আজঃ বুধবার ৮ জুলাই, ২০২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, নিম্মাঞ্চল প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটানা অতি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং নদীর জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রাম মহানগরের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে মহানগরের বিভিন্ন সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল এবং কমে গেছে গণপরিবহনের সংখ্যা।

এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গন্তব্যস্থলে যেতে বাধ্য হওয়া চাকরিজীবী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ। মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম। চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

এতে নগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা, পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, পাহাড়ধসের ঝুঁকিসহ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করা হয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কেন্দ্র। নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চকবাজার, বাদুরতলা, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মৌলভীপুকুরপাড়, সিডিএ আবাসিক এলাকা, দুই নম্বর গেট, হালিশহরের কে ও এল ব্লক, রামপুর, বাটালি রোড এবং সিঅ্যান্ডবি এলাকাসহ নগরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়েছে।ইশান মহাজন সড়কে একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পতেঙ্গা এলাকায় অতিবৃষ্টিতে সিবিচ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও ফেনীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করছে।

নিম্নচাপজনিত বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীন ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ছয়টি কিন্ডারগার্টেনসহ নগরের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরে সুবিধাজনক সময়ে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। সকাল ৮টার মধ্যেই সব প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই কারণে পরীক্ষা স্থগিত করেছে নগরের স্যার মরিস ব্রাউন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং নন্দনকাননের ফুলকি সহজ পাঠ বিদ্যালয়ও।

স্যার মরিস ব্রাউন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুজহাত নাঈম সিদ্দিকী জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া বিবেচনা করে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এবং দশম শ্রেণির ‘ইংরেজি প্রথম পত্র’ পরীক্ষা নেয়া হয়।

অভিভাবকদের তীব্র আপত্তির পর শেষ পর্যন্ত দুপুর ১টা থেকে অনুষ্ঠিতব্য ষষ্ঠ শ্রেণির ‘ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র’ এবং নবম শ্রেণির ‘ইংরেজি প্রথম পত্র’ পরীক্ষা স্থগিত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে আসা এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, জলাবদ্ধতা ও ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই সন্তানকে নিয়ে যেতে হয়েছে স্কুলে। পথে বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি থাকায় পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ।
তার ভাষ্য, সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল আমিন স্বীকার করেছেন, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এর মধ্যেই অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে পৌঁছে যাওয়ায় সকালের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে বিকেলের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তার দাবি, সকালের পরীক্ষায় প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেছেন, এটি কোনো পাবলিক পরীক্ষা নয়। তাই আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে। অনুকূল পরিবেশ না থাকলে পরীক্ষা স্থগিত করে পরে সুবিধাজনক সময়ে নেওয়াই নিয়ম।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও আছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রামের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অন্যতম জটিল ও পাইলট প্রকল্পের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টির মধ্যে পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ এবং হিজড়া খালের কাজ ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ার রাজাখালী আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন। তাঁর দাবি, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে প্রকল্প এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতার অবসান হবে।

ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন বলেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ জন্য এক থেকে দুই বছর যৌথভাবে কাজ করে সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে। এসময় খাল ও ড্রেনে প্লাস্টিকসহ যেকোনো বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাজ সেনাবাহিনী বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের উন্নয়ন, ১৬৩ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ১১৪টি ব্রিজ কালভার্ট, ৬টি রেগুলেটর, ২১টি সিল্ট ট্র্যাপ, নতুন খাল খনন, ড্রেন সম্প্রসারণ এবং সড়ক নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক জানান, ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।

বাকি পাঁচটি খালের কাজ ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হলেও আগাম বর্ষার কারণে কিছু ফিনিশিং কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। অন্যদিকে হিজড়া খালের কাজের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। বর্ষা মৌসুমে খননকাজ চালালে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে পুনরায় কাজ শুরু করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট রিটেইনিং ওয়াল, ব্রিজ এবং তিনটি সিল্ট ট্র্যাপের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হিজড়া খালের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার থেকে বাড়িয়ে নয় মিটার এবং গভীরতা আড়াই মিটার থেকে চার থেকে ছয় মিটার করা হচ্ছে। এ জন্য ১২৭টি স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ১২০টি ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই বাকি স্থাপনাগুলো অপসারণের আশা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। কাজ শেষ হলে ইজরা খাল-সংলগ্ন এলাকায় অতিবৃষ্টিতেও আর জলাবদ্ধতা হবে না বলে দাবি করা হয়।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের প্রসঙ্গ তুলে কর্নেল মহসিন বলেন, ৫ জুলাই থেকে মঙ্গলবার সকাল ১২টা পর্যন্ত পতেঙ্গা ও আমবাগান আবহাওয়া উপকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ৫৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৯৮৩ সালে সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। প্রকল্পটি ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের হিসাব ধরে ডিজাইন করা হলেও এবারের বৃষ্টিপাত প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল।

তারপরও অধিকাংশ এলাকায় পানি দ্রুত নেমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবর্তক মোড়ে কাজ বন্ধ করে খাল পরিষ্কার করার পর সেখানে আর পানি জমেনি। তবে একই খালের কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, মুরাদপুর বাসস্ট্যান্ডসহ কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে দুই থেকে আড়াই ফুট পানি উঠেছিল। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই সেসব এলাকার পানি নেমে যায়। এটিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নয়, বরং অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সাময়িক ‘ফ্ল্যাশ ওয়াটার’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে কর্নেল মহসিন জানান, ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম নগরে ১২১টি জলাবদ্ধতার স্থান ছিল, যেখানে পানি নামতে ৩৫ থেকে ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগত। প্রকল্পের অগ্রগতির ফলে ২০২৪ সালে তা কমে ৬১টিতে এবং ২০২৫ সালের শেষে ১৭টিতে নেমে আসে। বর্তমানে ওই ১৭টি স্থানের মধ্যে মাত্র চার থেকে পাঁচটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, গত ২৮ এপ্রিলের পর আজকের দিনের আগে কেবল তিনটি স্থানে কাপাসগোলা ব্রিজের দুই পাশ, কাতালগঞ্জের নবপণ্ডিত বৌদ্ধবিহার এলাকা এবং জাতিসংঘ পার্কসংলগ্ন এলাকায়—সাময়িক পানি জমেছিল। কাপাসগোলা এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণ এবং বৌদ্ধবিহার ও কাতালগঞ্জ এলাকায় সড়ক দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু করার সুপারিশ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এসব কাজ সম্পন্ন করলে ওই এলাকাগুলোতেও জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পুরোনো নগরের ভেতরে দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার, জমি অধিগ্রহণ, স্থাপনা অপসারণ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছে। এসব বাস্তবতা প্রকল্প শুরুর সময় পুরোপুরি বিবেচনায় ছিল না। পরে সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে ধাপে ধাপে কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। পাহাড়ধসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান না করেন। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বর্ষাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। নগরবাসীর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এ সময় মেয়র নগরবাসীর প্রতি পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নির্মাণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ