এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একবারে শতাধিক যুদ্ধবিমান কিনে ভারত ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অস্ত্রচুক্তির পথে চলেছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট কর্মসূচির আওতায় ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি রুপির একটি চুক্তি এই সপ্তাহেই দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেতে পারে।

চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কেনার চুক্তি। এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ১১৪টি রাফালের মধ্যে ১০০টি যুদ্ধবিমান ভারতে উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে। চুক্তিটি কার্যকর হলে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের অন্যতম বৃহৎ অপারেটর হিসেবে আরও সুদৃঢ় হবে ভারতের অবস্থান।রাফায়েল একটি দ্বি-ইঞ্জিন বিশিষ্ট মাল্টি-রোল ফাইটার জেট, যা বিশ্বে সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও নিখুঁত হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে ভারতের কাছে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান রয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ ‘সি’ ভ্যারিয়েন্ট রাফায়েল গ্রহণ করেছে।

নৌবাহিনীর এই চুক্তির আওতায় চারটি টুইন-সিট ট্রেইনার বিমান, বহরের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, লজিস্টিক সহায়তা এবং স্থানীয় এমআরও চুক্তির অধীনে জনবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই রাফায়েল ‘এম’ যুদ্ধবিমানগুলোর ডেলিভারি ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাফায়েল ‘এম’ ভ্যারিয়েন্টগুলো ভারতের বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত এবং আইএনএস বিক্রমাদিত্যে মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে, বিমান বাহিনীর জন্য সরবরাহকৃত ‘সি’ ভ্যারিয়েন্ট রাফালগুলো দুইটি স্কোয়াড্রনে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘গোল্ডেন অ্যারোজ’ নামে পরিচিত নম্বর ১৭ স্কোয়াড্রন অবস্থান করছে আম্বালায়। আর নম্বর ১০১ স্কোয়াড্রন ‘ফ্যালকনস’, মোতায়েন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারায়।এই রাফায়েল যুদ্ধবিমানগুলো ইতোমধ্যেই বাস্তব যুদ্ধাভিযানে অংশ নিয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে পেহালগাম সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুরে’ এগুলো ব্যবহৃত হয়। যদিও পাকিস্তানে চালানো ওই অভিযানে পাল্টা আঘাতে কয়েকটি রাফায়েল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধ্বংস করার দাবি করে ইসলামাবাদ।

অপারেশন সিঁদুর চলাকালে মোতায়েনকৃত রাফায়েল যুদ্ধবিমানগুলো থেকে এসসিএএলপি এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত নিখুঁত ও স্টেলথ সক্ষমতার জন্য পরিচিত, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। রাফায়েল যুদ্ধবিমানগুলো মিটিওর দীর্ঘপাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, হ্যামার স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক অস্ত্র, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট ‘স্পেকট্রা’ পাশাপাশি অত্যাধুনিক রাডার ও টার্গেটিং সিস্টেম বহনে সক্ষম।
এর আগে গত বছরের জুন মাসে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিগুলো ফরাসি নির্মাতা দাসো অ্যাভিয়েশন এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেডের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জন্য রাফায়েল সরবরাহের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই চুক্তির অংশ হিসেবে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস হায়দরাবাদে একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করবে। সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত অংশ তৈরি করা হবে।
সূত্র -এনডিটিভি-
সংকলনে -বাংলা খবর পত্রিকা /banglakhaborpatrika








