আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

তানোরে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হলেন সাংবাদিক।

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর তানোরে মিঠুন সরদার নামের একজন সাংবাদিকে সন্ত্রাসীরা হামলা করে। তানোর উপজেলায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা তানোর উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মিঠুন সরদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা ফেটে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সহকর্মীর উপরে হামলার খবর পেয়ে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মো: নুরে ইসলাম মিলন সহকর্মীর খোঁজ-খবর নিতে রাতেই তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। তার সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় দপ্তর সম্পাদক মো: সুরুজ আলী ও কার্যনির্বাহী সদস্য মিশাল মন্ডল। তারা রাত ১টা ৩০ ঘটিকার সময় তানোর পৌঁছালে সংগঠনের তানোর উপজেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রনি,তানোর সাংবাদিক ক্লাবের সোহানুল হক পারভেজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

সাংবাদিক মিঠুন সরদারের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, “তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তার মাথায় ৬টা সেলাই দেয়া লেগেছে। আমরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।”

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহত সাংবাদিকের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি, তারা তানোর থানা পুলিশের প্রতি দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মো: নুরে ইসলাম মিলন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের বর্বর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আহত সাংবাদিক মিঠুন সরদারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয় এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরু চুরিতে গণপিটুনির শিকার যুবকের মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে উপজেলার গোহালবাড়ি ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফিরোজ আলী (৪০) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পিটিআই কলেজ বস্তি এলাকার মৃত নুর নবীর ছেলে। তবে তিনি গত পাঁচ বছর ধরে শ্বশুরবাড়ি গোহালবাড়ি গ্রামে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান হোসেনের গোয়ালঘরে গরু চুরির চেষ্টা হচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেন। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ফিরোজ আলীকে আটক করা হয়। পরে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজ আলীকে উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান।খবর পেয়ে ভোলাহাট থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

ভোলাহাট থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৪জন গ্রেপ্তার: ২টি মাটি ভর্তি ট্র‍্যাক্টর জব্দ 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে পদ্মার নদীর বাঁধ এলাকায় রাত দিন ২৪ ঘন্টা কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৪জন কে গ্রেপ্তার ও মাটি পরিবহনের দায়ে মাটি ভর্তি ২টি ট্র‍্যাক্টর জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার সুন্দরপুর পদ্মা নদীর বাঁধ এলাকায় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাব্বির আহমেদ রোবেল এর নেতৃত্ব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল কোটের মাধ্যমে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত-২০২৩) অনুয়ায়ী কারাদন্ড প্রদান করা হয়। দন্ডিত ব্যাক্তিদের একজনকে ২০ দিনের, একজনকে ১৫ দিনের ও দুইজনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর ৫.৬.৭ ও ৮ নম্বার বাঁধে এলাকায় একটি চক্র রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও পুলিশকে ম্যানেজ করে রাত দিন প্রকাশ্য মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। মাটিবাহী ট্রলি ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে পাকা সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন ঘটনার সত‍্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা শুধু কৃষির ক্ষতিই করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি সৃষ্টি করে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ