আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

ভারত শতাধিক যুদ্ধবিমান কিনে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অস্ত্রচুক্তির পথে…

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক

এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ১১৪টি রাফালের মধ্যে ১০০টি যুদ্ধবিমান ভারতে উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একবারে শতাধিক যুদ্ধবিমান কিনে ভারত ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অস্ত্রচুক্তির পথে চলেছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট কর্মসূচির আওতায় ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি রুপির একটি চুক্তি এই সপ্তাহেই দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেতে পারে।

চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কেনার চুক্তি। এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ১১৪টি রাফালের মধ্যে ১০০টি যুদ্ধবিমান ভারতে উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে। চুক্তিটি কার্যকর হলে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের অন্যতম বৃহৎ অপারেটর হিসেবে আরও সুদৃঢ় হবে ভারতের অবস্থান।রাফায়েল একটি দ্বি-ইঞ্জিন বিশিষ্ট মাল্টি-রোল ফাইটার জেট, যা বিশ্বে সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও নিখুঁত হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে ভারতের কাছে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান রয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ ‘সি’ ভ্যারিয়েন্ট রাফায়েল গ্রহণ করেছে।


নৌবাহিনীর এই চুক্তির আওতায় চারটি টুইন-সিট ট্রেইনার বিমান, বহরের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, লজিস্টিক সহায়তা এবং স্থানীয় এমআরও চুক্তির অধীনে জনবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই রাফায়েল ‘এম’ যুদ্ধবিমানগুলোর ডেলিভারি ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাফায়েল ‘এম’ ভ্যারিয়েন্টগুলো ভারতের বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত এবং আইএনএস বিক্রমাদিত্যে মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে, বিমান বাহিনীর জন্য সরবরাহকৃত ‘সি’ ভ্যারিয়েন্ট রাফালগুলো দুইটি স্কোয়াড্রনে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘গোল্ডেন অ্যারোজ’ নামে পরিচিত নম্বর ১৭ স্কোয়াড্রন অবস্থান করছে আম্বালায়। আর নম্বর ১০১ স্কোয়াড্রন ‘ফ্যালকনস’, মোতায়েন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারায়।এই রাফায়েল যুদ্ধবিমানগুলো ইতোমধ্যেই বাস্তব যুদ্ধাভিযানে অংশ নিয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে পেহালগাম সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুরে’ এগুলো ব্যবহৃত হয়। যদিও পাকিস্তানে চালানো ওই অভিযানে পাল্টা আঘাতে কয়েকটি রাফায়েল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধ্বংস করার দাবি করে ইসলামাবাদ।

অপারেশন সিঁদুর চলাকালে মোতায়েনকৃত রাফায়েল যুদ্ধবিমানগুলো থেকে এসসিএএলপি এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত নিখুঁত ও স্টেলথ সক্ষমতার জন্য পরিচিত, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। রাফায়েল যুদ্ধবিমানগুলো মিটিওর দীর্ঘপাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, হ্যামার স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক অস্ত্র, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট ‘স্পেকট্রা’ পাশাপাশি অত্যাধুনিক রাডার ও টার্গেটিং সিস্টেম বহনে সক্ষম।

এর আগে গত বছরের জুন মাসে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিগুলো ফরাসি নির্মাতা দাসো অ্যাভিয়েশন এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেডের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জন্য রাফায়েল সরবরাহের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই চুক্তির অংশ হিসেবে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস হায়দরাবাদে একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করবে। সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত অংশ তৈরি করা হবে।

সূত্র -এনডিটিভি-
সংকলনে -বাংলা খবর পত্রিকা /banglakhaborpatrika

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইরানের প্রাইমারি বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হা’ম’লায় নি’হ’তদের পরিবারকে ২ লাখ ডলার অনুদান  দেবে চীন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইরানের প্রাইমারি বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হা’ম’লায় নি’হ’তদের পরিবারকে ২ লাখ ডলার অনুদান  দেবে চীন।

আমিরাতে ‘আটকে পড়া’ প্রবাসীদের নিয়ে দেশের সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর: ক্ষোভে ফুঁসছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ‘অতিরঞ্জিত’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ খবরে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বিশেষ করে ‘দুবাইয়ে আটকে পড়া ৩৭৮ জন প্রবাসীকে ফিরিয়ে আনলো ইউএস-বাংলা’ এমন শিরোনামের সংবাদকে প্রবাসীরা ‘নাটক’ এবং ‘স্বাভাবিক যাত্রীদের আটকে পড়া শ্রমিক’ হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন।​এই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একে অত্যন্ত বিব্রতকর ও অসম্মানজনক বলে অভিহিত করছেন।

​আরটিভি আরব আমিরাত প্রতিনিধি সাফাওয়াত উল্লাহ তার ফেসবুকে একটি নিউজ পোর্টালের ফটোকার্ড শেয়ার করে লিখেছেন, দেশের মিডিয়ায় যা প্রচার হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত। ১২ লাখের বেশি বাংলাদেশি যে দেশে থাকে, সেখানে ১৮৯ জন কোথায় আটকে পড়েছিল? নিয়মিত যাত্রীদের নিয়ে প্রথমে ভারত নাটক দেখালো, এখন আপনারা দেখাচ্ছেন। মানুষ যেখানে টিকিট না পেয়ে দেশ থেকে দুবাই আসতে পারছে না, সেখানে আপনারা ফেরার হিড়িক দেখাচ্ছেন।

​প্রবাসী মুহাম্মদ মোরশেদ বিন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, আটকা পড়া’ মানে কী? আমরা কি কোথাও বন্দি হয়ে আছি? আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটে সামান্য বিলম্ব হওয়াকে ‘আটকা পড়া’ বলে প্রচার করা সম্পূর্ণ ভুল। এ ধরনের খবরে আমাদের পরিবার-পরিজন দেশে অযথা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।

​প্রবাসী শিল্পী বঙ্গ শিমুল বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে তিনি লিখেন, ৩৭৮ জন প্রবাসীকে ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে যে নিউজ করা হচ্ছে, আমার প্রশ্ন হলো এরা কোন জঙ্গলে আটকা পড়েছিল? আমরা ১২ লাখ প্রবাসী এখানে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপন করছি। এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক নিউজ আমাদের দেশের ইমেজ নষ্ট করছে।

​অন্যদিকে, মাসুদ মল্লিক নামের এক প্রবাসী এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে প্রবাসীদের নিয়ে এমন ‘আদিক্ষেতা’ বন্ধের অনুরোধ জানান।

​আমিরাতের প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা মনে করেন, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার অত্যন্ত দক্ষতা ও কঠোরতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বর্তমানে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা নিয়মিতভাবে তাঁদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

​নেতারা দেশের গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কয়েকশ নিয়মিত যাত্রীকে ‘আটকে পড়া’ তকমা দিয়ে ১২ লাখ প্রবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো সাংবাদিকতার নৈতিকতা পরিপন্থী। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে প্রবাসীদের পরিবারকে আশ্বস্ত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ