আজঃ সোমবার ৬ এপ্রিল, ২০২৬

৪ নভেম্বর সু-সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪৩ তম জন্মদিন

এম জালাল উদ্দীন:পাইকগাছা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

৪ নভেম্বর সু-সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪৩ তম জন্ম বার্ষিকী। এ উপলক্ষে সাহিত্যিক ইমদাদুল হকের জন্মস্থান পাইকগাছায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে সোমবার সকালে উপজেলার নতুন বাজার চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সাহিত্যিকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, আলোচনা সভা ও পুরুষ্কার বিতরন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ শতকের সূচনালগ্নে যন্ত্রণাজর্জর এই যুগ-প্রতিবেশে বাংলা সাহিত্য-ক্ষেত্রে মুক্তচিত্ত-দ্রোহী এক আধুনিক শিল্পী রুপে আবির্ভূত হন কাজী ইমদাদুল হক। তিনি ছিলেন সংস্কারমুক্ত, উদার মানবতাবাদী, মননশীল এবং যুক্তিবাদী শিল্পদৃষ্টিসম্পন্ন ঔপন্যাসিক। কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথালালিত সামন্ত-মূল্যবোধে স্নিগ্ধ মুসলিম সমাজ-অঙ্গনে বাসন্তি হাওয়ার প্রত্যাশায় ইমদাদুল হক সাহিত্যক্ষেত্রে দ্রোহীসত্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তবু তিনি বিদ্রোহী নন, সমাজ ভাঙার ডাক নেই তার কর্মে-বরং মুসলিম সমাজের বিবিধ খণ্ডচিত্র আর গ্লানির অঙ্গন উপস্থাপন করেই তিনি তৃপ্ত থেকেছেন। মুসলমান সমাজের ক্ষয়িষ্ণু আর্দশ ও রীতিনীতির বিপরীতে স্বাধীনচেতা ও প্রগতিশীল শিক্ষিত মনের নব্যসমাজ প্রতিষ্ঠার বাসনাই তাঁর উপন্যাসে ঔপন্যাসিক প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করার প্রয়াস পেয়েছেন। চুয়াল্লিশ বছরের কর্মচঞ্চল জীবনে ইমদাদুল হকের প্রধান কীর্তি আবদুল্লাহ্ (১৯৩৩) উপন্যাস। একটিমাত্র উপন্যাস লিখে ইমদাদুল হক বাংলা সাহিত্যে রেখে গেছেন তার স্বতন্ত্র প্রতিভার স্বাক্ষর।

কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাজী আতাউল হক আসামের জরিপ বিভাগে চাকরি করতে করতেন এবং পরবর্তীতে খুলনার ফৌজদারি আদালতের মোক্তার নিযুক্ত হন।
১৯০৪ সালে খুলনা শহরে মৌলভী আব্দুল মকসুদ সাহেবের জ্যেষ্ঠ কন্যা সামসন্নেসা খাতুনকে বিয়ে করেন। কাজী ইমদাদুল হকের চার পুত্র ও ২ কন্যা- কাজী আনারুল হক, কাজী সামছুল হক, কাজী আলাউল হক, কাজী নুরুল হক এবং কন্যা জেবুন্নেছা ও লতিফুন্নেছা।
১৯০০ সালে কাজী ইমদাদুল হক কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ সম্পন্ন করেন। ১৯১৪ সালে তিনি বিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯০৪ সালে কাজী ইমদাদুল হক কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এর দুই বছর পর ১৯০৬ সালে আসামের শিলং বিভাগে শিক্ষাবিভাগের উচ্চমান সহকারী হিসেবে যোগ দেন। ১৯০৭ সালে তিনি ঢাকা মাদ্রাসার শিক্ষক হন। ১৯১১ সালে তিনি ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ভূগোলের অধ্যাপক হন। এরপর ১৯১৪ সালে ঢাকা বিভাগে মুসলিম শিক্ষা সহকারী স্কুল পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। ১৯১৭ সালে তাকে কলকাতা ট্রেনিং স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ১৯২১ সালে তিনি সদ্য প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বোর্ডের সুপারিন্টেনডেন্ট হন। আমৃত্যু তিনি এই পদে বহাল ছিলেন।
শিক্ষা বিভাগে বিভিন্ন কাজে অসামান্য দক্ষতা, গভীর দায়িত্ববোধ ও উদ্ভাবনী শক্তির স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯১৯ সালে খান সাহেব উপাধিতে ভূষিত করেন ও ১৯২৬ সালে তাকে খান বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে। খ্যাতিমান সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হক ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল এলো চট্টগ্রাম বন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। রোববার বেলা ১টার দিকে জাহাজটি পতেঙ্গার ৬ নম্বর ডলফিন জেটিতে ভেড়ানোর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

তিনি বলেন, ১৮৪ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ চীনের পতাকাবাহী জাহাজটি গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। তবে জাহাজটির ড্রাফট ১০ মিটারের বেশি হওয়ায় সরাসরি কর্ণফুলী নদীর বন্দর জেটিতে ভিড়ানো সম্ভব হয়নি।

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ড্রাফট কমাতে চারটি ছোট ট্যাংকারে লাইটারিং করে ৭ হাজার ৭২৭ টন ডিজেল খালাস করা হয়। পরে বন্দরের অভিজ্ঞ পাইলটের তত্ত্বাবধানে শক্তিশালী টাগবোটের সহায়তায় রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে জাহাজটি পতেঙ্গার ৬ নম্বর ডলফিন জেটিতে ভিড়ানো হয়।

জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন্সের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেন, ড্রাফট কমানোর জন্য চার দফায় লাইটারিং সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে জাহাজে থাকা বাকি ডিজেল খালাস সম্পন্ন হবে। ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আসা আরেকটি জাহাজ রোববার ডলফিন জেটি ত্যাগ করেছে।

নেত্রকোনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে খালে নামলেন এমপি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা পৌর শহরের খালে নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন এমপি ডা. আনোয়ারুল হক ও নেতাকর্মীরা।
ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। জনসচেতনতা বাড়াতে তিনি নিজেই খালে নেমে ময়লা পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনা পৌর শহরের জেলখানা রোড থেকে আবু আব্বাস কলেজ পর্যন্ত খালজুড়ে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি খালে নেমে ময়লা অপসারণে অংশ নেন এমপি।

অভিযান উদ্বোধনকালে ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। এসব রোগের প্রধান বাহক এডিস মশা, যা জমে থাকা নোংরা পানিতে জন্মায়। তাই প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আশপাশসহ খাল-বিল, ডোবা ও পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে নয়, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। আমরা যদি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, তাহলে অনেকাংশে ঝুঁকি কমে যাবে।এ সময় তিনি ‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ি’ এই স্লোগান সামনে রেখে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান, পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু, বিএনপি নেতা ফরিদ আহমেদ ফকির, মো. কামরুল হক, যুবদল নেতা সৈয়দ আজহারুল ইসলাম কমল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সারোয়ার আলম এলিনসহ ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে ছিল, যার ফলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এমপির এই উদ্যোগে খাল পরিষ্কার হলে পরিবেশ যেমন উন্নত হবে, তেমনি ডেঙ্গুর ঝুঁকিও কমবে বলে আশা করছেন তারা।

মাসব্যাপী এ কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌর এলাকার বিভিন্ন খাল ও নালা পরিষ্কার করা হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আলোচিত খবর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি পাচ্ছে ৩৬,জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট -১৩,স্বতন্ত্র -১।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্বাচন কমিশন (ইসি)জানিয়েছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি জোট পাচ্ছে ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা একত্র হয়ে একটি আসন পেয়েছেন।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য
সোমবার (৬ এপ্রিল) কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান।তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
ইসির সূত্র অনুযায়ী, আসন বণ্টনে জোটগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিএনপির সঙ্গে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলেই বড় অংশ পেয়েছে। অপরদিকে জামায়াতের সঙ্গেও রয়েছে কয়েকটি সহযোগী দল, যাদের সমন্বয়েই তাদের প্রাপ্ত আসন নির্ধারিত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জোট গঠন করে একটি আসন নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ