আজঃ মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভারত শতাধিক যুদ্ধবিমান কিনে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অস্ত্রচুক্তির পথে…

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক

এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ১১৪টি রাফালের মধ্যে ১০০টি যুদ্ধবিমান ভারতে উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একবারে শতাধিক যুদ্ধবিমান কিনে ভারত ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অস্ত্রচুক্তির পথে চলেছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট কর্মসূচির আওতায় ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি রুপির একটি চুক্তি এই সপ্তাহেই দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেতে পারে।

চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কেনার চুক্তি। এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ১১৪টি রাফালের মধ্যে ১০০টি যুদ্ধবিমান ভারতে উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে। চুক্তিটি কার্যকর হলে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের অন্যতম বৃহৎ অপারেটর হিসেবে আরও সুদৃঢ় হবে ভারতের অবস্থান।রাফায়েল একটি দ্বি-ইঞ্জিন বিশিষ্ট মাল্টি-রোল ফাইটার জেট, যা বিশ্বে সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও নিখুঁত হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে ভারতের কাছে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান রয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ ‘সি’ ভ্যারিয়েন্ট রাফায়েল গ্রহণ করেছে।


নৌবাহিনীর এই চুক্তির আওতায় চারটি টুইন-সিট ট্রেইনার বিমান, বহরের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, লজিস্টিক সহায়তা এবং স্থানীয় এমআরও চুক্তির অধীনে জনবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই রাফায়েল ‘এম’ যুদ্ধবিমানগুলোর ডেলিভারি ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাফায়েল ‘এম’ ভ্যারিয়েন্টগুলো ভারতের বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত এবং আইএনএস বিক্রমাদিত্যে মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে, বিমান বাহিনীর জন্য সরবরাহকৃত ‘সি’ ভ্যারিয়েন্ট রাফালগুলো দুইটি স্কোয়াড্রনে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘গোল্ডেন অ্যারোজ’ নামে পরিচিত নম্বর ১৭ স্কোয়াড্রন অবস্থান করছে আম্বালায়। আর নম্বর ১০১ স্কোয়াড্রন ‘ফ্যালকনস’, মোতায়েন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারায়।এই রাফায়েল যুদ্ধবিমানগুলো ইতোমধ্যেই বাস্তব যুদ্ধাভিযানে অংশ নিয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে পেহালগাম সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুরে’ এগুলো ব্যবহৃত হয়। যদিও পাকিস্তানে চালানো ওই অভিযানে পাল্টা আঘাতে কয়েকটি রাফায়েল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধ্বংস করার দাবি করে ইসলামাবাদ।

অপারেশন সিঁদুর চলাকালে মোতায়েনকৃত রাফায়েল যুদ্ধবিমানগুলো থেকে এসসিএএলপি এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত নিখুঁত ও স্টেলথ সক্ষমতার জন্য পরিচিত, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। রাফায়েল যুদ্ধবিমানগুলো মিটিওর দীর্ঘপাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, হ্যামার স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক অস্ত্র, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট ‘স্পেকট্রা’ পাশাপাশি অত্যাধুনিক রাডার ও টার্গেটিং সিস্টেম বহনে সক্ষম।

এর আগে গত বছরের জুন মাসে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিগুলো ফরাসি নির্মাতা দাসো অ্যাভিয়েশন এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেডের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জন্য রাফায়েল সরবরাহের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই চুক্তির অংশ হিসেবে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস হায়দরাবাদে একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করবে। সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত অংশ তৈরি করা হবে।

সূত্র -এনডিটিভি-
সংকলনে -বাংলা খবর পত্রিকা /banglakhaborpatrika

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইরানের তেল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ভারত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইরানের তেল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ভারত। সেদেশের কোস্টগার্ড আন্তর্জাতিক তেল পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে আরব সাগরে অভিযান চালিয়ে নৌযানগুলো আটক করে। জাহাজগুলো মুম্বাইয়ের পশ্চিমে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে আটক করা হয়।ভারতের কোস্টগার্ড জানায়-আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৬ ফেব্রুয়ারি জাহাজ তিনটি শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে-আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাঝসমুদ্রে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহন করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। আমাদের অভিযানের পর জাহাজগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মুম্বাই বন্দরে নেওয়া হচ্ছে।
খবর- মিডল ইস্ট আইয়ের।

থাইল্যান্ড উপকূলে ডুবে গেছে বাংলাদেশমুখী পণ্যবোঝাই জাহাজ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মালয়েশিয়া থেকে পণ্যবোঝাই কন্টেইনার নিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রাকালে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে একটি কন্টেইনার জাহাজ ডুবে গেছে। পানামার পতাকাবাহী জাহাজটিতে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে থাই নৌবাহিনী।  শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ‘এমভি সিলয়েড এআরসি’ নামের জাহাজটি হঠাৎ কাত হয়ে ডুবতে শুরু করে। এ সময় জাহাজে থাকা দুই শতাধিক কন্টেইনার সাগরে ছড়িয়ে পড়ে।

আলোচিত খবর

গ্রীন পোর্ট হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, এটা বড় ধরনের মাইলফলক : চেয়ারম্যান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর গ্রীন পোর্ট হবে, এটা বড় ধরনের মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো উদ্বোধনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এনবিআর, কাস্টমস ও পোর্ট সংক্রান্ত সব সেবার জন্য পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো (সিপিএ স্কাই) চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দরের অটোমেশনের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করছি।

চুয়েট অত্যন্ত সহযোগিতা করেছে।পুরো টিম এ জটিল কাজটি সময়মতো সুচারুরূপে করতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথিবীর সব পোর্ট ডিজিটাল, অটোমেটেড হয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল করিডোরে যে ট্রানজেকশন হচ্ছে লজিস্টিক সেক্টরে সেটি থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম।
অনেকে বলে আমাদের তো টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম আছে, এনবিআরের অ্যাসাইকুডা সিস্টেম আছে। কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি আমাদের পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ছিল না।একটা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে পুরো দেশের জন্য। সেটি এনবিআর করছে।

বন্দর চেয়ারম্যানবলেন,আরেকটি মেরিটাইম সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে। ডিজি শিপিং করছে। আমরা যেটি করেছি সেটি হচ্ছে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম। এখানে সব সংস্থা সংযুক্ত। এক প্লাটফর্মে এসেছে।আগে যে কাজগুলো ফিজিক্যালি করতে হতো, টেবিলে, ডেস্কে, কাস্টমস, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডের কাছে যেতে হতো এখন এই কাজগুলো ডিজিটাল প্লাটফর্মে হচ্ছে। যার ফলে আগে যে কাজে পাঁচ দিন লাগত এখন তা আধঘণ্টায় হবে। এতে আমাদের সময় বেঁচে যাবে, ফার্স্ট হবে, কার্গো, ডেলিভারি, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম অনেক কমে আসবে। এতে আমাদের মুভমেন্ট কমে যাবে।

গ্রীন পোর্ট হবে। এটা বড় ধরনের মাইলফলক। সারা পৃথিবী জেনে যাবে আমাদের চট্টগ্রাম পোর্ট ডিজিটাল পোর্ট হয়ে গেল এবং আন্তর্জাতিক মানের প্লাটফর্মে, ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোরে আমরা ডাইরেক্ট কানেক্টেড হলাম। কাস্টমসের ইজিএম, আইজিএম কাজগুলো এটার মাধ্যমে করা যাবে। প্রিঅ্যারাইভাল প্রসিডিওর হবে।

তিনি বলেন,আগে আমদানি পণ্য দেশে আনার পর ডেলিভারি প্রক্রিয়া শুরু হতো। কাস্টমস ফরমালিটি, গেটপাস করে ডেলিভারি হতো। এখন লোড পোর্ট থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে হবে। আর কোনো টেনশন থাকলো না। ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন যেখান থেকে ইচ্ছে কাজগুলো করা যাবে। আমাদের অফিশিয়াল ফাংশন হবে ডিজিটাল। আমরা পেপারলেস হয়ে যাব। আমি বলে দিয়েছি, আমি টেবিলে পেপার দেখতে চাই না। আর কিছু দিন সময় লাগবে অভ্যস্ত হতে।

বন্দর চেয়ারম্যান আরো বলেন, নতুন সিস্টেমে অ্যাকাউন্টবিলিটি নিশ্চিত হবে। আগে অ্যাকাউন্টিবিলিটির প্রশ্ন থাকত, অনেক সময় মিস ম্যানেজমেন্ট হতো, ডেলিভারি ডিলে হতো এর কারণে ভোক্তারা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো। এখন আমাদের কার্গো, টার্ন অ্যারাউন্ড টাইমসহ টোটাল প্রোডাক্টিভিটি এখন যা আছে সবই বেড়ে যাবে। এ প্লাটফরম ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দিল। যার সুফল ৫০-১০০ বছর এদেশের মানুষ পাবেন।

তিনি বলেন, পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডোর হেল্প ডেস্ক রাখব। কয়েকটা ক্যাম্পেইন করেছি। এজেন্ট ডেস্ক করেছি। এ সেবার জন্য ন্যূনতম চার্জ দিতে হবে। ঢাকা চট্টগ্রামে কল সেন্টারের মতো এজেন্ট ডেস্ক হওয়া উচিত। এ সুবিধা না থাকলে যে কাজে পাঁচ সাত দিন লাগত তা আধঘণ্টায় হয়ে যাবে। অনেক খরচ সাশ্রয় হবে। সব মিলে আমি বলবো এটি বাস্তবমুখী, যুগান্তকারী এবং ব্যবহার উপযোগী প্লাটফর্ম।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ