আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

স্মরণ : মুক্ত বেলায়তের দীপ্তিয়মান সূর্য, হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ শাহজাহান চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী

লেখক: ডা. তছলিম উদ্দীন কর্মপরিকল্পনা সম্পাদক, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ লেকচারার, এনাটমি বিভাগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জন্ম ও বংশ পরিচয়: মাইজভান্ডারী দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)-এর নাতি অছিয়ে গাউছুল আজম খাদেমুল ফোকরা মাওলানা সৈয়দ দেলওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (ক.)-এর বড় শাহজাদী মহীয়সী রমণী সৈয়দা মুবাশ্বেরা বেগম মাইজভান্ডারী (ক.) ও আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ চৌধুরী মাইজভান্ডারীর (ক.) পবিত্র ওরশে ১৯৫০ সালে ১৩৬৯ হিজরী ১৩৫৬ বাংলা ১৪ই মাঘ ২৮ জানুয়ারী জন্ম গ্রহণ করেন।

বিদ্যার্জন: বাবাজান শাহনগর স্থানীয় স্কুলে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর নানুপুর সোবহানিয়া স্কুল হতে এসএসসি পাশ করে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ভর্তি হন।

কর্মজীবন: ১৯৭০ সালে বাড়বকুন্ডে অবস্থিত ডিডিটি ইন্ডাষ্ট্রিতে অফিসার পদে নিয়োজিত ছিলেন।
আধ্যাত্মিক জীবনের দীক্ষা: চাকুরিরত অবস্থায় বিবর চিত্তে নিজ বাড়িতে সহকর্মীদের সহযোগিতায় বাবাজানের কাছে চলে আসেন। বাবাজানের আপন মামা হযরত মাওলানা শাহসুফি শাহান শাহ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী বাবাজানের মুর্শিদ। তিনি বাবাজানকে পরম স্নেহে বুকে জড়িয়ে, কোলে তুলে বাবাজানকে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত রাখেন। বাবাজান প্রায় সময় রাত্রে পাহাড়ে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত থাকতেন। নিজ গৃহে প্রায় সময় উপবাস থাকতেন। নিজ রুমে একা থাকতেন।

কিছুদিনের মধ্যে বাবাজানের কামালিয়তের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঐশী প্রেম পিপাসু সাধক ও দোয়া প্রত্যাশী ফরিয়াদিদের ভিড়ে এই সাধকের পবিত্র বাসগৃহ বিশ্ব মানবতার কল্যাণধারক এক উচ্চমার্গীয় আধ্যাত্মিক দরবারে পরিণত হয়। গাউছুল আজম শাহান শাহ ফানাফিল্লাহ বাকাবিল্লাহ হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ মুহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী (ক.)-এর কিছু উল্লেখযোগ্য কামালিয়ত নিম্নে বর্ণনা করা হলো।

(১) ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালী আসনের বিএনপি থেকে সংসদ প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বাবাজান কেবলার কাছে মেহেরবানীর প্রত্যাশায় চট্টগ্রাম শহর লালখান বাজার হাই লেভেল রোড গাউছিয়া শাহাজান মঞ্জিল দরবার শরীফে আসেন। বাবাজান দয়া করে বললেন, আপনি যান নির্বাচন করলে পাশ করবেন। বিজয় লাভের কয়েকদিনের মধ্যে বাবাজানের কাছে তিনি আসেন। প্রকাশ করেন কৃতজ্ঞতাটুকু এবং বাবাজানকে বাসায় আমন্ত্রণ করেন। পরবর্তীতে এমপি সাহেবের বাসায় গাড়িতে করে পৌঁছান। তখন বাবাজান বলেন, আমি বসেছি মন্ত্রীর গাড়িতে বাসায় খাওয়া কবুল করে

বাবাজান এবার এমপি সাহেবকে ঢাকায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তার পরের দিন এমপি সাহেব চলে গেলেন ঢাকায় এবং সরাসরি উঠেন খালেদা জিয়ার বাসভবনে। দেখা গেল তখন মন্ত্রিপরিষদ গঠন প্রক্রিয়া চলছিল। এমপি জাফরুল ইসলামকে দেখে খালেদা জিয়া বললেন, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া যায়। মন্ত্রিপরিষদের সকলের সঙ্গে এমপি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীও প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন।

(২) জৈনক মহিলা লালখান বাজার বাবাজানের বাসায় বাবাজানকে আর্জি পেশ করলেন, ডাক্তার বলেছেন মহিলার পেটে টিউমার আছে। বাবাজান কালাম করলেন, ঐটা বাচ্চা, টিউমার নয়। মহিলা বললেন, আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে টিউমার আছে বলেছেন। বাবাজান আবারো বললেন, ঐটা বাচ্চা, টিউমার নয়। তখন কিছুদিন পর ঐ মহিলা একটি বাচ্চা জন্ম দিলেন।
(৩) হাজী মুহাম্মদ নুরুল আলম সাহেব বাবাজানের কাছে আর্জি পেশ করলেন, আমার হাঁটুতে টিউমার হয়েছে। বাবাজান হাঁটুর টিউমারটিতে হাত মোবারক বুলিয়ে দিলেন। বললেন ভালো হয়ে যাবে। পরবর্তীতে উনি সুস্থ হয়ে গেলেন।

(৪) এক দম্পতি বাবাজানের কাছে আর্জি পেশ করলেন, একটি নেক সন্তানের জন্য বাবাজান যেন তাদের ঔষধ দেয় বাচ্চা হওয়ার জন্য। পরবর্তীতে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম লাভ করেন।
(৫) এক ডাক্তার বাবাজানের কাছে এসে ডাক্তারি পেশার উন্নতির জন্য দোয়া চান। বাবাজান কালাম করলেন, তোমাকে প্রফেসর বানিয়ে দিলাম। তিনি বর্তমানে প্রফেসর হিসাবে কর্মরত আছেন।
(৬) ঘটনাটি ২০০১ সালে ২৪ মার্চের সময়। বাবাজান নিজ গ্রামের বাড়ি হতে বাবুনগর ট্যাক্সি দিয়ে রওনা হলেন। বাবাজানের সফরসঙ্গী ছিলেন মুহাম্মদ

মনিরুজ্জামান ও হান্নান। পথিমধ্যে লেলাং খালের স্লুইস গেটের কাছে আসলে ট্যাক্সি বন্ধ হয়ে যায়। চালক অনেক চেষ্টার পর বললেন, তেল শেষ হয়ে গেছে, গাড়ি চলবে না। আমরা পেট্রোল আনতে গাড়ি থেকে নামবো এই সময় বাবাজান দোয়া করে বললেন, লেলাং খাল থেকে পানি ঢুকাও, চালক ইতস্তত করলো। আমরা বললাম, বাবাজান যা বলেছেন তাই করো। চালক খাল হতে তেলের ট্যাংকিতে পানি ঢুকালেন। এইবার বাবাজানের নির্দেশে স্টার্ট-এ চাপ দেওয়ার সাথে সাথে গাড়ি চালু হয়ে যায়। পানি দিয়ে গাড়ি চালানোর এই অলৌকিক ঘটনা মুহূর্তে ছড়িয়ে পরে চতুর্দিকে।

আজও ফরিয়াদিরা উনার মাজারে এসে আপন হাজত মকসুদ পূরণের জন্য নজর-মানতসহ আল্লাহর দরবারে মিনতি করেন। তাদের চাহিদাও পূর্ণ হচ্ছে নিয়মিতভাবে। হযরত দেলাওর হোসেন মাইজভান্ডারী (ক.) কালাম কামেলের মাজার জান সর্ব দুঃখ হারী প্রেমিকের অন্তরে ঢালে শান্তি সুধা বারি।

পরবর্তী রূহানী উত্তরাধিকার নির্ধারণ: বাবাজানের ওফাতের পূর্বে আপন দুই শাহজাদা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইসকান্দার মির্জা মুকুট (ম.জি.আ) ও হযরত মাওলানা সাকান্দার মির্জা মহান (ম.জি.আ)-কে স্বীয় গদী শরীফের উত্তরাধিকারী হিসাবে নির্ধারণ করে যান।
ওফাত ও ওরশ: গাউছুল আজম শাহান শাহ হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী (ক.) ৭৩

বছর বয়সে ২০২৩ সালে ২৪ জানুয়ারি, বাংলা ১৪৩০, ১০ই মাঘ, দিবাগত রাত ৩টার সময় ইহধাম ত্যাগ করেন। প্রতিবছর ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ই মাঘ উনার ওফাত ও খোশরোজ শরীফ শাহনগর সন্ন্যাসীর হাট গাউছিয়া শাহাজাহান মঞ্জিলে মহাসমারহে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্তের সমাগম ঘটে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে নগরে আয়োজিত এক ‘আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব’র জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে “পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্র‍য়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিক নির্দেশনা” শিরোনামে সম্মিলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী ও মহান ১০ মাঘ ১২০তম পবিত্র উরস শরিফ উদযাপনের অংশ হিসেবে তাঁর মহান অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শ প্রতিপালনে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ট্রাস্টের (এস জেড এইচ এম) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনের আয়েজন করেছে মাইজভান্ডারি একাডেমি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব আবু সুফিয়ান এম.পি।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “সকল ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে, দেশপ্রেম, শান্তি ও মানব কল্যাণ। ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে বলব ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হতে ইসলাম শিক্ষা দেয়। সমাজে মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। উৎপীড়ন ও প্রতিহিংসা, সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কুশাসন, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা করাই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রতি সম্মিলনের অন্তর্নিহিত তাগিদ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্প্রতি সম্মিলনে আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপারনিউম্যারারি প্রফেসর অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, চট্টগ্রাম ক্যাথিড্রাল প্যারিসের সহকারী পাল পুহিত ফাদার রুপক আইজেক রোজারিও এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব শশাঙ্ক বরণ রায়।

আলোচনায় বৌদ্ধতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. সকোমল বড়ুয়া বলেন,বর্তমান পৃথিবীর অস্থিরতার প্রধান কারণ হচ্ছে সহিংসতা, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, বিশ্বশক্তি কিংবা আগ্রাসন মনোবৃত্তি লালন করা। তাই আজ সর্বপ্রথম প্রয়োজন সকল সম্প্রদায়ের মন থেকে এ চারটি কুধারণা অপসারণ করা। দেহ ছাড়া মনের আশ্রয় যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনি নীতি বা ধর্ম ছাড়া সমাজ জীবনের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিন্তা অর্থহীন। দুই মেরুতে দুটি অবস্থান করলেও উভয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশে একটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতামুক্ত, শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে গড়ে উঠবে।

শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ বলেন, “দুঃখের বিষয় হলো এত ধর্মীয় চেতনায় সব ধর্মের সহাবস্থান এর কথা স্বীকৃত থাকলেও বিদ্বেষপূর্ণ ভাভ ধারার কোন পরিবর্তন হয়নি। দুঃখের সাথে আজ তা স্বীকার করতে হয়। আজ সমগ্র বিশ্বে ন্যায়বোধ, প্রীতিবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযমবোধ, সহিষ্ণুতা, মানবতা ও শৃংখলার বড়ই দুর্ভিক্ষ। ধর্ম আচরণ পদ্ধতি ভিন্ন হলেও প্রতিটি মানুষের লক্ষ ও গন্তব্য কিন্তু এক ও অভিন্ন।”

ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, “প্রায় সকল ধর্ম গ্রন্থই ন্যায়পরায়ণতা, সততা, দয়া ও পরোপকারের মতো সার্বজনিন নৈতিক গুণাবলির উপর জোর দেয়। এই সাধারণ নৈতিক ভিত্তি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগীতার পথ সুগম করে ধর্মগ্রন্থগুলো প্রায়ই ঈশ্বর বা দিব্যসত্তার সামনে সকল মানুষের সমান মর্যাদার কথা ঘোষণা করে, যা আন্তঃধর্মিক, আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্মানের ভিত্তি তৈরি করে।
উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ’র নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহ হোসাইনের সঞ্চালনায় সম্প্রতি সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি (ক.) ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর।

শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট এর মাননীয় ম্যানেজিং ট্রাস্টি হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী এর বাণী পাঠ করেন এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট এর গবেষণা সহকারী জনাব সাইদুল ইসলাম সাইদু। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসনাইন, গীতাপাঠ করেন অধ্যাপক শ্রী স্বদেশ চক্রবর্তী, ত্রিপিটক পাঠ করেন ভদন্ত এম বোধি মিত্র ভিক্ষু, বাইবেল পাঠ করেন পাস্টর রিপন রায়। হামদ পরিবেশন করেন সৈয়দ সামিউল হক ফরহাদাবাদী এবং মাইজভান্ডারি সংগীত পরিবেশন করেন মাইজভান্ডারি মরমী গোষ্ঠীর সিনিয়র সদস্য সৈয়দ জাবের সরওয়ার।

আত্মসমর্পণ ও সংযমেই মকবুল হজ্বের শিক্ষা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আত্মঅহমিকা ও আমিত্ব পরিহার করে মহান আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ—এই চেতনায়ই নিহিত রয়েছে পবিত্র হজ্বের মূল শিক্ষা। ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজেকে পরিশুদ্ধ করে তুলতে পারেন—এমনটাই মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

চট্টগ্রাম নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় আল-মারচুচ হজ্ব কাফেলার উদ্যোগে আয়োজিত ‘পবিত্র হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি–২০২৬’-এ এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম।

হজ্ব গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোরশেদুল আলমের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা সরওয়ার আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়তুশ শরফ কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ছলিমুল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জুনাইদ, গারাংগিয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মহিউদ্দিন, বাকলিয়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আখতার হোসাইন ফারুকী, হাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি হাজী শরিয়ত উল্লাহসহ বিভিন্ন আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, পবিত্র হজ্ব হচ্ছে ধৈর্য ও ত্যাগের সর্বোচ্চ অনুশীলন। মকবুল হজ্বের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। দীর্ঘ সফর, ভিড় ও নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্যেও সংযম ধরে রাখা এবং অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত থাকাই হজ্বের প্রকৃত তাৎপর্য।

তারা আরও বলেন, আল-মারচুচ হজ্ব কাফেলা গত ২৬ বছর ধরে হজ্বযাত্রীদের আন্তরিক সেবা দিয়ে দেশের হজ্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহর ঘরের মেহমানদের সেবায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা ক্রমেই বিস্তৃত ও প্রশংসিত হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পুরুষ ও নারী হজ্বযাত্রীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনায় হজ্বকালীন করণীয় বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ