আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

স্মরণ : মুক্ত বেলায়তের দীপ্তিয়মান সূর্য, হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ শাহজাহান চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী

লেখক: ডা. তছলিম উদ্দীন কর্মপরিকল্পনা সম্পাদক, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ লেকচারার, এনাটমি বিভাগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জন্ম ও বংশ পরিচয়: মাইজভান্ডারী দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)-এর নাতি অছিয়ে গাউছুল আজম খাদেমুল ফোকরা মাওলানা সৈয়দ দেলওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (ক.)-এর বড় শাহজাদী মহীয়সী রমণী সৈয়দা মুবাশ্বেরা বেগম মাইজভান্ডারী (ক.) ও আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ চৌধুরী মাইজভান্ডারীর (ক.) পবিত্র ওরশে ১৯৫০ সালে ১৩৬৯ হিজরী ১৩৫৬ বাংলা ১৪ই মাঘ ২৮ জানুয়ারী জন্ম গ্রহণ করেন।

বিদ্যার্জন: বাবাজান শাহনগর স্থানীয় স্কুলে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর নানুপুর সোবহানিয়া স্কুল হতে এসএসসি পাশ করে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ভর্তি হন।

কর্মজীবন: ১৯৭০ সালে বাড়বকুন্ডে অবস্থিত ডিডিটি ইন্ডাষ্ট্রিতে অফিসার পদে নিয়োজিত ছিলেন।
আধ্যাত্মিক জীবনের দীক্ষা: চাকুরিরত অবস্থায় বিবর চিত্তে নিজ বাড়িতে সহকর্মীদের সহযোগিতায় বাবাজানের কাছে চলে আসেন। বাবাজানের আপন মামা হযরত মাওলানা শাহসুফি শাহান শাহ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী বাবাজানের মুর্শিদ। তিনি বাবাজানকে পরম স্নেহে বুকে জড়িয়ে, কোলে তুলে বাবাজানকে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত রাখেন। বাবাজান প্রায় সময় রাত্রে পাহাড়ে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত থাকতেন। নিজ গৃহে প্রায় সময় উপবাস থাকতেন। নিজ রুমে একা থাকতেন।

কিছুদিনের মধ্যে বাবাজানের কামালিয়তের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঐশী প্রেম পিপাসু সাধক ও দোয়া প্রত্যাশী ফরিয়াদিদের ভিড়ে এই সাধকের পবিত্র বাসগৃহ বিশ্ব মানবতার কল্যাণধারক এক উচ্চমার্গীয় আধ্যাত্মিক দরবারে পরিণত হয়। গাউছুল আজম শাহান শাহ ফানাফিল্লাহ বাকাবিল্লাহ হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ মুহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী (ক.)-এর কিছু উল্লেখযোগ্য কামালিয়ত নিম্নে বর্ণনা করা হলো।

(১) ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালী আসনের বিএনপি থেকে সংসদ প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বাবাজান কেবলার কাছে মেহেরবানীর প্রত্যাশায় চট্টগ্রাম শহর লালখান বাজার হাই লেভেল রোড গাউছিয়া শাহাজান মঞ্জিল দরবার শরীফে আসেন। বাবাজান দয়া করে বললেন, আপনি যান নির্বাচন করলে পাশ করবেন। বিজয় লাভের কয়েকদিনের মধ্যে বাবাজানের কাছে তিনি আসেন। প্রকাশ করেন কৃতজ্ঞতাটুকু এবং বাবাজানকে বাসায় আমন্ত্রণ করেন। পরবর্তীতে এমপি সাহেবের বাসায় গাড়িতে করে পৌঁছান। তখন বাবাজান বলেন, আমি বসেছি মন্ত্রীর গাড়িতে বাসায় খাওয়া কবুল করে

বাবাজান এবার এমপি সাহেবকে ঢাকায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তার পরের দিন এমপি সাহেব চলে গেলেন ঢাকায় এবং সরাসরি উঠেন খালেদা জিয়ার বাসভবনে। দেখা গেল তখন মন্ত্রিপরিষদ গঠন প্রক্রিয়া চলছিল। এমপি জাফরুল ইসলামকে দেখে খালেদা জিয়া বললেন, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া যায়। মন্ত্রিপরিষদের সকলের সঙ্গে এমপি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীও প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন।

(২) জৈনক মহিলা লালখান বাজার বাবাজানের বাসায় বাবাজানকে আর্জি পেশ করলেন, ডাক্তার বলেছেন মহিলার পেটে টিউমার আছে। বাবাজান কালাম করলেন, ঐটা বাচ্চা, টিউমার নয়। মহিলা বললেন, আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে টিউমার আছে বলেছেন। বাবাজান আবারো বললেন, ঐটা বাচ্চা, টিউমার নয়। তখন কিছুদিন পর ঐ মহিলা একটি বাচ্চা জন্ম দিলেন।
(৩) হাজী মুহাম্মদ নুরুল আলম সাহেব বাবাজানের কাছে আর্জি পেশ করলেন, আমার হাঁটুতে টিউমার হয়েছে। বাবাজান হাঁটুর টিউমারটিতে হাত মোবারক বুলিয়ে দিলেন। বললেন ভালো হয়ে যাবে। পরবর্তীতে উনি সুস্থ হয়ে গেলেন।

(৪) এক দম্পতি বাবাজানের কাছে আর্জি পেশ করলেন, একটি নেক সন্তানের জন্য বাবাজান যেন তাদের ঔষধ দেয় বাচ্চা হওয়ার জন্য। পরবর্তীতে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম লাভ করেন।
(৫) এক ডাক্তার বাবাজানের কাছে এসে ডাক্তারি পেশার উন্নতির জন্য দোয়া চান। বাবাজান কালাম করলেন, তোমাকে প্রফেসর বানিয়ে দিলাম। তিনি বর্তমানে প্রফেসর হিসাবে কর্মরত আছেন।
(৬) ঘটনাটি ২০০১ সালে ২৪ মার্চের সময়। বাবাজান নিজ গ্রামের বাড়ি হতে বাবুনগর ট্যাক্সি দিয়ে রওনা হলেন। বাবাজানের সফরসঙ্গী ছিলেন মুহাম্মদ

মনিরুজ্জামান ও হান্নান। পথিমধ্যে লেলাং খালের স্লুইস গেটের কাছে আসলে ট্যাক্সি বন্ধ হয়ে যায়। চালক অনেক চেষ্টার পর বললেন, তেল শেষ হয়ে গেছে, গাড়ি চলবে না। আমরা পেট্রোল আনতে গাড়ি থেকে নামবো এই সময় বাবাজান দোয়া করে বললেন, লেলাং খাল থেকে পানি ঢুকাও, চালক ইতস্তত করলো। আমরা বললাম, বাবাজান যা বলেছেন তাই করো। চালক খাল হতে তেলের ট্যাংকিতে পানি ঢুকালেন। এইবার বাবাজানের নির্দেশে স্টার্ট-এ চাপ দেওয়ার সাথে সাথে গাড়ি চালু হয়ে যায়। পানি দিয়ে গাড়ি চালানোর এই অলৌকিক ঘটনা মুহূর্তে ছড়িয়ে পরে চতুর্দিকে।

আজও ফরিয়াদিরা উনার মাজারে এসে আপন হাজত মকসুদ পূরণের জন্য নজর-মানতসহ আল্লাহর দরবারে মিনতি করেন। তাদের চাহিদাও পূর্ণ হচ্ছে নিয়মিতভাবে। হযরত দেলাওর হোসেন মাইজভান্ডারী (ক.) কালাম কামেলের মাজার জান সর্ব দুঃখ হারী প্রেমিকের অন্তরে ঢালে শান্তি সুধা বারি।

পরবর্তী রূহানী উত্তরাধিকার নির্ধারণ: বাবাজানের ওফাতের পূর্বে আপন দুই শাহজাদা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইসকান্দার মির্জা মুকুট (ম.জি.আ) ও হযরত মাওলানা সাকান্দার মির্জা মহান (ম.জি.আ)-কে স্বীয় গদী শরীফের উত্তরাধিকারী হিসাবে নির্ধারণ করে যান।
ওফাত ও ওরশ: গাউছুল আজম শাহান শাহ হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী (ক.) ৭৩

বছর বয়সে ২০২৩ সালে ২৪ জানুয়ারি, বাংলা ১৪৩০, ১০ই মাঘ, দিবাগত রাত ৩টার সময় ইহধাম ত্যাগ করেন। প্রতিবছর ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ই মাঘ উনার ওফাত ও খোশরোজ শরীফ শাহনগর সন্ন্যাসীর হাট গাউছিয়া শাহাজাহান মঞ্জিলে মহাসমারহে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্তের সমাগম ঘটে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সৈয়দ ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ চেয়ারম্যান বাবাজানের পবিত্র চল্লিশা শরীফের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওলাদে রাসুল (দ.),আওলাদে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের মহান আধ্যাত্মিক সাধক মজ্জুবে রহমান, ছানিয়ে ওয়াইজ আল করনী, হযরত শাহসুফি সৈয়দ ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রকাশ চেয়ারম্যান বাবাজানের পবিত্র চল্লিশা শরীফ আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে।

এই উপলক্ষে ফটিকছড়ি আজিমনগরে আঞ্জুমানে গাউছিয়া রহমানিয়া ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী মন্জিলে বড় শাহজাদী সৈয়দা কিশোয়ারা রহমান এবং ছোট শাহজাদী সৈয়দা মাহবুবা রহমানের উপস্থিতিতে ১ম প্রস্তুুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে গাউছিয়া রহমানিয়া ছদরুল উলা মাইজভাণ্ডারী কেন্দ্রীয় খেদমত পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন শাখা কমিটির সদস্যবৃন্দসহ আাশেক ভক্তবৃন্দ।

বাংলাদেশকে শান্তির ও নিরাপদ জনপদ কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে একটি শান্তির ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানিয়েছেন মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউসিয়া হক মনজিল এর সম্মানিত সাজ্জাদানশীন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.)।গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্সূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ১২০তম বার্ষিক উরস্ শরীফের আখেরি মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে তিনি উক্ত ফরিয়াদ করেন।

পবিত্র উরস্ উপলক্ষে দরবারে সমবেত লাখো আশেক ভক্তের উপস্থিতিতে হওয়া মোনাজাতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি সংকট-সমস্যার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মহান অলি’র উছিলায় হে আল্লাহ আপনি আমাদের তৌফিক দান করুন।”
বিশ্বের দিকে দিকে নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তি কামনা করে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী বলেন, “বিশ্বের শক্তিধর দেশ দূর্বল রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ক্রমাগত অন্যায়, অবিচার, জুলুম করছে, নিরস্ত্র নারী-পুরুষদের হত্যা করছে। এসব অত্যাচারীর হাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করুন।”

হালাল রুজির মাধ্যমে পিতামাতার উপযুক্ত খেদমত করার তৌফিক কামনা করে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী বলেন, “পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের একটি শান্তিময়, স্বচ্ছল ও নিরাপদ জীবন দান করুন৷ শ্রমজীবী- পেশাজীবি-বুদ্ধিজীবী-ব্যবসাজীবি’র উন্নত জীবন দান করুন।”

হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) প্রবর্তিত ত্বরীকা এবং তাঁর গাউসিয়ত আজমিয়তের শান-মান মানুষের সামনে যথাযথ ভাবে তুলে ধরার তৌফিক কামনা করে তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের আনাচে-কানাচে যুগে যুগে আল্লাহর দ্বীনের পতাকাকে উড্ডীন রাখার জন্য যেসব বান্দা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের পথেই আমাদের পরিচালিত করুণ।”

পবিত্র উরস্ উপলক্ষে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, দল-মত নির্বিশেষে আল্লাহ’র মহান এই অলি’র দরবারে যারা হাজির হয়েছেন তাদের সকলের উপস্থিতি কবুল করার ফরিয়াদ জানিয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী মোনাজাতে আরও বলেন, “হে আল্লাহ আমরা আপনার কাছে শূন্য হাতগুলো তুলে দিয়েছি। আমাদের ত্রুটিপূর্ণ ইবাদত বন্দেগী কবুল করুন। হে আল্লাহ আপনি হুজুর গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক:)-কে আমাদের মাঝে আপনার বন্ধুরুপে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। মহান এই অলি’র পবিত্র উরস্ মোবারকের উছিলায় নেয়ামত হাসিলের তৌফিক দিন। উরস্ উপলক্ষে আপনার বান্দারা অগণিত সামাজিক, মানবিক, শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ইবাদত বন্দেগী করেছেন। তাদের সকল প্রচেষ্টা ও হাজিরী কবুল করুন।”

প্রসঙ্গত, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের ১০ই মাঘের প্রধান এই উরসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও লাখ লাখ আশেক ভক্ত জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশার মানুষ ভেদাভেদ ভুলে সমবেত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বা’দ ফজর শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-রওজা শরিফ গোসল ও গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে উরস শরিফের উক্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উক্ত উরস্ শরীফ উপলক্ষে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের উদ্যোগে যথাযথ ভাব-গাম্ভীর্যের ভিতর দিয়ে ইতঃমধ্যে ১০ দিনব্যাপী ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ