গণতন্ত্রের সংকট ও বাংলাদেশ

মো: ইয়াসির আরাফাত স্বাধীন গবেষক, লেখক, ও কবি শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঠিকানা: তালাইমারী, মতিহার, রাজশাহী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি জাতির গল্প কে লেখে? ইতিহাস কি মানুষের রক্তে লেখা, নাকি ক্ষমতার কালি দিয়ে? বাংলাদেশে এই প্রশ্ন আজ কেবল বৌদ্ধিক বিতর্ক নয়; এটি আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, এখানে ইতিহাস, অর্জন, এমনকি গণআন্দোলনের চেতনাও প্রায়শই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতর বন্দী হয়ে পড়ে। এই দেশে খুব কমই অধ্যায়, অর্জন, ক্ষেত্র, কিংবা প্রতিষ্ঠান আছে যা রাজনীতিকরণের কবল থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে।

আমরা এমন এক বাস্তবতায় বাস করি, যেখানে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে আখ্যানও বদলে যায়। সংবিধানের ব্যাখ্যা, ইতিহাসের উপস্থাপন, এমনকি জাতীয় অর্জনের মালিকানাও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়। ফলে, যে সংগ্রাম একসময় ছিল জনগণের সম্মিলিত চেতনার প্রতিফলন, তা ক্রমে পরিণত হয় দলীয় পরিচয়ের অংশে। এখানেই শুরু হয় বিভাজন, যেখানে “আমাদের” ইতিহাস আর “তাদের” ইতিহাস আলাদা হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, এক মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: একজন প্রকৃত বাংলাদেশি হওয়ার মানদণ্ড কী?

প্রকৃতপক্ষে, একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি কি এমন হওয়া উচিত? যে রাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক সাফল্যের কৃতিত্ব জনগণকে দেয়, নাগরিকদের গণতান্ত্রিক হতে শেখায়, এবং প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামকে সাধারণ মানুষের রক্তের ইতিহাস হিসেবে স্বীকার করে, সেই রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক। সেখানে উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে প্রান্তিক মানুষও সমানভাবে অংশীদার হয়; অগ্রগতি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির একচেটিয়া অর্জন হয়ে ওঠে না। এমন শাসনব্যবস্থা শুধু একটি দেশের জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক একটি আদর্শ হতে পারে।

তবুও, সবকিছু অন্ধকার নয়। এখনও এমন মানুষ আছেন, যারা নিজেদের পেশার নৈতিক দায়িত্ব বুঝে কাজ করেন বলেই পৃথিবী টিকে আছে। কিন্তু, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে তখনই, যখন মিথ্যা দিয়ে সত্যকে আচ্ছন্ন করা যাবে না; যখন ভুল ব্যক্তি সঠিক জায়গা দখল করতে পারবে না; এবং যখন মানুষকে কৌশলে প্রভাবিত করার সংস্কৃতি ভেঙে পড়বে। সাধারণ মানুষ শিখবে কীভাবে কোনো নির্দিষ্ট পরিবারতন্ত্রের অন্ধ আনুগত্যের বাইরে গিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন করতে হয়। “greater happiness for a greater number of people”, এই ধারণা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ সামাজিক কাঠামোর কেন্দ্রে ফিরে আসবে।

গণতন্ত্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, সংগঠনের প্রকৃত চর্চা, এবং নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর। শুধু গণতন্ত্রের কথা বলা নয়, বরং সাধারণ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা, তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে ক্ষমতায়ন করা; এসবই এর অপরিহার্য শর্ত। শেষ পর্যন্ত, রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার সবকিছুর ভিত্তি ব্যক্তি। ব্যক্তি যদি তার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ হয়, তবে, সেই গুণই বৃহত্তর পরিসরে রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হবে। প্লেটো এই কারণেই রাষ্ট্রকে ব্যক্তির বৃহৎ রূপ হিসেবে দেখেছিলেন। অন্যদিকে, রবার্ট ডাল সতর্ক করেছেন যে শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক সমাজ ছাড়া গণতন্ত্র কেবল একটি নিষ্ক্রিয় কাঠামোতে পরিণত হয়, যেখানে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য মুছে যায়।

যাই হোক, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সহনশীলতার চর্চা গড়ে তোলা এবং বিভ্রান্তিকর বিতর্ক এড়িয়ে কার্যকর জননীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করা। সেখানে জাতীয় ঐক্য সর্বোচ্চ স্থানে থাকে, কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিকে প্রান্তিক করে নয়, বরং সবার অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে একজন অপরাধীও তার প্রাপ্য শাস্তি ন্যায্যভাবে পায়; না কম, না বেশি। এই ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়াই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।

নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের সেবক, রাজনীতির রাজা নন। রাজনীতি শব্দটির তাই জনগণ ও গণতন্ত্রের চেতনায় পুনর্বিবেচনা হওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সৎ, দক্ষ, সম্মোহনী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব, যা জনগণের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল, তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছ ও তৎপর, এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যা মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের কল্যাণে নিবেদিত, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকার জনগণের জন্য, এবং ক্ষমতার উৎস জনগণই। জনগণই দায়িত্ব অর্পণ করে, এবং তারাই নিশ্চিত করবে সেই দায়িত্ব কতটা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটলে, গণতন্ত্র জনগণকে সেই ক্ষমতাও প্রদান করে, প্রয়োজনে শাসককে পরিবর্তনের। সমসাময়িক বাস্তবতায়, সকল স্তরের জনসমষ্টির মনোভাব, চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুধাবন করাও একটি কার্যকর গণতন্ত্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। কিন্তু, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশে শাসকগোষ্ঠী প্রায়শই রাষ্ট্রকে একধরনের ‘লেভিয়াথান’-এ পরিণত করে, স্থিতিশীলতার যুক্তি তুলে ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটায়। অথচ, এই ধরনের স্থিতিশীলতা প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক নয়; বরং তা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি যেমন: জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ও স্বাধীনতার পরিপন্থী।

এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন জাগে: বাংলাদেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য প্রস্তুত? যেখানে শিক্ষার মান অসম, নাগরিক সচেতনতা সীমিত, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও চাকরির দুষ্প্রাপ্যতা, সুযোগের জানালা যেখানে তৈরি হতে একটি জাতিকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, ন্যায়বিচার এবং তড়িৎ জবাবদিহিতার সংস্কৃতি দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট, সেখানে গণতন্ত্র প্রায়ই প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে, এটি কেবল একটি কাঠামো হয়ে থাকে; কার্যকর শাসনব্যবস্থা নয়।

অতএব, এখন সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। গণতন্ত্রকে কেবল একটি শব্দ হিসেবে নয়, একটি চর্চা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নাগরিকদের সচেতন, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাষ্ট্রকে জবাবদিহিমূলক, এবং ইতিহাসকে সমষ্টিগত রাখতে না পারলে বিভাজন আরও গভীর হবে। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল সমাজে, যেখানে শিক্ষার হার কম, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা বেশি, এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ দুর্বল, সেখানে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিকভাবেই সীমিত থাকে। তাই, যতক্ষণ না আমরা এই ব্যবস্থার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছি, ততক্ষণ এর সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যথায়, একটি রাষ্ট্র কেবল বার বার ভুল করতেই থাকবে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিবার তার মাশুল হয়তো বাংলাদেশ দিতে পারবে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে জাহাজে হাউসকিপিংয়ের সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৮ শ্রমিক নিহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামে একটা জাহাজ ভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৮ জন শ্রমিক মারা গেছেন। শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সকালে ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় এ দূর্ঘটনা ঘটে। আহত বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জাহাজটিতে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ায় তল্লাশি চালাতে ভাটার জন্য অপেক্ষা করছে ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় লোকজনের শঙ্কা, ভেতরে আরও লাশ থাকতে পারে। নিহত ৮ শ্রমিকের মধ্যে ৫ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭), হাবিবুর রহমান (৫০) এবং দুই ভাই মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোয় পরিত্যক্ত জাহাজ ভেঙে-কেটে মূলত রড তৈরির লোহা সংগ্রহ করা হয়। সেখানে কাজটি অনিরাপদ পরিবেশে করা হয় বলে অভিযোগ বহুদিনের।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, দুই দফায় ওই কারখানা থেকে সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপর একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ঘটনাস্থলেও দুজনের মরদেহ রয়েছে।
কারখানার মালিকের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি কারখানার বাইরে ছিলেন। পরে কারখানা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে কাজ করার সময় ছয় থেকে আটজন শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত ৮ জনের লাশ চমেক হাসপাতালে আছে। আহতদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক আছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে আমাদের নিকটতম কুমিরা ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটছে। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের কুমিরা ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট, রেসকিউ ভ্যান, অ্যাম্বুল্যান্সসহ তারা এসেছে। তারা তিনটি লাশ এবং দুইজনকে প্রথমে উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিএসবিএ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। সবশেষে মুমূর্ষু অবস্থায় ফোরম্যানকে উদ্ধার করে আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এখানে এসে জানলাম, আমরা আসার দু-আড়াই ঘণ্টা আগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছু লোককে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করেছেন। এখন সাগরে সম্পূর্ণ জোয়ার চলছে। আমরা অ্যাম্বুল্যান্সসহ অপেক্ষা করছি জোয়ারের পানি নেমে ভাটা আসলে সর্বশেষ তল্লাশি (সার্চ) করব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আসার পর গ্যাসের বা কেমিক্যালের দুর্গন্ধ ছিল। জোয়ারের পানি ঢোকার পর থেকে দুর্গন্ধ নেই। কার্বন মনোঅক্সাইড বা কার্বন থেকে উপজাত গ্যাস থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি এলএনজিবাহী পুরাতন জাহাজ। ২০-২৫ বছরের পুরোনো জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হয়। জাহাজে এলএনজির অনেক উপজাত থাকে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের দেশে অনেক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড মালিক সাধারণত এটা করে না। দীর্ঘদিন এটা অব্যবহৃত পড়ে ছিল। কাটিংয়ের আগে রাসায়নিক ফ্রি করতে হয়। এখানে পাইপ কাটার জন্য যখন শ্রমিকেরা গেছেন সামনে যারা ছিল তারা মারা গেছেন, একটু দূরে যারা ছিলেন তারা আক্রান্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রামে গ্যাস না পেয়ে মুরাদপুর-ষোলশহর সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ চালকদের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ’ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোর থেকে নগরের ষোলশহর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেওয়ায় মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, দেখা দেয় তীব্র যানজট।

চালকদের অভিযোগ, নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘসময় ধরে ফিলিং স্টেশনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে গ্যাস পাচ্ছেন না, আর কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষও নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে অনুমোদিত সিএনজি অটোরিকশা আছে ১৩ হাজার। তবে চলছে প্রায় ২৫ হাজার গাড়ি। চালক আছেন ৩৫ হাজারের বেশি।
এ কারণে একটি অটোরিকশা দুই শিফটে ভাড়ায় চালান তারা। গত মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ জট।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরবরাহ নেমে আসে ১৮০ ঘনফুট।

সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হচ্ছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ে ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি হলেও বর্তমানে প্রায় ৪০০ এমএমসিএফডিতে নেমে এসেছে।
সরেজমিনে শুক্রবার সকালে ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশাকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকরা একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
একজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পাওয়ায় তিনি গাড়ি চালাতে পারছেন না, আর কখন গ্যাস মিলবে তা কেউ বলতে পারছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থেকে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।

আরেকজন চালক বলেন, শহরের সব ফিলিং স্টেশনেই একই অবস্থা-কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন। কর্তৃপক্ষ সংকটের সমাধান করতে না পারলে রাস্তায় নামা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজিতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদেরও কিছু করার নেই।

চালকরা জানান, গ্যাসের সংকটে শুধু তাদের আয়-রোজগারই বন্ধ হয়নি, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও। নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে, ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

সড়ক অবরোধের কারণে শুক্রবার সকাল থেকেই মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেইট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে, তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়তে রাজি হননি বিক্ষুব্ধ চালকরা।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ