ইজিপ্টে ইকামাহীনদের বিরুদ্ধে অভিযান, অনিশ্চয়তার মুখে আজহারি ছাত্রসমাজ।

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইদানীং মিসরে ইকামা (আবাসিক অনুমতি) বিহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে আল-আজহার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যেখানে ইকামা বিহীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বহু বাংলাদেশি নাগরিককে মিসরীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে হেফাজতে নিয়েছে। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের স্বাভাবিক পদক্ষেপ মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের জটিল ও উদ্বেগজনক এক বাস্তবতা, যা ধীরে ধীরে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।

মিসরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই চক্র বাংলাদেশ থেকে মানুষ এনে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখায় এবং নৌপথে ইজিপ্ট হয়ে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার আগেই মিসরীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এর ফলে একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে বাংলাদেশিরা প্রশাসনিক সন্দেহের আওতায় চলে যাচ্ছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তি নিজেদের ছাত্র পরিচয় ব্যবহার করছে। এমনকি কিছু বাংলাদেশি অবৈধ ব্যবসায়ী ছাত্রদের নাম ব্যবহার করে বা ভুয়া ছাত্র পরিচয়ে এই নোংরা ব্যবসার অংশ হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও গ্রুপ খুলে আকর্ষণীয় পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দিন দিন এই ধরনের তৎপরতা বেড়েই চলেছে, যা মিসরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মিসরীয় প্রশাসন বিষয়টিকে শুধু অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে না; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, মানবপাচার রোধ এবং জীবন রক্ষার প্রশ্ন হিসেবেই দেখছে। সে কারণেই ইকামাহীনদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অভিযানের প্রভাব নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের জীবনেও এসে পড়ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী ছাত্রদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইকামা ও কাগজপত্র দ্রুত হালনাগাদ করা, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও অনলাইন প্রলোভন থেকে দূরে থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাই এখন একমাত্র নিরাপদ পথ।

ইজিপ্টে আগত শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যেই এখানে অবস্থান করছেন—তারা কোনো অপরাধী নন। কিন্তু কিছু অসাধু ও লোভী চক্রের কারণে পুরো একটি সম্প্রদায় আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন অপরাধ নীরবে বাড়ে, তখন তার মূল্য অনেক সময় নিরপরাধকেও দিতে হয়।

এই সংকট কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি সচেতনতা, নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধেরও এক কঠিন পরীক্ষা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সৌদি আরবে প্রবাসীদের পরিবার মৃত্যুদণ্ডের পর মৃতদেহ ফেরত পাচ্ছে না

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরবে প্রবাসীদের পরিবার মৃত্যুদণ্ডের পর মৃতদেহ ফেরত পাচ্ছনা। গত ২৩ জুন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ ইথিওপিয়ানের মধ্যে রয়েছেন – তাদের মৃতদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি।ছেলে কিনফে আরেগাউই এবং সিগাবু গেব্রেমারিয়াম পরিবার হিসেবে সান্ত্বনা পেতে আমরা এই সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা করেছি। কিন্তু আমি আমার সান্ত্বনা পাবো না,বলছিলেন কিনফে আরেগাউই নামের একজন বাবা।তিনি তার নিজের ছেলে কিব্রমের জন্য শোক জানাচ্ছিলেন।

এটি আমার জন্য সারাজীবনের দুঃখ হয়ে থাকবে।
সৌদি আরবে গাঁজা পাচারের দায়ে চলতি বছরের জুনে যে পাঁচজন ইথিওপিয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।তাদের একজন কিব্রম কিনফে আরেগাউই।
বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, চীন ও ইরানে। তারপরই সেখানে সৌদি আরবের অবস্থান।

কিনফের মতো অনেক ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের বিশ্বাসের একটি অপরিহার্য উপাদান হলো আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় নিয়মে সমাহিত করা।
২৫ বছর বয়সী এই তরুণের শেষকৃত্য এভাবে করা সম্ভব হয়নি, কারণ তার মৃতদেহ দেশে তার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়নি।

হুতিদের দখলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। তাদের এই অগ্রগতিতে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতিদের অগ্রগতিতে বিশ্বজুড়ে নৌপরিবহন নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।হুতিদের এই সামরিক সাফল্যের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। এরই মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিবহনে অনিশ্চয়তা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অস্থিতিশীল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এর নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো ধরনের সংকট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ