আজঃ মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বোয়ালখালীতে মাঠ জুড়ে শীতকালীন সবজি।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মাঠ জুড়েই এখন শোভা পাচ্ছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মুলা, সরিষা, টমেটা, পালংশাক, কপিশাক, লালশাকসহ রকমারি শীতকালীন শাক সবজি।

তবে ফুলকপি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা৷ অল্প সময়ে অধিক লাভের জন্য অনেকেই করেছেন ফুলকপি চাষ। বর্তমান বাজারে ফুলকপির ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন বিভিন্ন সবজিতে মাঠ ভরে গেছে।

এসব ফসল পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক কৃষাণীরা। ভোরে কোদাল, নিড়ানি, বালতি, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন ক্ষেত পরিচর্যায়। বিকেল অবধি মাঠে থেকে সবাই বাড়ি ফিরছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ২০ হেক্টরে বাঁধাকপি চাষ করেছেন কৃষকেরা। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে বাজারে শীতকালীন সবজি উঠলে ও এবার কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র দে।

তিনি বলেন, চাষিরা এখন জমি থেকে ফুলকপি তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। তাদের উৎপাদিত ফুলকপি স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বছরে ফুলকপির বাম্পার ফলন ও ন্যায্য দাম পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চাষিরা। কেউ অল্প অল্প করে ফুলকপি বাজারে বিক্রি করছেন। কেউ আবার চুক্তি ভিত্তিতে ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

খরণদ্বীপ এলাকার কৃষক রূপক দে বলেন, এবার অক্টোব মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৩৮ শতক জমিতে আগাম মন্টিন (জাপানি) জাতের ফুলকপি লাগিয়েছেন তিনি। সাথী ফসল হিসেবে লাগানো হয়েছে কোরিয়ান জাতের মিষ্টি কুমড়া । এক মাসের মধ্যে ফলন আসবে বলে জানান তিনি। সবকিছু মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমির সব ফুলকপি পাইকারি ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। খরচ বাদে আড়াই মাসে ৫৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।

আর ১০-১৫ দিন পর বিক্রির উপযুক্ত হবে হাইব্রিড স্নো-বক্স জাতের ফুলকপি ও এটলাস-৭০, এবং গ্লোরী- ১ জাতের বাঁধাকপি। এরপর আসবে স্নো-ওয়াইট জাতের ফুলকপি। যা মৌসুমের শুরু, মাঝামাঝি ও শেষ সময়ে বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে খরচ বাদে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।ফুলকপি বিক্রি করে আবার অন্য ফসল লাগানো হবে বলে জানান তিনি।

ফুল কপি চাষে লাভবান হওয়ার কথা জানিয়েছেন একই এলাকার কৃষক সুবল দে, ঝুন্টু দে, করলডেঙ্গা কৃষক আব্দুল হালিম, মো জামাল উদ্দিন, জৈষ্টপুরা গ্রামের কৃষক মো ইছাকসহ অনকেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো শাহানুর ইসলাম বলেন বোয়ালখালীতে এবার শীতকালীন ২৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মন্টিন ( জাপানি), স্নো বক্স, স্নো ওয়াইড, ওয়াইড কুইন জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ অঞ্চলের মানুষ আধুনিক সবজি চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। এছাড়া কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারে ও কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ প্রদানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে রয়েছেন। চাষিরা শীতকালীন ফুলকপি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। তারা ফুলকপি চাষ করে দাম ও ফলন দুটোই ভালো পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নেত্রকোনায় এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ধান চাষের উপকরণ বিতরন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর বাস্তবায়নে নেত্রকোনার ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ধান চাষের উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর( ৯ জানুয়ারী২০২৬) বাদেবিন্না গ্রামে স্হানীয় চল্লিশ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাদেবিন্না গ্রামে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এলএসটিডি প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের ধানের বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোনার প্রধান ও সায়েন্টিফিক অফিসার মোঃ খালিদ হাসান তারেক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিতরণকৃত এসব উপকরণ ব্যবহার করে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে নতুন জাতের ধান ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন সহজ হবে এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গবেষণাভিত্তিক এই সহায়তা ধান চাষে তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মাঠপর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বোয়ালখালীতে তীব্র শীতে ব্যস্ত কৃষক বোরো ধান রোপনে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পৌষ মাসের শেষের দিকে দেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির হলে বোয়ালখালী উপজেলায় বোরো ধান চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা।

উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠে দেখা গেছে, কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা সংগ্রহ করে জমিতে লাগাচ্ছেন, আবার কেউ সেচ পাম্প ও পাওয়ারট্রলির মাধ্যমে জমি সেচ ও প্রস্তুত করছেন। বিশেষ করে আমুচিয়া ইউনিয়নের বগাচড়া বিল এলাকায় ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কৃষক মো. আবদুল জলিল জানান, তিনি ৫০ কানি জমিতে বোরো ধান আবাদ করবেন। ‘চারা প্রস্তুত হলে ও প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হতে পারে, তাই কিছুদিন পর ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি,’ বলেন তিনি।

চলতি মৌসুমে ৩ কানি জমিতে বোরো চাষ করবেন একই এলাকার কৃষক রবিউল হোসাইন। তিনি জানান, এবার ব্রি ধান ৪৯, ৯২, ১০০ এবং স্থানীয় হাইব্রিড জাতের ধান বেশি হবে।

ধান রোপণের শ্রমিকরা জানান, ভোরে কুয়াশার মধ্যে চারা সংগ্রহ করে মাথায় করে জমিতে নিয়ে গিয়ে ধান লাগানো হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের দৈনিক আয় প্রায় ৮০০ টাকা। ‘শীতের মধ্যে এই কাজ করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে বলেন তারা।

বোয়ালখালী কৃষি অফিস সুত্রে জানায় চলতি বোরো মৌসুমে বোয়ালখালীতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৮০০ হেক্টর জমিতে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের ২০০ জন কৃষককে উপসী বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

‘উপজেলায় ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় ধান রোপণ শুরু হয়েছে। অনেকেই ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শতভাগ পুরোন হবে বলে আশা করছি। শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে,।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থার অবসান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে না হওয়ার ঘোষণা আসার পর চলমান লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানান।বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছিল চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ