আজঃ রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে জরাজীর্ণ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরে কমেছে দর্শনার্থী, সংস্কার জরুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদে জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিগত ৬০ বছরেও এই জাদুঘরে ছোঁয়া লাগেনি উন্নয়নের।এশিয়া মহাদেশে দুটি জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের মধ্যে এই একটি জাদুঘরে একের পর এক দর্শনাথী কমে গেছে। খসে পড়ছে জাদুঘর ভবনটির দেয়ালের পলেস্তারা। জাদুঘরে একটি গ্রন্থাগার থাকলেও তার অবস্থা আরও নাজুক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘর ভবনটির অবস্থাও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে, দেয়াল বেয়ে গ্যালারিতে পানি পড়ে বললেন দায়িত্বরত এক কর্মী। গ্যালারিগুলো ধুলাবালিতে অপরিচ্ছন্ন। দেখে মনে হয় দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা হয়নি কক্ষগুলোর গ্যালারিসহ প্রদর্শিত উপকরণ। কোন কোন আলোকচিত্র ছিঁড়ে পড়েছে গ্যালারির ভিতরে। অযত্ন-অবহেলায় বিবর্ণ হয়ে পড়েছে জাদুঘরে সংরক্ষিত সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো।

তাছাড়া, জাদুঘরে জায়গা স্বল্পতার কারণে সংগৃহীত অধিকাংশ নিদর্শন গ্যালারিতে প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি। যার কারণে, প্রায় তিন হাজার নিদর্শন গ্রন্থাগারের পাশের স্টোরে রাখা হয়েছে । কিন্তু সেখানেও যথেষ্ট অবহেলার ছাপ দেখা গেছে। ধুলাবালি জমে নষ্ট হওয়ার পথে এসব নিদর্শন। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে অল্প সংখ্যক দর্শনার্থীকে দেখাগেছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, রোববার ছাড়া সপ্তাহের ৬দিনই খোলা থাকে জাদুঘরটি। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থী আসে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছকে এক দর্শনার্থী বলেন, এই ডিজিটাল যুগে এসেও জাদুঘরের আধুনিকায়ন নেই।

পর্যাপ্ত লাইট, ফ্যান বা আলো-বাতাস নেই। নেই আসবাবপত্রে নতুনত্ব।তবে প্রায় ৬০ বছর আগে স্থাপিত ঐতিহাসিক এ জাদুঘরটি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে আজও অজানা পড়ে আছে। ছোঁয়া লাগেনি আধুনিকতার। সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটির এখন অত্যন্ত বেহাল অবস্থা।

জাদুঘরের উপ-পরিচালক মো. আমিরুজ্জামান জাদুঘরের মূল ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবেই কোন কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া লোকবলেরও সংকট রয়েছে। ফিল্ড অফিসারের পদ শূন্য থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে উপকরণ বা নিদর্শন সংগ্রহের কাজ করা যাচ্ছে না। সহকারী পরিচালকের পদও শূন্য। কুমিল্লা আঞ্চলিক অফিস থেকে মেরামত-সংস্কারের কাজ করা হয়। টিকেট বিক্রির টাকাগুলোও রাজস্ব তহবিলে জমা দিতে হয়। ফলে জরুরি মেরামত কাজের জন্যও আঞ্চলিক অফিসের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।

পর্যবেক্ষকমহল বলছেন, কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে জাদুঘরটি দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত করা সম্ভব। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বেহাল দশার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাব ও লোকবল সংকটকে দুষছেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপন, সাংস্কৃতিক আচার, ঐতিহ্যের নমুনা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ১৯৬৫ সালে নির্মিত জাদুঘরটি ১৯৭৪ সালে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয়। বর্তমানে জাদুঘরটিতে বাংলাদেশের ২৩টি জাতিগোষ্ঠীর পাশাপাশি পাকিস্তানের কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর নিদর্শন রয়েছে। বাঙালি জাতিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপন, সাংস্কৃতিক আচার, পোশাক, অলংকারের নিদর্শন রয়েছে এতে। আলোকচিত্র, মডেল, নমুনার মাধ্যমে

জাতিগোষ্ঠীগুলোর নিজস্বতা তুলে ধরা হয়েছে। জাদুঘরের কর্মকর্তারা জানান, ভারতের কয়েকটি জাতিগোষ্ঠী, জার্মানির বার্লিন প্রাচীরের টুকরো, কিরগিজস্তান, অস্ট্রেলিয়া জাতিগোষ্ঠীর কিছু নিদর্শনও রয়েছে। এক দশমিক ৩৭ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরটিতে মোট ১১টি কক্ষ রয়েছে। এক নম্বর গ্যালারির প্রথম কক্ষে রয়েছে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবনযাপনের বিভিন্ন চিত্র ও নমুনা। দ্বিতীয় কক্ষে উপস্থাপন করা আছে পাকিস্তানের পাঠান, পাঞ্জাবসহ চারটি জাতির পোশাক, হস্তশিল্প, অস্ত্র, বাদ্যযন্ত্রের নমুনা। জাদুঘরের কেন্দ্রীয় গ্যালারিতে রয়েছে বিভিন্ন জাতির ব্যবহৃত অলংকারের নিদর্শন।
বাকি কক্ষগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীকে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ৩ হাজার ২০০ এর মতো নিদর্শন আছে জাদুঘরটিতে। তবে, সরকারি গেজেটে তালিকাভুক্ত প্রায় অর্ধেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিত্ব এখানে নেই। চারটি গ্যালারিসহ ১১টি কক্ষ বিশিষ্ট জাদুঘরের প্রদর্শনীগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের ১২টিসহ দেশের ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সংস্কৃতি তুলে ধরে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো হলো: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, চাক, তংচঙ্গ্যা, মুরং, খুমি, গারো, বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, মনিপুরী, খাসিয়া, ওরাওঁ, হাজং, মান্দাই, ডলু, হোদি, বোনা, পোলিয়া, কোচ, রাজবংশী, সাঁওতাল, মুন্ডা ও হো।

জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় ১২টি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী জাতিসত্তার বসবাস। অথচ জাতি তাত্ত্বিক জাদুঘরের সাথে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষও পরিচিত নয়। খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক জীতেন চাকমা বলেন, একই মন্ত্রণালয়ের হলেও জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের সাথে তাদের তেমন কোন যোগাযোগ নেই। অথচ প্রতিষ্ঠান দুটির সমন্বয় বা সম্পর্ক থাকলে জাদুঘর অনেক সমৃদ্ধ হতো।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা সুরেশ মোহন ত্রিপুরা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতে প্রচার প্রচারণার প্রয়োজন। এছাড়া জাদুঘরটিতে যেসব নিদর্শন রয়েছে বছরের পর বছর ধরে একইভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এদিকে, জাদুঘরে পার্বত্য চট্টগ্রামের মং বা মান রাজ পরিবারের কোন তথ্য বা উপকরণ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মং রাজ পরিবারের সদস্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কুমার সুইচিং প্রু। তিনি বলেন, মং রাজ পরিবারের কিছুই সংগ্রহে রাখা হয়নি জাদুঘরে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৪ সালে জাদুঘরটির প্রদর্শনী উন্নয়ন, সংগ্রহ বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। ঐ প্রকল্পের আওতায় একটি টিকিট কাউন্টার ও একটি স্যুভেনির শপ (দোকান) নির্মাণ করা হয়। জাদুঘরের ছাদ সংস্কার, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা সংযোজন ও একটি বড় জেনারেটর কেনা হয়। এ ছাড়া একটি দোতলা অফিস ভবন ও ডরমিটরি নির্মাণ করা হয়। সূত্র জানায়, মূল ভবনের বড় ধরনের কোন মেরামত কাজ হয়নি। অথচ ভবনটির মেরামত অত্যন্ত জরুরি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আশার আলো মানবিক ফাউন্ডেশন,চট্টগ্রাম কর্তৃক বার্ষিক মিলনমেলা,আলোচনা সভা,সম্মাননা প্রদান,ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

৩১ জানুয়ারি শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় আশার আলো মানবিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সংগঠনের শতাধিক সদস্যদের নিয়ে পারকিচর রয়েল পার্ক কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে বার্ষিক মিলন মেলা,ভোজ আলোচনা সভা,সম্মাননা প্রদান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়।এই উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন মোঃ আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন সালমানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা লেখক ও মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবক মোহাম্মদ আবু তাহের,শিক্ষিকা সেলিনা পারভীন,প্রবীর কুমার চৌধুরীসহ প্রমুখ।

সংগঠনের পক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিসহ আরো উপস্থিত ছিলেন জীবন চৌধুরী, মোঃ এমরান, শরীফুল ইসলাম,রেশমা আমিন,সাইফুল ইসলাম সিকদার,মোঃ ইলিয়াস রিপন, এম এ মোতালেব আব্দুর নুর, মোহাম্মদ নুর, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, হাজী মাইনদ্দীন, মনজুর আহমদ, হাসমত আলী মনা , মোঃ সেলিম, মোঃ আল আমিন, মোঃ জসিমউদদীন রকি, নাছিমা বেগম, আবদুর রউফ, বাবুর্চিরুনায়েত, আমিন সাদমান, সাইদুল চৌধুরী, অনুপম বরুয়া, গোলাম মোস্তফা খান সহ আরো অনেকে। দিনব্যাপী নারী, পুরুষ ও শিশু কিশোরদের মধ্যে নানা ধরনের খেলার আয়োজন করা হয়।আয়োজন শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করা হয়।আমন্ত্রিত অতিথি সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন,মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ নেই বললে চলে।

আমরা আজ যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি এবং যাদের আত্মত্যাগে পেয়েছি,তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান করে ও আগামীতে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীণ,দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করতে সামাজিক সংগঠন সমুহের বার্ষিক মিলন মেলা সহ এই ধরনের আয়োজনের এর কোন বিকল্প নেই।তিনি এই ধরনের আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।তিনি আরো বলেন,এই সংগঠন প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিভিন্ন মানবিক ও সমাজ উন্নয়ন মুলক কাজ করে আসছে।

একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় তার অর্থ বা প্রতিপত্তির মাধ্যমে নয়, বরং সে অন্যের জন্য কতটা উদার,উপকারী হতে পারে তার মাধ্যমে। সমাজে দুঃস্থ, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হচ্ছে প্রকৃত মানব সেবা।মানব সেবা এমন এক দোয়া, যা মুখে নয়, কারো চোখের জল মুছে দিলে তার নিঃশব্দ প্রার্থনা আপনার ভাগ্য বদলে দিতে পারে।সভাপতি আগামীতে যার যার অবস্থান থেকে মানবিক হয়ে মানুষের কল্যানে দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে কাজ করার আহবান জানান ও ধন্যবাদ জানান।

চট্টগ্রাম মহানগরের ১৬ থানায় ৬০৭টি ভোট কেন্দ্রর মধ্যে ৩০৮টি ঝুঁকিপূর্ণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের ১৬টি থানায় ৬০৭টি ভোট কেন্দ্রর মধ্যে ৩০৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এসব থানাগুলোর মধ্যে বন্দর থানা এলাকায় কোন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র না থাকলেও আকবরশাহ থানার ২২টি কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ন বলে পুলিশ চিহ্নিত করেছে। নগরের এসব থানার মধ্যে চারটি সংসদীয় আসন ও হাটহাজারীর আংশিক এলাকা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নগর পুলিশ।এদিকে ঝুঁকি মোকাবেলায় এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ভোটের চারদিন আগে থেকে এবং ভোটের পরবর্তী দুই দিন মিলিয়ে মোট ছয়দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে।

নগর পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, সবেচেয়ে বেশি অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে খুলশীতে। সেখানে ৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বন্দর থানা এলাকায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোনো কেন্দ্র নেই। আকবরশাহ থানার ২২টি কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলোই অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নগর পুলিশের করা তালিকা অনুযায়ী- নগরীর চারটি আসন ও হাটহাজারীর আংশিক নির্বাচনী এলাকার ১৬ থানায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬০৭টি। ভোটকেন্দ্রগুলোকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ- এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩০৮টি কেন্দ্রকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে কোতোয়ালী থানার ৫২ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এছাড়া সদরঘাট থানার ২৩ কেন্দ্রের মধ্যে ১৫, চকবাজারের ১৬ কেন্দ্রের মধ্যে ৪, বাকলিয়ার ৩৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩, চান্দগাঁওয়ে ৫৬ কেন্দ্রের মধ্যে ২৭, পাঁচলাইশে ৩২ কেন্দ্রের মধ্যে ১৮, বায়েজিদে ৫৬ কেন্দ্রের মধ্যে ১৮, ডবলমুরিংয়ে ৪৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৮, হালিশহরে ৪২ কেন্দ্রের মধ্যে ৩২, পাহাড়তলীতে ২৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৯, ইপিজেডে ৩১ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩, পতেঙ্গায় ২৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৭ এবং কর্ণফুলী থানা এলাকায় ৪৭ কেন্দ্রের মধ্যে ১৯ কেন্দ্রকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পাঠানো পরিপত্রে বলা হয়েছে, অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ, একজন অস্ত্রধারী সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন সাধারণ আনসার, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, অস্ত্রসহ একজন সহকারী সেকশন কমান্ডার, লাঠিসহ চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষ আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ তিনজন পুলিশ সদস্য,

অস্ত্রসহ একজন সেকশন কমান্ডারসহ একজন আনসার সদস্য, প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, সহকারী সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার সদস্য ও চারজন মহিলা এবং ছয়জন পুরুষসহ ১০ জন আনসার সদস্য কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড (উপকূলীয় এলাকায়), র‌্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য নিয়োজিত থাকবে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, পুলিশ কমিশনার গুরুত্ব বিবেচনায় রিটার্নিং অফিসারের সাথে পরামর্শক্রমে প্রয়োজন অনুসারে ভোটকেন্দ্রে পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য সংখ্যা কম বেশি করতে পারবেন।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ