আজঃ মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল, ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধকে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সমালোচনা করে বলেন, কিছু লেখক ভুলভাবে ইতিহাস উপস্থাপন করছেন। মুক্তিযুদ্ধকে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। এটি ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতার জন্য ছিল না, বরং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠের বই মেলা মঞ্চে স্বাধীনতা বই মেলার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ১৯ দিন ব্যাপি বই মেলার ৮ম দিনে “দলীয়করণের উর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা সকলের নৈতিক দায়িত্ব” শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন, অথচ নির্যাতনের মুখেও তাদের অবস্থান শত্রুপক্ষকে জানাননি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তারাই।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। সংবিধানে নাগরিকদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত দুর্বলতা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ এখনো তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত নয়, বরং কাঠামোগত সমস্যা। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শাসন কাঠামো পরিবর্তন ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন। কিন্তু আমরা সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। এখন সময় এসেছে নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই আদর্শে ফিরে যাওয়ার।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হলে ভালো মানুষ হতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন জরুরি।

অনুষ্ঠানে বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী ডা. শর্মিলা বড়ুয়া ও মোস্তফা কামাল গান পরিবেশন করেন এবং চসিকের কাট্টলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, বলুয়ার দিঘি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং হোসেন আহমদ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রামের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী হোসেন আহামদ, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল বারিক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন টিভি ও বেতারের আবৃতি শিল্পী রিনিক মুন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চসিক মেয়রের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত নিজহাতে সরালেন নিজের ছবিসহ ব্যানার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বুধবার দুপুরে নগরের চকবাজার অলিখাঁ মসজিদ মোড় থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মেয়র নিজের ছবি সম্বলিত একাধিক ব্যানার নিজহাতে সরিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর এ পদক্ষেপ উপস্থিত জনসাধারণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে এবং নগর ব্যবস্থাপনায় সমতা ও আইনের প্রয়োগের বার্তা দেয়। অভিযান চলাকালে সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনায় টাঙানো অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার সরানো হয়।
মেয়র বলেন, নগরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অবৈধ কোনো বিলবোর্ড বা ব্যানার সহ্য করা হবে না। আইন সবার জন্য সমান-আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। নগরকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন রাখতে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।

অভিযানের সময় ফুটপাত দখল করে ব্যবসায়িক পণ্য রাখার অভিযোগে দোকান মালিকদের সতর্ক করা হয়। মেয়র নিজে হেঁটে বিভিন্ন দোকানের সামনে গিয়ে ফুটপাত থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। মেয়র বলেন, ফুটপাত পথচারীদের জন্য এটি দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরে ভূয়া নথিপত্র দিয়ে পাচারের চেষ্টায় কন্টেইনার জব্দ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভূয়া নথিপত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার পাচারের চেষ্টাকালে জব্দ করা হয়। কন্টেইনারটির এজেন্ট কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স, রোটেশন নম্বর-২৫/৩৮৭১, ভেসেল-স্বদেশী চিটাগাং, আমদানীকারক-ফাহিম এটেয়ার এন্ড কম্পোজিট লিমিটেড বলে জানা গেছে।

বুধবার চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কন্টেইনারটি পাচারের উদ্দেশ্যে জে এস ইন্টারন্যাশানাল সিএন্ডএফ এজেন্ট এর একটি ভূয়া অন-চেসিস অনুমতিপত্র, চালান এবং গেইট পাস ব্যবহার করে এনসিটি ব্যাকআপ ইয়ার্ড থেকে ট্রেইলার নম্বর-চট্টমেট্রো-ঢ-৮১-২৩৬৪ এ লোড করে সিপিএআর গেইট ব্যবহার করে আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৪টায় কন্টেইনারটি বের করা হয়। গোপন খবরের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে এবং এক পর্যায়ে কন্টেইনারটির অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে কন্টেইনারটিসহ উক্ত ট্রেইলারটি বারনীঘাট, হালিশহর, শাহজালাল ট্রাক টার্মিনালের পাশে, বিএমডি সাইফুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামক একটি গ্যারেজে হতে বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ২৩.৩০ ঘটিকায় ট্রেইলারসহ কন্টেইনারটি আটক করা হয়। এ সময় কন্টেইনারটি পাচারের সাথে জড়িতরা পালিয়ে যায়। এদিকে এ বিষয়ে দায়ী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বন্দর থানায় মামলা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি পাচ্ছে ৩৬,জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট -১৩,স্বতন্ত্র -১।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্বাচন কমিশন (ইসি)জানিয়েছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি জোট পাচ্ছে ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা একত্র হয়ে একটি আসন পেয়েছেন।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য
সোমবার (৬ এপ্রিল) কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান।তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
ইসির সূত্র অনুযায়ী, আসন বণ্টনে জোটগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিএনপির সঙ্গে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলেই বড় অংশ পেয়েছে। অপরদিকে জামায়াতের সঙ্গেও রয়েছে কয়েকটি সহযোগী দল, যাদের সমন্বয়েই তাদের প্রাপ্ত আসন নির্ধারিত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জোট গঠন করে একটি আসন নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ