আজঃ মঙ্গলবার ১৯ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের কদমতলী রেলগেটে ট্রেন-সিএনজি সংঘর্ষে চালক আহত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের কদমতলী রেলগেটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে।এতে সিএনজির চালক আহত হয়েছেন এবং অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কদমতলী রেলগেটে প্রায়ই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন পারাপারের ঘটনা ঘটে। তারা এ এলাকায় রেলক্রসিংয়ে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে আসা ৭৮৮ নম্বর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম স্টেশনের দিকে প্রবেশ করছিল। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। ট্রেনটি কাছে চলে এলেও দ্রুত পার হওয়ার চেষ্টায় সংঘর্ষ ঘটে।

ট্রেনের দায়িত্বে থাকা এক সদস্য জানান, সিএনজিটি লাইনে উঠে পড়লে লোকোমাস্টার বারবার হুইসেল বাজিয়ে সতর্ক করেন। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে ট্রেন থামানো সম্ভব না হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি।দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিটি রেললাইন থেকে সরিয়ে নেয়।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান বলেন, দুর্ঘটনায় সিএনজিচালক আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি চিকিৎসাধীন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণপরিবহনে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টানাতে হবে: সিএমপি কমিশনার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। সোমবার সকালে নগরের দামপাড়ায় সিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষ সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় ঈদযাত্রায় যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এর মধ্যে ঈদের আগে ও পরে তিন দিন করে মোট সাত দিন অর্থাৎ ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, বন্দরের মালামাল ও তৈরি পোশাক পরিবহনকারী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, গণপরিবহনে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টানাতে হবে এবং বাস টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে বিলবোর্ডে তা প্রদর্শন করতে হবে। নগরের দামপাড়া, অলংকার, একে খান, ইপিজেড, বন্দর, কাঠগড়, অক্সিজেন মোড়, বহদ্দারহাট, শাহ আমানত সেতু এলাকা ও কদমতলী টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করা হবে।এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, লক্কর-ঝক্কর ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন ঠেকানো এবং মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সড়ক পরিস্থিতি তদারকিতে সিএমপি, বিআরটিএ এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠনের সিদ্ধান্তও হয়। সভায় সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার নেছার উদ্দিন আহমেদ, নিষ্কৃতি চাকমা, মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান, মো. রইছ উদ্দিন, কবীর আহম্মেদ, মো. আলমগীর হোসেন ও মো. আমিরুল ইসলামসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে ব্র্যাকের ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে ৮ হাজার ৫০৭টি পরিবারের চেহারা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতি ৬ জন বাসিন্দার মধ্যে ১ জনের কাছে ব্র্যাকের সেবা পৌঁছেছে। এ বিভাগে কর্মরত ১৫ হাজার ৯৮৪ জন কর্মী ব্র্যাকের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, এদের মধ্যে ৩৭ শতাংশই নারী। এ বিভাগে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৯১৫টি কার্যালয় এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ৩৯টি কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া আগামী ৫ বছরে ব্র্যাক সারাদেশে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নারী ও যুবসমাজকে কেন্দ্র করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং। এগুলো সামাজিক ব্যাধি। কিশোরদের বিপথগামী হওয়ার পথ বন্ধে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ করছি। আমার মনে হয়, নতুন বিল্ডিং কোডে প্রতিটি ভবনে শিশুদের খেলার জায়গা রাখা উচিত। তিনি ব্র্যাককে নগরের অন্তত দুইটি খেলার মাঠ, দুই ওয়ার্ডের ডোর টু ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।আলোচনা করেন ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদ। ব্র্যাকের সমন্বিত কর্মসূচির সিনিয়র ম্যানেজার আঞ্জুমান আরা বেগম চট্টগ্রামে বিভাগে ২০২৫ সালে ব্র্যাকের কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ হাজার ৫০৭টি অতি-দরিদ্র পরিবার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে এবং ১০ হাজার ৩৯৪টি পরিবার অতিদারিদ্র্য থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু-সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৬৪ জন এবং ৪৭১জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সহায়তা পেয়েছেন। মাইক্রোফইন্যান্সের আওতায় আর্থিক সেবা পেয়েছেন ২৭ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৫ জন সদস্যের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। এ ছাড়া ১ হাজার ১৭৬ জন বেকার যুবককে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্যক্রমের মাধ্যমে ২ লাখ ৩ হাজার ৮২২ জন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সেবা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন। ৩১ হাজার ২০২ জন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় এসেছেন। এ ছাড়া ১৩ হাজার ৬৬৬ জন গর্ভবতী নারী পূর্ণাঙ্গ প্রসবপূর্ব সেবা পেয়েছেন এবং ৭ হাজার ২১৩টি নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩৮ হাজার ৬০৪ জনের চক্ষু পরীক্ষা এবং ১০ হাজার ১১৯টি চশমা বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিভাগে ১৫০টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী এবং ১৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৪৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ১১ হাজার ৬০ জন, যার মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী। মানবপাচার থেকে ফিরে আসা ১ লাখ ৭২ হাজার ১৯৩ জন ব্যক্তি সচেতনতা, শারীরিক-মানসিক ও আর্থিক পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন।

৮ লাখ ১৪ হাজার ৪৫৩টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং ৩০৫ জন নারী জীবিকা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও আইনি সহায়তার অংশ হিসেবে ২৯ হাজার ৭৫৪ জন আইনি সহায়তা পেয়েছেন এবং ৫৮টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে। ৭৭ জন নারী ও ৬৫ জন পুরুষ যুব চেঞ্জমেকার হিসেবে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
এ বিভাগে আড়ংয়ের ৬টি আউটলেট, আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের ১টি উৎপাদন কেন্দ্র ও ১৬টি উপকেন্দ্র, ব্র্যাক ফিশারিজের ১টি হ্যাচারি এবং ব্র্যাক টি-এর ১টি চা বাগান পরিচালিত হচ্ছে। ব্র্যাক আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশনের মাধ্যমে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১০৬টি গবাদিপশুকে কৃত্রিম প্রজনন সেবা দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সিনিয়র সাংবাদিক নাজিমুদ্দীন শ্যামল, ড. জিনবোধি ভিক্ষু, প্রফেসর মিজানুর রহমান, উইম্যান চেম্বারের সহ-সভাপতি সুলতানা নুরজাহান রোজী প্রমুখ।
ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ বলেন, ব্র্যাকের কর্মকাণ্ডের ৮০ ভাগের বেশি নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়, দাতাদের সহায়তা ১৮ থেকে ১৯ ভাগ। ব্র্যাক তাই নিজেদের সিদ্ধান্তেই দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে উন্নয়নমূলক যে কোনো কাজ হাতে নিতে পারে। এ জন্য কারো অনুমোদন বা পরামর্শের প্রয়োজন হয় না। ব্র্যাকের বিস্তৃতি আজ বিশ্বজুড়ে, তবে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষ। ব্র্যাকের জন্ম বাংলাদেশে, এটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলেন, ব্র্যাকের অন্যতম দর্শন হচ্ছে, মানুষের ভেতরের অমিত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলা এবং তা এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করা। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাঠান মো. সাইদুজ্জামান (শিক্ষা ও আইসিটি) বলেন, সরকারের পর যে প্রতিষ্ঠানটি তৃণমূলে সবচেয়ে বেশি সুসংগঠিত, সেটি হচ্ছে ব্র্যাক। ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দেশের ৭০ ভাগ মৃত্যুর কারণ হচ্ছে অসংক্রামক রোগ। এ থেকে পত্রিাণ পেতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হেলথ এডুকেশন বা স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষার প্রয়োজন, যেখানে ব্র্যাক এগিয়ে আসতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক মো. নাজিমুল হক বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিচ্ছন্নতাসহ নানা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে এনজিওগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সেই ধারাবাহিতা রক্ষার জন্য তিনি ব্র্যাকসহ দেশের সকল এনজিওর প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ