাহত বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্মাঞ্চল প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে অব্যাহত ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বেশিরভাগ এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। বাসা-বাড়িতে ঢুকেছে পানি। এছাড়া সড়কেও গণপরিবহন কম চলতে দেখা গেছে। ফলে কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পোশাক কারখানাও বৃহস্পতিবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়ার কার্যালয়ের সহকারি পূর্বাভাস কর্মকর্তা আবদুল বারেক জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ১৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় ১৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, ভোর ছয়টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘন্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম নগরী ও পাহাড়ধসের সম্ভাবনা আছে।
সরেজমিনে নগরীর প্রবর্তক মোড় ও চকবাজার এলাকায় দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কোমর পরিমাণ পানি জমে গেছে। সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে তেমন গণপরিবহন চলতে দেখা যায়নি। দুই একটি চললেও সেখানে দ্বিগুনের বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। উপায় না পেয়ে রিকশা ও ভ্যানগাড়িতে চড়ে অনেককে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। কোমর পরিমাণ পানিতেই অনেককে হেঁটে গন্তব্যস্থলে যেতেও দেখা গেছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, শুলকবহর, বাদুরতলা, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেইট, পাঁচলাইশ, হালিশহরসহ আরও বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার অনেক বাসাবাড়ির নিচতলা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে পানি ঢুকে গেছে।
নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, টানা পাঁচ-ছয়দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝারি বা ভারী বৃষ্টি হলেই নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানির কারণে বাসা থেকে বের হতে পারছি না। নিচের সিঁড়ি পর্যন্ত পানি এসে গেছে। প্রয়োজনীয় কাজ করা যাচ্ছে না। বাচ্চাদের স্কুল খুললেও তাদের পাঠাতে পারছি না।
নগরীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর ইলাহী বলেন, জলাবদ্ধতার চট্টগ্রামের অনেক জায়গায় পানি উঠে গেছে। বুধবারও পানি ছিল। ক্লাসে যেতে পারিনি। যারা গেছে তাদের থেকে নোট নিয়েছি। অনেক স্যাররাও পানির কারণে ভার্সিটিতে যেতে পারেনি বলে শুনেছি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভারি বৃষ্টির কারণে খাল ও নালা দিয়ে পানি যেতে পারছে না। তাই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের একাধিক টিম নগরীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ করছে। বৃষ্টি কমলেই পানি আস্তে আস্তে নেমে আসবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগে আতর্কিত হামলা ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১০ আসনের জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর নির্বাচনী গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মহানগরের খুলশী থানাধীন আমবাগান রেলগেট এলাকায় মঙ্গলবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গণসংযোগ চলাকালে হঠাৎ করে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এতে জামায়াতের অন্তত ৮ জন নেতাকর্মী আহত হন।
আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে শামসুজ্জামান হেলালী অভিযোগ করে বলেন, অতর্কিতভাবে স্থানীয় বিএনপির লোকজন আমাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে।

এতে আমাদের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন।এদিকে হামলার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীবরদীর জামায়াতের সেক্রেটারি নিহতের ঘটনায় ঢাবি ছাত্রদের প্রতিবাদ মিছিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় তিনি মারা যান। এই প্রাণহানির ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ